[ 'অন্য নিষাদে'র এই সংখ্যাটি সাধারণ সংখ্যা রূপেই প্রকাশিত হ'ল । আগামী কাল ১৫ই আগষ্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবস । 'স্বাধীনতা' এই শব্দটির আবেগ স্পর্শ করা চারটি কবিতা প্রকাশ করে এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করলাম । ]


                ধর্ষক 


ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়

আজ থেকে বন্ধ হোক 
নারীর জন্ম

কাপুরুষেরা ঘুরে বেড়াক
হিংস্র শ্বাপদের মত 

রাস্তার মোড়ে মোড়ে 
শ্মশানে , সৈকতে
মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাক পুরুষ যৌবন 
ভোরবেলা ফেলে দিক
রাস্তার ওপরে, 
করুক ধর্ষণ... 

কার কোলে জন্ম নাও পুরুষ 
আয়নায় নিজের মুখ দেখ
ধর্ষিতা নারীর রক্ত লেগে আছে গালে

একবার দেখ চেষ্টা করে
যদি পারো জন্ম দিতে ধর্ষিতা নারীরে...

[ ৭ আগষ্টের 'কবি প্রণাম' সংখ্যার জন্য নির্বাচিত দুটি কবিতা ভুলক্রমে প্রকাশ করা যায় নি । সেই কবিতা দুটি এই সংখ্যায় সংযুক্ত করলাম ] 

তোমাতেই বাঁচি / সৌমিত্র চক্রবর্তী

শ্বাপদের দাঁত চিরে দেয় রাত্রির জঙ্ঘা।
দ্রুত এগিয়ে আসছে রক্তলোলুপ ভবিতব্য,
ছড়িয়ে ছিটিয়ে সান্ধ্য মজলিশে নরক গুলজার।

মানুষের রক্ষাকবচ তোমার অনন্তপ্রসারী স্বরের বলয়।
একের পর এক নিশিত অস্ত্র আছড়ায়,
তবু বলয়েই জন্ম নেয় হাসিমুখ শিশু।

তোমার অফুরান সৃষ্টি নিয়ে ওরা লোফালুফি করে।
দিনান্তে নন্দিনীর ব্যর্থ প্রশ্ন ফিরে আসে নিরুত্তর,
তস্করের প্রবৃত্তি লালসার শিকার আলোক দিশার গান।

ক্রমশই হাঁটি রুক্ষ শুষ্ক দধিচীর পথে তোমারই আলোয়।
তবু তোমাতেই আহরণ করি রস, রবীন্দ্রনাথ,
তবু তোমার আদিগন্ত ছায়াতেই বেঁচে আছি।

অবিশ্বাস বেড়ালের নুপূর / কচি রেজা


প্রতিদিন যে আগুন প্রদক্ষিণ করি তাকে প্রশ্ন করেছি,যখন আমার আঙুল থেকে
ধুয়ে ফেলেছি আগুন তখন কেন জ্বলে উঠেছ? আর খেরো খাতায় বছরের পর বছর
যে নীল হিসেব আমি জমা রাখি,সে অন্ধকার তুমি পড়তে পারো নি,অন্ধ?
এখন কোষ্ঠী হারানো ক্ষতে ভুল করে তক্ষক ডেকে ঊঠলে নুপূরগুলো খুলে খুলে যায়

দুপুর হারানো বালিকার শরীর অবশেষে বিতর্কিত দর্শন?

জীবনভর কিছু অপরাধ মানুষ ই করে,আমিও পার হয়ে আসি ঝড়-জল মাপা আঙুল
এখন ছায়ারা অপেক্ষা করে না,আমিও মনোনিবেশ করি বিস্ময়ে, যমুনায় সর্বনাশ বেজে ঊঠলে রাত্রির শরীরে কবে জন্মেছল এত নুন?

আর ও একবার দেখতে ইচ্ছে করে শেকড়ে বেড়ে ওঠা তক্ষক,ছায়া অংকুরিত হয়েছে কতোটা,
টেবিলে আনমনা পড়ে থাকে দুটি মাত্র হাত,জানতে ইচ্ছে করে,এখন তুমি রবীন্দ্রনাথ পড়ো না পড়াও?

                      আমি ও আমার স্বাধীনতা
অভিলাষা দাশগুপ্তা আদক
ফড়িং ওড়ে ঘাসে ঘাসে
আমার কাছে স্বাধীনতা,
ফুলের বুকে তিতলী হাঁটে, আমার কাছে স্বাধীনতা,
উড়ছে পাখী নীল আকাশে, আমার কাছে স্বাধীনতা,
দুলছে গাছে নতুন কুঁড়ি, আমার কাছে স্বাধীনতা।

ঝান্ডা হতে যাচ্ছে মিছিল, আমার কাছে স্বাধীনতা,
রেড রোডেতে হচ্ছে প্যারেড, আমার কাছে স্বাধীনতা,
স্কুলের মাঠে তেরঙ্গার উড়ান, আমার কাছে স্বাধীনতা,
দেশপ্রেমে কান ফাটছেআমার কাছে স্বাধীনতা।

স্কুলের শেষে আড্ডাবাজি, ফুচকা খাওয়া
আমার কাছ স্বাধীনতা,
আজকে ছুটী পড়বো না আর, আমার কাছে স্বাধীনতা,
দুদ্দাড় দৌড় বৃষ্টি মাথায়, খোলা মাঠে, আমার কাছে স্বাধীনতা,
চোখ মিলতেই বুকের মাঝে ঢাকের বাদন
আমার কাছে স্বাধীনতা।

মায়ের হাসি, বাবার আদর, বোনের স্নেহ
আমার কাছে স্বাধীনতা।।





  স্বাধীনতা
মৌ দাশগুপ্তা


স্বাধীনতা ইচ্ছেপাখী, দূর আকাশের চাঁদ.
গল্পকথায় ভুলিয়ে রাখি,কথায় পাতি ফাঁদ।
নীরব শেষ রাত্রির চাঁদের আলোয়
তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........।

স্বাধীনতা মন ময়ূরের পেখম-তোলা নাচ,
হাতের মুঠোয় সুখ নামের সেই ঝাড়বাতি ভাঙ্গা কাঁচ।
ঝাড়বাতির আলোয় এ স্বার্থপর পৃথিবীর আকাশ পাতাল এক করে
তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........।

স্বাধীনতা আমার কাছে আলোময় নীল ভোর ,
ইচ্ছেমত একলা ভেজা বৃষ্টিতে ঘনঘোর।
চোখে অঝোর বৃষ্টির মাঝে মনে জমে থাকা জলবিন্দুর মধ্যে
তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........।

স্বাধীনতা মুক্তদানা,বেদনার নোনাজলে,
না ভোলা যত শহীদের স্মৃতি,অতীতের যাঁতাকলে
যেখানে শহিদ বেদীতে চোখের জল ঢালছে রক্ত গোলাপ, সেখানেও
তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........।

স্বাধীনতা বড্ড একা, জীবনের কোলাহলে,
নিজেই আমি ধন্দে থাকি,স্বাধীনতা কাকে বলে?”
গল্পে,কবিতায়,মহাকাব্যে, অভিধানে,মহাপুরুষের জীবনীতে
তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........
স্বাধীনতা মানে ছুটির আমেজে স্কুল পড়ুয়া বাচ্চা,
ঈথারে ভাসছে গানের সুরসারে জাঁহাসে আচ্ছা” “
'রঙ্গীন ,সুরেলা' বিজ্ঞাপনে,গানে, ঝকঝকে বর্ণিল সাইনবোর্ডে,

তোমাকে খুঁজেছিলাম স্বাধীনতা ,
পাইনি ........।

সুখ দুঃখের ক্যানভাসেতে কিম্বা মনের খাতায়,
মেলছে ডানা স্বাধীনতা, বারোমেসে রূপকথায়।
বিষণ্ণ জীবনের গোধূলীতে,হেমলকের পূর্ণপাত্রে ঠোঁট ছোয়াবো কি ছোঁয়াবোনা
ভাবতে ভাবতে তোমাকে নিজের করে পেয়েছিলাম স্বাধীনতা, 
কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি ........।



   স্বাধীনতা
  সুব্রত দেবনাথ

  খোলা আকাশে স্বাধীন, উড়ন্ত পাখিরা,
  বায়বীয় প্রবাহ বাতাসে ৷
  নদীর স্রোত বয়ে যায় আপন মনে,
  আমি খুঁজি স্বাধীনতার মানে ৷

  যেভাবে বর্ষাতে বৃষ্টি স্বাধীন, শরতে সাদা মেঘ ;
  রঙ তুলির ক্যানভাসে শিল্পী স্বাধীন, ইচ্ছেরা ভাবনাতে ৷

  সারাদিন পথ হেঁটে, ক্লান্ত পথিক,
  ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে সন্ধ্যা নামে ঠিক ;
  অন্ধকার স্বাধীন রাত-প্রহরে...
  ভোরের নতুন আলোয়, স্বচ্ছ চারদিক ।

  জয়ের পতাকা উচ্ছসিত, দুলছে হাওয়ায়,
  পরাজয়ের পতাকা নমনীয়, মাটিতে তার ঠায় ৷
  রক্তমাখা শরীর, ক্ষতবিক্ষত
  যন্ত্রনা ভুলা যায়, মুক্তির স্বাধীনতায় !

   স্বাধীনতা ২০১২
   মানস বিশ্বাস

   স্বাধীনতা পেয়ে আজি কে বাঁচিতে চায় রে,
   কে বাঁচিতে চায়!
   দাসত্ব শৃঙ্খল ছিল ভালো মোদের পায়ে রে
     ভালো মোদের পা’য়!
   দূর্নীতির যাঁতাকলে বেঁচে থাকা দায় রে,
   বেঁচে থাকা দায়!
   রক্ষক ছিল যারা, তারা ঘুষ খায় রে,
   তারা ঘুষ খায়!
   অপরাধী ছাড়া পায়, সাধু সাজা পায় রে,
                        সাধু সাজা পায়!
   স্বাধীন দেশেতে সবে করে হায় হায় রে,
                        করে হায় হায়।।

অনিমিখ :সাঁঝবাতির স্বাধীনতা

রাজর্ষি ঘোষ



আমাদের সাঁঝবাতি নিভু নিভু হলে ওরা ধীর পায়ে ফিরে যাবে হাজার বছর। যেখানে এক সহস্রাব্দের পারে গঙ্গার ঘোলা জল এসে বাসা বাঁধে শালিখের চোখে, অনিমিখ। ওরাও মুক্তো ছিল কোন এক আদিম অরণ্যে। বিষুব সমুদ্র তাজা শ্বাস ওদেরও নীল রক্তে তুফান টেনে বলেছিল তবে ফিরে আয়, ফিরে আয় এই ধুলো মাখা পথে, সোনাঝুরি রঙে ঢাকা আমাদের পাতার কুটিরে। আসে নি; যদিও, ধূমকেতুর মত একে একে উড়ে আসে সময়, অসময়, বিধবার বুকের কাপড়, এবং... এবং, সাড়ি সাড়ি সহস্র লজ্জা। মুখ ঢাকছ? এখানে, জাহান্নমে লজ্জা বিকোয় সস্তা দরে।



আমাদের সাঁঝবাতিরাও অনেক গোপন কথা বলে। শহরের বিষাক্ত রাত দলছুট কান্নার মত, নাভিছেঁড়া, গতিহীন গর্ভকেশর দাবী করে বোলতার বিষ ও মরণ-যন্ত্রণাকারণ, কামড় ভিন্ন আমাদের স্বর্গ নেই, নরকও নেই কোন। হেমলক ভরা দাঁতে তাই পরাগ ঢেলে দেব তোমাদের রূপসী গভীরে। একে একে ছড়িয়ে পড়বে কলঙ্ক, টুকরো টুকরো মেঘ। গোত্রহীন অনেক দিন বড় হয়েছে বস্তির দশভূজা। এবার বেশ কিছু ছিন্ন ছিন্ন টুপ টুপ ঝরে গেছে আগমনী। ওদের সোঁদা সোঁদা ছোট কাপড়ে ড্যাবড্যাবে চেয়ে থাকবে অনুশোচনা, ঋতুহীন যৌনতা। এবং, এবং ওরাও স্বাধীন।

আমাদের সাঁঝবাতি স্বাধীনতা দাবী করে। দাবী করে অক্লান্ত সময় ও বছরখানিক প্রেম। তারপর সংসার, দক্ষিণের বারান্দা। খোপ খোপ ধূপছায়া, ঘুলঘলি ও নিরাপদ রাতের কাহিনী। একটি নাম না জানা চাঁদ মন ভুলে মাঝরাতে হেঁটে গেলে রাজপথ থোক থোক তারাদের সংসার যেখানে হেসে উঠে ছড়িয়ে দেবে একমুঠো দোয়েলের শিষ। এক ফোঁটা দু ফোঁটা করে বৃষ্টি নামবে। টিপ্‌টিপ্‌... রুমঝুম... ঝম্‌ঝম্‌... আর তারপর, তারও পর, হাস্যকর, ভিক্ষায় পাওয়া ওই মিথ্যা প্রতিশ্রুতির দিনটা এলে ওরা লাস্যময়ী টোল পড়া গালে হেসে বলবে, বন্দেমাতরম্‌
উফ, সাঁঝবাতি তোদেরও মরণ হয় না। 

      
মাতাল / সপ্তাশ্ব ভৌমিক

  অনেক্ষণ অপেক্ষাতে থেকে
  পড়ে নিলাম উপেক্ষার ভাষা
  সুখের সঙ্গে সখের এখন আড়ি
  পেন্ডুলামে দুলছে ভালোবাসা ,

  অথচ কী গভীর প্রত্যয়ে 
  পুঁতেছিলাম দখলদারীর নিশান
  এখন শুধু আগাছাদের ভিড়
  লুকিয়ে থাকি লাঙ্গলবিহীন কিষাণ ।

  বছর আসে বছর চলে যায় 
  অফলা থাকে ফসলের মরসুম
  ক্রমাগত ক্ষতির হিসেব কষে
  আঁকড়ে ধরি তপ্ত-তরল ঘুম ।
        
আমার সুন্দর আজও তোমাকেই / রহমান হেনরী


বয়স হয়েছে
, আজ
    
বিশ্রাম প্রয়োজন আছে।
    
নির্ঘুমে তো অনেক বছর কেটে গেল,
    
নিদ্রার প্রয়োজন আছে।

এ-শহরে আমি কিছু লাগাতার শুক্রবার চাই।

     
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঝাণ্ডা-ওড়ানো গাড়ি
     
আমার তো দরকার নেই!
     
খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে যাবো__
     
সব রাস্তা যেখানে মিলেছে, সেই আরাফাতে,
     
রৌদ্রে ও বৃষ্টিতে দাঁড়াবো;
     
সমস্ত সড়ক থেকে স্বচালিত যানে শুধু
     
তুমি একা ছুটে আসছো__
     
এই অতিবাস্তবতা আবারও চাক্ষুষে চাই;
     
এই দৃশ্য প্রয়োজন আছে।

এ-শহরে আরও একবার শুধু তোমাকেই চাই
    
আমার সুন্দর,
     
আমি আজও তোমাকেই চাই, শোনো, সুনীল হরিণী!

ফাৎনা / শেখর কর

ছিপ ফেলে বসে থাকি
বকের অনন্ত প্রতীক্ষায়
গভীরের পারে
চোখ রাখি ফাৎনায় ।
রূপালি ঝলক ধরা দেবে
কোন অলীক লহমায়
তোমাকে দিয়ে যাবো তাই
বসে আছি ঠায় ।
অলস দুপুর থেকে
নির্জন এই শঙ্খ সন্ধ্যায়
চেয়ে থাকি অথৈ জলে
ফাৎনা ডোবার আশায় ।

ইহজন্ম-পরজন্ম 
অদিতি চক্রবর্তী


আমার খাবার টেবিলে  মাংস, বিরিয়ানি,
আরো অনেকের  ক্ষুধার মৌতাত |
রেফ্রিজারেটর এ ‘হট চকোলেট’
মোড়কে জড়ানো যক্ষার কাশি,কচি আধপোড়া হাত |
ক্ষুধা জোড়হাতে চোখমেলা কাঁদছে, লালা ঝরছে |
ফিরিয়ে দিয়েছে পাকানো দড়ি ...
কীটনাশক ও তথৈবচ ...
একি ! ক্ষুধা যৌনরোগের মত দ্রুত ছড়াচ্ছে !
ক্রমাগত চোখ, হাত থেকে চোসকমূল  বেরুচ্ছে
ঢুকে যাচ্ছে আমার অস্থি মজ্জার ভিতর |
ক্ষুধা হট চকোলেট খাবে?
দুনিয়ার সামনে বদখত ন্যাংট হচ্ছি আমি
ঝরে যাচ্ছে আমার অংশ...
আজকে আমার টেবিল -  বিরিয়ানি
ক্ষুধা খাচ্ছে  আমার মাংস |
উপোসী আদরে কৃষ্ণচূড়া কান্না ফোটে-ঝরে
অনেককালের ইহজন্ম থরে-থরে পরজন্ম পরে |

মাটির দেশের মেয়ে / ইন্দ্রাণী সরকার

ধানসিঁড়ি নদীর তীরে বসে ছিল সেই মেয়ে 
পরনে হলুদ ডোরাকাটা শাড়ি 
মাথায় হলুদ গাঁদার ফুল 
বেনীতে জড়ানো রজনীগন্ধার মালা 
গলায় একছড়া মুক্তোর মালা |

চাঁপার কলির মত আঙুল দিয়ে সে
একটা ফুলের মালা বানাচ্ছিল 
তার পুতুল মেয়ের বিয়ের জন্য |

তার সোনার বরণ দেখে মেঘেরা 
তাকে মেঘবালিকা ভেবে ভুল করল |

তারা নীচে নেমে এলো মেয়েটির পাশে 
বললো ---ওগো মেঘবালিকা তোমার 
জন্য আমরা কি এনেছি বলত ?
সে অবাক হয়ে তার হরিনীর মত 
চোখ দুটি তুলে বললো---কি?

মেঘেরা তখন তাকে রামধনু রঙ পশম,
চাঁদনী রঙের শাড়ি আর 
তারা বসানো গলার মালা দিল |
মেঘেরা বললো---যাবে মেয়ে 
আমাদের দেশে ?
সেথায় খুব মজা |
চাঁদের পরীরা একটা রানী খুঁজছে 
তুমি কি ওদের রানী হবে?

মেয়েটা ভাবল অনেকক্ষণ .....
তারপর বললো ....
না গো আমি ত' মেঘবালিকা নই ...
আমি মাটির মানুষ....
এই মালাটি গাঁথছি আমার
পুতুল মেয়ের বিয়ের জন্য |

মেঘেরা বললো---ঠিক আছে 
তুমি ওই পশম দিয়ে জামা বুনো 
শাড়িটা আর তারার মালাটা তোমার |

মেয়েটি ভীষণ খুশি হয়ে তার গলার
মুক্তোর মালা খুলে
মেঘেদের দিয়ে দিলো আর 
বললো----যখন চাঁদপরীরা 
ওদের রানী খুঁজে পাবে তখন
তাকে এই মালাটি পড়িয়ে দিও 
আর বলো, মাটির দেশের মেয়ে 
বলেছে----সে এক দিন তাদের 
দেশে বেড়াতে যাবে ...
কথা দিয়েছে ||

   কেমন আছ প্রিয়ন্তীকা ?
   রেজওয়ান তানিম

নিঃসীম সমুদ্র তট-
একা আমি দাড়িয়ে । হাতে বেনসনের সিগারেট;
আমার একাকীত্বের সাথী, আমার প্রেমিকা!
অবাক লাগছে ? অথচ জানো আমার কিন্তু
ভীষণ ভালো লাগছে ভাবতে- ওই যে
প্রতিটা ঢেউ ছুটে আসে নিয়ত,
কূলের কাছে, জড়িয়ে ধরে চুমু খায়;
আর আমি তখন-
চুম্বন স্পর্শ, খুঁজে নেই সুখ শলাকায় ।

প্রিয়ন্তী,আসবার কথা ছিল না তোমার?
এই সাগর সঙ্গমে,আমায় নিয়ে!
তুমি কী এসেছ আজ?
অন্য কারও দেহে,নিজের আদরটুকু বিলিয়ে দিয়ে !
নাকি তুমি ,সামনে ছড়িয়ে দেয়া-
ওই ধোঁয়াশায় মিলিয়ে গেছ, নিজেরই মত করে।

প্রিয়ন্তীকা! হয়ত ভালবাসতাম তোমায়,আগে-
চাইতাম বেলাভূমে কুড়াবো নুড়ি!
তবে এখন আর চাইনা তোমায়।
এখন আমি পেয়েছি সঙ্গী, আমরণ বন্ধুতা!
কেমন বাধ্যগত- মরতে চাইলেও
বাঁধা দেবে না।

প্রিয়ন্তীকা, মনে পড়ে তোমার-
নীরব জোছনাহীন সন্ধ্যা কত
কেটেছে তোমার সাথে,হৃদয়ের লেনদেনে-
ঠুনকো আড্ডায়, কিংবা
তোমার আবেগ ঝরা অধর মিলনে।
এখন, এসবের কোন দরকার পড়ে না!
এখন আমার কত প্রেমিকা!
চাইলেই চলে আসে রাতের আকর্ষণ -
নেশা ধরা রাঙা স্কচ্ ।
যে সুধা পাত্রে তাকালেই মনে হয়-
লাল আভায় ছাওয়া তোমার ঠেঁট!
আমি এক মনে পান করি;
তোমার মেখে দেয়া বিষাক্ত ওষ্ঠসুধা।
ওফ্! কী প্রবল আনন্দ, কী অসীম প্রাবল্য
তার ভালবাসায়; মাথায় তোলে
মত্ততার ঝড়-দুরন্ত সাইক্লোন, তপ্ত আগুন
জ্বালিয়ে আমায় করে অঙ্গার!
তুমি! এত ভালবাসা জানতে না মেয়ে।


প্রিয়ন্তীকা, আমি ভালো আছি
অনেক, অনেক ভালো।
মাঝে মাঝে এখন,আকাশের তারাদের-
খুব আপন মনে হয়;
চলে যেতে ইচ্ছে হয়, ওদের কাছে।
হয়ত ওরাও আমার মত একাকী বলে!!
আমি ভালই আছি । তুমি?
কেমন আছ প্রিয়ন্তীকা ?


মুখোশ
সুবীর সরকার 




রাবার ব্যান্ড লাগানো মুখোশ
হাতে হাতে ঘুরছে রেকর্ডেড
ভয়েস
শব্দ করে উড়িয়ে দেওয়া হয়
পাখিদের 
পাথরে ধাক্কা খেয়ে নবীকৃত
ফরচুন টেলিং ... ।

           বন্ধু মানে ….


সঙ্ঘমিত্রা ভাদুড়ী   

বন্ধু মানে উজান স্রোতে সোনার তরী বওয়া
মন খারাপের অন্ধকারে একটু খুশির হাওয়া
বন্ধু মানে হৃদয় জুড়ে ভালোবাসার সুর
বৃষ্টিভেজা উদাস চোখে সোনালি রদ্দুর
বন্ধু মানে লুকোচুরি বন্ধু মানে রাগ
বন্ধু মানে খেলার ছলে ভালোবাসার দাগ
বন্ধু মানে স্বপ্ন কেবল মিষ্টি একটা প্রেম
বন্ধু মানে সৃষ্টঘেরা ছোট্ট একটা ফ্রেম ।
                                          








4 মন্তব্য(গুলি):

pijushkanti das বলেছেন...

অনবদ্য সব কবিতা ।
মন ভরে যায় যতোবার পড়ি ॥

pijushkanti das বলেছেন...

"ইচ্ছে "
----------------------------------------------------------
পীযূষ কান্তি দাস
----------------------------------------------------------
যাচ্ছি পথে উদাস মনে হঠাত্ ডাক
চমকে ঘুরি পেছন পানে কোথায় কে ,
জানতো যেজন বলেছিলো," গোপন থাক "
তবে আমায় এ নাম ধরে কে ডাকে ?

ডাকার লোককে হারিয়েছি বিশটি সাল
পাগলসম ঘুরছি কেবল দিক -বিদিক ,
খোলেনি তো এ যে ভীষণ উর্ণাজাল
বুঝিনি হায় আজও কে ভুল কে যে ঠিক ॥

জীবনটা আজ ছন্নছাড়া কার দোষে
একটুখানি দেয়ওনি কেউ সান্ত্বনা ,
সন্ধ্যেবেলাই 'ছাইপাঁশ' নিয়ে যাই বসে
বোঝেনা কেউ কি যে আমার যন্ত্রণা ॥

দিনে দিনে ফুরোচ্ছে দিন বুঝছি বেশ
যন্ত্রণা হয় বুকে -পেটে এখন খুব ,
হাসির মাঝেই লুকাই আমি কাঁদার রেশ
ইচ্ছে জাগে হঠাত্ করে দিই তো ডুব ॥

pijushkanti das বলেছেন...

অনবদ্য সব কবিতা ।
মন ভরে যায় যতোবার পড়ি ॥

Kartick Sarkar বলেছেন...

অপূর্ব সব লেখা গুলিই.....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About