বিষাদ-মানব
                                                               
কখনো কখনো ভাবি-আমিই বিষাদ
চোখের দৃষ্টি থেকে সবটুকু আলো মুছে যায়
বোধের গভীরে জমে ঘন থেকে ঘনতর ধোঁয়া
আয়নায় প্রতিবিম্ব দেখে চিনে নিতে ভ্রম হয়
মনে হয়- আমি এক শূন্যগর্ভ ভাসমান মেঘ
মাটির সঙ্গে কোন সংস্পর্শ নেই
তুঘলকি বাতাসের মুখে সুতো-ছেঁড়া ঘুড়ির মতন
ভেসে যাই-এলোমেলো উড়ে যাই শুধু-
টুকরো টুকরো হয় যাবতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ
ডানা মেলে পাখি ওড়ে ধূসর আকাশে
নিবিড় সুখের মতো আলগা পালক ঝরে পড়ে
যেতে যেতে সাথীদের সাথে অসীমের বন্দনা গায়
এ বিপুল পৃথিবীতে সেও এক ক্ষুদ্রপ্রাণ-এই
কৃতজ্ঞতাটুকু জানায় স্রষ্টাকে।
মুগ্ধতার ছোঁয়া পেয়ে
সুন্দর হয়ে-ওঠা রঙিন ফুলেরা
বাতাসের মিহিন পোশাকে গুঁজে দেয় সুগন্ধরস
কীট ও পতঙ্গের প্রতিনিধি হয়ে গুন-গুন গুঞ্জনে
মৌমাছি মেতে ওঠে পুলকসঙ্গীতে
      
     নদী সেই আনন্দ গুলে নিয়ে জলে
      কুলু কুলু ছুটে যায় অনন্তের দিকে
      বিশ্বভরা আনন্দের অনিঃশেষ এই প্রান্তরে-
      সুবর্ণলতার মতো আমি এক বিষাদ-মানব।


1 মন্তব্য(গুলি):

AMITAVA DAS বলেছেন...

সুবর্ণলতার মতো আমি এক বিষাদ-মানব।
---সুন্দর ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About