এরপর ?

একটি লাল নদী হিংসার আগুন ছড়াবে বলে উতল হলে
কাপুরুষ ইতিহাস ইলিশের স্বাদ নিতে নেমে গেল পদ্মায়!
কেমন আছিস সুধাংশু,  তাহলে যাচ্ছিস ?
টেবিলের কানা থেকে ময়লা মোছে সুধাংশু,
বাতিল ল্যম্পপোস্টের নীচে একা এক মানুষ, পাশে কেউ নেই,
বালুজমা মধুমতির মত আটক এক আহত আত্মা।
শেষবারের মত কলাপাতায় মাখন মুড়ে হাসে সুধাংশু
হিন্দুর তবু জাগা আছি চলি যাবার,  ধাওয়া খালি তুমরা কোহানে
যাবানে কতি পার দাদা ?”   
মানুষটি তাকায়,  তার চোখে সম্প্রীতির নৌকা বাইচ,
মধুমঞ্জরী ফোটা লাল গেটের বাড়িতে ক্লারিওনেট বাজাত যে বন্ধুটি
সে এখন বনগাঁ ইশকুলে অংক শেখা 
তার মনেও নদী নেই,  ঢেউ নেই,  ঝাল ঝাল চচ্চচড়ি ,
কচুর লতি,  মসুর ডালে লংকা ফোঁড়ন নেই, সেও বড় একা
আহত আত্মার পাখির মতন।  
ইতিহাস রক্তমুখে উঠে আসে,  হয় ধর্ম নয় মৃত্যু!
মৃত্যু পথে হেঁটে যাচ্ছে নির্ভয় মানুষ, দলিত মানবতা,
ধর্মের ঝুমঝুমি বাজালেই কেঁদে উঠছে স্বদেশ বিদেশ!   

অগ্নিস্নাতা

তোর হাতের উপর অগ্রজ আদিম হাতটি রাখলাম অগ্নিস্নাত,
চিনতে পারছিস ভাই আমার !
কত শত বছর আগে পৃথিবীর নবীন মাটিতে
শাল বৃক্ষের প্রাজ্ঞ ছায়ায় পদ্মরেণুর সুগন্ধ মেখে
মায়েরা জন্ম দিয়েছিল তোকে আমাকে !

মায়ের নাভি গন্ধ শুকে আমরা খেয়েছি অমৃতরস, 
আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে চিনে নিয়েছি সুফলা ধরিত্রী 
সেই যে কোলে ধরে দু চোখে দিয়েছিল আকাশ  
বুকের ভেতর মনুষ্যত্বের সিলমোহর
মনে হয়েছে কি কখনো আমাদের মা যেন অন্য রকম মা    
তুই আমি আমরা ধরিত্রীর অন্য রকম সন্তান? 

আমাদের বাবা নামের বৃক্ষটি নেই
যেমন আছে মৌটুসি নার্গিস এনামুল সুশান্তের
কিন্তু দ্যাখ আফরিন মহুল অর্ণবের বাবাবৃক্ষটি কেমন দুরাচার  
মাঝ পথে হাত ছেড়ে চলে গেল জারদৌসী মৌতাতে !

মা কিন্তু হাত ছাড়েনি তোর আমার !  
জানিস ত ভাই আমরা সবাই মায়ের সন্তান
আদিম কষ্টিপাথরে সাচ্চা লেখা আছে আমাদের মায়ের নাম। 



2 মন্তব্য(গুলি):

Kowshik Shaw বলেছেন...

বাহ | অসাধারণ লিখেছ রুখসানা| সেলাম তোমায় |

রুখসানা কাজল বলেছেন...

তোমাকেও সেলাম। কবিতায় আমার কাঁপন লাগে ভয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About