দীর্ঘ কবিতা

অনামী এক সৈনিকের দিনলিপি

এটা কি অস্তগামী পথের নিঃশ্বাস? রক্ষক,উড়ে
গেছে চোখের যে
খয়েরী বিন্দু,ছড়ড়া গুলিতে !যুদ্ধপথে
 সৈনিকের স্বপ্ন থাকে জয়ের চিহ্নদিকে
অথবা হতে পারে বেঁচে থাকো,মরে যাও

আহত শরীর তবু বয়ে নেয়া যায়!মন?
তার কি এমন দায়! তো জানালা-
খোলা বারান্দার পুরোনো কার্ণিস, শরীর
ভাসিয়ে দাও...হাওয়ার গোঙানিরেখা
পার হলে মাটির আশ্রয়...ফাটা খুলি,রক্তস্রোত
স্বপ্নের আত্মাদেহে ডানার বিস্তার...

মধ্যাহ্নের সৈনিক এরকম ভাবে
 চোখের ব্যাণ্ডেজ যদি বাঁধা হয়,ইন্দ্রিয়ের
চারদুঃখ সজাগ তাপস! আহত নিনাদগুলি শোনা
যায় যতটা অধিক,তার চেয়ে বেশি ভাসে বাসি আর পচারক্তঘ্রাণ!
অনুভব বলে দেয়, উড়ে যাওয়া বা পায়ের
অযান্ত্রিক শূন্যতা

প্যারেড স্ক্যোয়ারের দিন....
ডাবল মার্চের ছবি....
 লেফট রাইট লেফট...
গার্ড রেজিমেন্ট তৈরি,তলোয়ার সম্মান
নিপাট ইউনিফর্মে নতুন পদকl

কার কন্ঠস্বর? "
আমার উৎসর্গে দেশ,মাতৃভূমির
জন্য 'দ্য চুজেন ওয়ান’"....
আমারই কন্ঠস্বর!

কেনো এই ধুকে বেঁচে থাকা, প্রভু ?
মহান মৃত্যুর মত সম্মানিত আর কিছু নেই

আলোকযাত্রার দিন ধূসর মগজে
ইথারীয় তীর ছোঁড়ে, তখন শেখার শুরু;ট্রেনিংয়ের
দিন,সক্ষমতা ক্ষমতার কেন্দ্রে এসে বলে, ‘সারভাইভার,
এই নাও রোডম্যাপ,জীবন তোমার..,'অস্ত্র
আর অভিজ্ঞান দেখাও তো,কেমন শিখেছো
 প্রয়োগ! মূহুর্ত,প্রয়োজন ? এবার পার্থিবজ্ঞান

কড়া কফি,রাতউৎসব ওয়াচিংপ্ল্যান...কোন
পথে বাইসন নামে দলবেঁধে?
সবুজেরা কালো হয়ে এলে,পাখিদের ভাষাগুলি
শিখে নিতে হয়!অনেক চোখেরা
থাকে অপেক্ষায়;ফসফরাস চোখ,
তাদের এড়িয়ে যেও,সামনে গিরিখাঁত-

দক্ষ ট্র্যাকার হলে জেনে যাবে,
গতরাতে কারা জ্বেলেছিলো এই ক্যাম্পফায়ার?
মেরেছিলো দলছুট নীলগাইটাকে!

চক্ষুঘর্ষণের বেলা,তীর ছুঁয়ে সমুদ্রের পথ-
নাবিকজীবন জাগে,ওয়াচ টাওয়ারের
নীচে একটা চাদর,ভাগাভাগি করে নেয়া
দুইজোড়া স্পন্দনের শুরুর গল্পটা...
দূরের সাগর আরও দূরে সরে যায়!আত্মজেরা একদিন
চেনায় দিগন্ত এখন মনের রঙ
বারোমাসি আকাশের মত: সূর্য ঝরছে তাই
জানা যায়, আসছে মেঘেরা,প্লাবন
উতরে গেলে তুলোধোনা খোলাছাদে শিরিষ ফুলেরা ওড়ে,
 মন শরীর;নিজস্ব রসুই থেকে ভেসে আসে
কষা মাংসের প্রিয় ঘ্রাণ...

আরও আসে পেছনের দিন,'দ্রাঘিমাংশের
নীচে আমি অপেক্ষায় থাকি,
কোনদিন যে পথে কেউ ফিরতে পারে নি...

পার্থিব শরীর বাড়ে,অক্ষাংশ পার হয়ে ঢলে
যাওয়া দিকচক্রবালে-
মনকে নিস্তার দাও,স্বপ্নবাজের চেয়ে
তেজ যার গতি!

তখন উদোম চলা দিন,পিনু কে খুঁজছো
বুঝি? প্রিয়নাথবাবুর বাড়ির অন্দরে
নয়,তলঘরের সুড়ঙ্গে বসে আছে
কিশোর-কিশোরী; নিষিদ্ধ গন্ধ নিয়ে সংলাপ,এভাবেই হয়! ছিঃ...
বলছিস,বাবা মায়েরা ওরকম খেলে!
 নটকা বুঝাও?
আদিখ্যেতা, কিসব অসভ্য কথা!
শুনবোনা,ঘরের দাওয়াই ডাকে,ফিরবো এখন;
বেলা ঢলে গেলা,কু-কথা বলবে সবাই
 -কালকে আসবি বল?সত্যি কিনা দেখে
নিলে হয়!

তলকুঠুরিতে সেটা শেষদিন কায়রা ঘোষের-
মেয়েরা কি বুঝে যায়? বড় হওয়ার ঘরজ্বলা
দিন, বন্ধু পুরুষ হলে দূরত্ব বাড়াও...

সেদিনও পায়রাঘরে লুকোচুরি,বর-বৌ
খেলায় আরও কৈশোর দঙ্গল!পাতা আর ধূলো
দিয়ে মিছেমিছি আপ্যায়ন... তারপর?
কোন হাওয়া বয়ে আনে শূন্য বিচ্ছেদ?বড়

হওয়া কিরকম হয়?
পথ কি অনেক দীর্ঘ!
অনামী সৈনিকের ভবিষ্যত
উড়ে যায় পঙ্গু বাতাসে-

না দেখেই বলতে হবে,
নুনস্বাদ রাতগুলি ভোর হবে অন্ধকার নিয়ে

সেই অন্ধভোর, যার চিহ্নপথে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে
আছে শয়তান আর দেবদূত; ভালো মন্দ আহ্বান
-এই পথে এসো, টেরেসের গাছগুলি ছুঁয়ে ছুঁয়ে
নওলা হাওয়ার বুকে শরীর ভাসাও...
-এসো না পথিক, হাঁট সেরে হাঁটুরেরা কার
বুকে খুঁজে নেয় সহজ আশ্রয়?তুমি জানো-
তার কাছে যাও, তোমার গোপন দুঃখ
ভাগাভাগি করো; বন্ধকির হাতে তবু দিও
না আত্মার কোনো অংশমাত্রও!

সৈনিক ভালোই জানে, জন্ম থেকে মানুষের
স্বভাবে থাকে দ্বন্দ্বের হাজারো বাক্যটিলা,
নিষিদ্ধের টান;থাকে আকাঙ্খার সব রঙ,
অজড় বাসনা...
জীবন শেষের পথে নিজেই আসুক,আজ
সাদাছড়ি হাতে নিয়ে শিশু হই,পথ চিনি,
নতুন স্পন্দন নিয়ে ধূসর আলোয়



0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About