এখন কবিতার সময়

পৃথিবীর সব পথ ছেড়ে
ঢং ঢং রাতের চাদরে 
একান্ত আলাপে আর হয়তো ডাকবো না তোমায়!
প্রাচীন অন্ধকারের গভীর
নিশুতি কর্মব্যস্ত নাগরিক
ভিড়ে অনেকটাই বিপর্যস্ত
নিভৃত অন্তরে!
আমাদের সাররাত
দরজার চৌকাঠে নির্লিপ্ত কালো আকাশটার মতো
চোখ বুঁজে থাকে, আমাদের নরম সংলাপে!

প্রত্নতত্বের নিরুদ্বেগ কাহিনী জুড়ে ভালোবাসা প্রেম
মৃত মোমবাতির আলো হয়ে জ্বলে!
ঐতিহাসিকের নির্মম আতস কাঁচে
হয়তো তোমার আমার মুখ জুড়ে
নিরালম্ব সত্যের আলো ম্রিয়মান হবে আরও!
তবুও সঙ্গম গোপনে নিভৃত
আদরগুলো আত্মসমর্পনের
অম্লান তৃপ্তিটুকু যেন আবারও হারালো!
পৃথিবীর সব পথ ছেড়ে
ঢং ঢং হৃদয় অন্তরে
আমিও পারিনি তোমার মতো,
একটিবার বিহ্বল হতে নাগরিক ভিড়ে!
সঙ্গোপন মাধুর্য্যের শিরায় শিরায় এসো পরস্পর
মুখোমুখি বসি!
শেষ ট্রেনগুলো চলে যেতে দাও!
প্ল্যাটফর্মের শেষ বিন্দুতে আমাদের হৃদয়
পরস্পর জ্যোৎস্না হয়ে থাক!
দিনান্তের সমস্ত ক্ষত
চীনের প্রাচীর হতে চায় জানি!
তবু তোমার হৃদয়ে
মুখ লুকালে কি আর এমন ক্ষতি হতো পথিকের?
যে তর্কগুলো ক্রমে কূট হয়ে
ওঠে! যে কষ্টগুলো ক্ষোভ হয়ে ফোটে!
যে অভিমান বিদ্বেষ হয়ে জোটে; এসো
তোমার ঠোঁটে চুম্বন এঁকে দেখি অবিরাম উষ্ণতায়
এত অন্ধকার আলো হয় কিনা?
প্ল্যাটফর্মের এই শেষ বিন্দু ব্ল্যাকহোল নয় আর!
বিগব্যঙ্গ করে দি এসো নক্ষত্রের তারায় ভরা
এই মধু রাতে! হয়তো
আত্মপক্ষ সমর্থন নয়, আত্মগ্লানি স্খলনে
জ্বলে ওঠে পূনর্বার অমলিন হৃদয়!
নক্ষত্রের বিষাদ মাখা রেখাঙ্কনে অক্ষর ভিজিয়ে
নিয়ে নিশ্চিন্তে বসে আছি!
শব্দের অন্তরালে মহাবিশ্বের বিস্ময় উকিঁ দিয়ে গেলে
মাঝে মধ্যে স্বপ্নের অভিসারে
তাকে দেখি! বিষাদসিন্ধুর ঢেউ এসে
অবুঝ স্মৃতির খুঁটি ভিজিয়ে দিলেও ভেজে না
অভিমান! চোখের কোলে
কালি বয়স কিংবা পুষ্টির অভাব! অন্য কিছু নয়!
ধ্বনি কিংবা প্রতিধ্বনীও নয়,
স্তব্ধতার বিপুল বিস্ময়
মাঝরাতে মোম জ্বেলে
রাতের সাথে একা বকে যায়!
মহাকাব্যের স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জনে
আমাদের দিনলিপি জুড়ে
যুদ্ধের দামামা!
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ভেজা
আদরে কি লাভ আবার
সংলাপ বুনে বুনে?
ভালোবাসার কুরুক্ষেত্রে
অভিমন্যু নয়!
মহাপ্রস্থানের পথে ঢের ভালো, রাত্রি নিশীথে
অনিমিখ নিরালা সময়!
হয়তো আলোর বিন্দুতেই আঁধার সিন্ধুর কোরাস!
হয়তো অন্ধকারের সম্পূর্ণ বৃত্তেই একরৈখিক তোমার
আলোয় আমার বৃত্তাকার সীমানা!
হয়তো আমাদের পাণ্ডুলিপির
তুলোটে সন্ধ্যায়
প্রাত্যহিক মহাভারতের গল্প !
হয়তো তোমার আমার
 
অক্ষর জোনাকির
ডানায় আলোকিত ঘন
অন্ধকার!
হয়তো ঋতু পরিবর্তনের বাসরে
অভিমানী টানেল জুড়ে ভালোবাসার
অ আ ক খ!
হয়তো মহাপ্রস্থানের সিঁড়িতে
ইতিহাসের হাতেখড়ি!
হয়তো প্লাবনের শেষ ডিঙায়
আমাদের প্রথম দেখা!
হয়তো শুভদৃষ্টির চোখে
ধৃতরাষ্ট্রর সংলাপ,
গান্ধারীর প্রেম কাহিনী!
হয়তো একবিন্দু বৃষ্টির
নিরালা ফোঁটায়
তোমার সুরেলা আসর!
হয়তো আমার শব্দের বোঁটায় তোমার সুরভী!
হয়তো আদিগন্ত সীমানায় সংলাপের সবটাই
শুধু তুমি!

পড়ন্ত দিগন্তে সূর্য্যডোবা
ব্যালকনীতে নৈঋতের
অভিবাদনে হাত রেখেছি বাড়িয়ে!
খণ্ড মেঘের নির্ভাজঁ শান্তি
চতুর্দিকে!
নিমেষহারা অপলক অনুভব দিলো নাড়িয়ে!
বহুরূপী গোধূলীলগ্নে উদ্ধত বুকের কারুকাজ দুলিয়ে
তুমি দাঁড়ালে!
অহর্নিশ উষ্ণ প্রস্রবণে উর্বশী
নৃত্যের ঝর্ণায় এদিকে
অধর বাড়ালে!
খণ্ডিত প্রেমের দূর্ভাবনায়
আরোগ্যহীন বসন্তের তাড়ণায় বিব্রত স্বভাবতঃ!
নিরুদ্দেশের পথিক! স্বপ্নমগ্ন
স্রোতস্বীনী তোমার অধরে
হইনি তবু অবনত!
হৃদয়ের গলি-ঘুঁজির ঘায়ে
বারেবারে কানাগলি হানা
দিয়ে গেছে মেয়ে!
জগদ্দল পাথরের স্থিতি
হাড়হিম শিহরণ তাই ওঠে
নামে শিরদাঁড়া বেয়ে!

অনেকদিন ঈশ্বরের অধরে ছোঁয়াইনি সিক্ত চুম্বন!
অনেকদিন ঈশ্বরের কাঁধে রাখিনি বরাভয় হাত!
অনেক দিন ঈশ্বরের অশ্রকণায় সিক্ত করিনি
দশ আঙ্গুল!
অনেকদিন ঈশ্বরের নির্জনে
বসিনি সাথে
.
দুপাত্র হাতে কটা নিরিবিলি কথার ফাঁকে কুশল সংবাদ নেওয়া!
সাংসারিক সুখ দুঃখের ছিটমহলে দুটো দরকারী কথা দেওয়া!
অনেকদিন ঈশ্বর ফিরে গেছে
বন্ধ দরজার চৌকাঠে বসে অনেকক্ষণ!
রেখে গেছে
দরকারী না বলতে পারা
সে সেসব কথার
অনেক দীর্ঘ দীর্ঘ শ্বাস!
অনেকদিন ঈশ্বর হয়ত ভেবেছে আমায় ঠগ!
অলীক চূর্ণ বিচূর্ণ বিশ্বাসের
রচিত মায়া!
অবাস্তব অর্থাৎ অবান্তর!
অনেকদিন ঈশ্বর বিবাগী!
বৈতরনীর পার ধরে
খুঁজে চলেছে
নিতান্ত একটা বিশ্বাস!
সবটাই অবান্তর হয়ত নয়!
দ্বিধাগ্রস্ত আমার অক্ষর
তোমার ক্ষতবিক্ষত যৌবনে পদাবলী নিয়ে আসে যদি!
যদি চৈত্রসংক্রান্তির রাতে
নতুন বছর তোমার রূপে
অপরূপ সকাল হয়ে আসে!
যদি শরশয্যার গ্লানির ভিতর
অক্ষম আর্তনাদ নতুন প্রজন্মের ঠিকানা রেখে যায়
প্রিয় জন্মভূমির বুকে?
এ মাটির আঘ্রাণে পূর্বপুরুষের কৃতকর্মের
প্রায়শ্চিত্য আছে!
নিস্তবদ্ধ শিশির অশ্রুত বেদনায় ঝরেছে!
মৃয়মান বসন্তের রক্তলগ্নে
সর্পিল বিষাক্ত তীরন্দাজের
সাথে তবু একাকী লড়েছে!
ভোরের আলোর কাছে
কুয়াশার পরাজয়ের মতো
তোমার সান্নিধ্যে
আমারও ভালোবাসাটুকু
আলো হয়ে উষ্ণতায় ভাস্বর হয়ে গেলে!
অবরুদ্ধ বিপ্রতীপ সময় সংহতির একচিলতে সলতেতে
ভালোবাসা প্রেম হয়ে
এবার আগুন জ্বেলে দেবে দেখো!
হে প্রিয়!


1 মন্তব্য(গুলি):

Anyanishad বলেছেন...
এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About