নো-ম্যান

ইচ্ছে হলেও বলতে পারিনে
‘মনে হয় গিয়ে ছুঁয়ে দেই
অথবা জাপটে ধরি
মন যেমন চায়’--   
অথচ আমিও স্বাধীন !  
ওদিকে আমাকে উপেক্ষা করে
সে তার অফুরন্ত খিধে আর স্বাধীনতার দৃষ্টিতে  
সারা আকাশটা অধিকার করে আছে ।

তার হিসেবের ঘর বাঁধবার ঝক্কি নেই,    
তিনবেলা ভালবাসার ঘট-বর্তনে ঠোকাঠুকি নেই,   
ইঙ্ক্রিমেন্ট থেকে এরিয়ার
জল-কল-রেশন-বাজার-থানা বা ক্লাবের
দায় দায়িত্ব নেই, 
বাসস্ট্যান্ডের পিপীলিকা পংক্তির উদ্বেগ নেই  
ছুট-ছুট ট্রেনের হাতলে  
বাদুড়-ঝুল প্রশান্তি নেই
অথবা অফিসের ইঁদুর দৌড় ট্র্যাকে অবক্ষয়ের উদাসীনতা ।

কোন এক ‘টুকী— র‘ অপেক্ষায়
মজে যাওয়া কালভার্টে বাসাহীন বাসার ছাদ জুড়ে
সারাদিন বিনে পয়সার স্বপ্ন  
আর আঁধার নামতেই দু’চোখ জুড়ে অকাতর ঘুম ।  

নাবালক পৃথিবীটা লুকোচুরি খেলতে খেলতে
মাঝপথে আব্বুলিস করে চলে গেছে
তার পর এক দিকে গজিয়ে উঠেছে নল খাগড়ার বন
অন্য দিকে বহুতল ওনারশিপ  
মাঝ খানে মজে যাওয়া কালভার্টটা
অনন্ত কালের নো-ম্যান্স্‌-ল্যান্ড
আর সে  
নির্বাচন অথবা রেশন অফিসের   
শ্যেন দৃষ্টির এক্তিয়ারহীন পরিত্যক্ত পৃথিবীর সার্বভৌম  
নো-ম্যান ।

পরিচয়ঃ নোম্যান  
ঠিকানাঃ নোম্যান্স ল্যান্ড।


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About