নীল জোসনায় বন্ধুর বিদায়

হারিয়ে গিয়েছে কোথায়,তোর আমার
স্বেচ্ছা সাম্রাজ্য-ওই কৈশোরের
দিন ছিল কী উচ্ছল আনন্দের
যেন মাটির ব্যাংক ভেঙে বেরিয়ে আসা
ঝকঝকে ধাতব পাঁচ টাকার মুদ্রা।
গঙ্গা ফড়িং এর পিছে
দৌড়াতে, দৌড়াতে, দৌড়াতে কোথায়
হারিয়ে গেলো তোর আমার
দুরন্ত কৈশোর
দিবাকর?
তোর হয়তো মনে আছে,বিদ্যালয়ের
মাঠের সেই নিম গাছের কথা-
যেখানে ঘন্টা ঝুলিয়ে রাখা হতো।
ঢং ঢং
আহা!
আজও আমার কানে বাজে।
দিবাকর, আজও আমার কানে বাজে-
সেই ছুটির ঘন্টা।বাজলে-
পড়ি মড়ি করে দৌড় দিতাম,আমরা,
কে কার আগে যাবে-সেই প্রতিযোগিতা।
ঢং ঢং
-
দিবাকর,তুই ছুটি নিয়ে নিলি
এই জীবন হতে? কী এতো ব্যাথা
ছিল তোর ওই বিশাল উদার বুকে?
আকাশ জুড়ে মেঘেরা আজ এমন গম্ভীর?
কী কষ্ট জমে আছে বুকে তাদের?
ঝরবে আজ সে?
ঝরবে তাদের কষ্ট লাঘব করতে!
দিবাকর,তুই কেন ঝরে গেলি
অসময়ে? বৃষ্টির ফোঁটার মতো?
তোর মনে আছে দিবাকর
সে সময় সাপ্তাহিক ছুটি ছিল রবিবার।
কোন এক সোমবার
বিদ্যালয়ে এসে দেখি
নিম গাছ আর নেই,
আর যে কুয়ো ছিল,রাজাদের বাড়ির
দেয়াল ঘেঁষে, সেটিও নেই।
আর আশ্চর্য দেখ,মুঠোফোনে গৌতম
আমাকে জানালো-তুই আর নেই!
হায়!
এই জীবনে এতো " নেই"কেন
তুই বলতে পারিস?
ওই খবর যখন এলো
প্রথম যেটি আমার মনে হলো
কী করা উচিত
আমার কান্না করা উচিত?
শুষ্ক চোখ,অভিজ্ঞতার প্রখর তাপে
আবেগের নদী গতি হারিয়েছে!
বড়দির কান্নার আওয়াজ,যেন
বর্ষার বিষণ্ন দিন।
তুই কী জানবি? তখন তুই নিথর
যেন একটি শীতল খন্ড, প্রস্তরের-
অনুভূতিহীন-
প্রেমহীন-
ভালবাসাহীন।
চলার এই রাস্তা আজ বড্ড নীরব;
রাস্তা আমায় নিয়ে যাও কোথায়
স্বেচ্ছা সাম্রাজ্যে?লাল দীঘির পারে?
-
আমি,অমৃত মাছ ধরছি
আর তুই মাছ ধরা দেখছিস।
এক সময় বললি তুই
-
সুদীপ,চল লাইব্রেরিতে যাই-
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ,রুপকথার রাজত্বে প্রবেশ।
আচ্ছা
দিবাকর বন্ধুত্ব কী-
কিছু না বললেও পরস্পরকে জানা-
অথবা বিশ্বাস-
অথবা বিপদে রক্ষাকর্তা-
অথবা সময়কে ভাগাভাগি করে নেওয়া-
অথবা হৃদয়ের কোনায় লালিত
সুন্দর মুহূর্ত?
দিবাকর,
তোর সাথে দেখা হয়নি কতদিন!
আর কোনদিন
দেখা হবে?
-
হৃৎ ছন্দ ব্যহত হয়, কোন কারণে!
দূরে কোথাও বৃষ্টি নেমেছে
শীতল হাওয়া
নব বিধানের ঘাসে ভরা মাঠে
বসে নীল জোসনার আলোয় ভিজতে থাকি
আর দেখি
বল হাতে তোর দৌড়
আউট-চিৎকার শুনি বন্ধুদের
আর দেখি
রুপাকে, আর তোর রক্তিম মুখ দেখি
এরপর
একে একে সবই হারিয়ে যায়
হারিয়ে যায় নীল জোসনার আলোয়।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About