নার্সিসাস প্রেম

হঠাতই নজরে পড়ল মেয়েটা
ঝামর চুল,চোখে বাসি কাজল,হাতকাটা টেপফ্রক, ইজের।নাক বইছে।
এক্কা দোক্কা খেলতে খেলতে অনায়াসে ঢুকে পড়ল আমার রোজকার মজলিসে।
হাঁ-হাঁ করে উঠল দরজার কাছে বসা জয়া-বিজয়ার দল
বলল,"আরে বলা নেই কওয়া নেই ঢুকে পড়লেই হল?নাম কী তোর?'
উত্তর দিলো, দেখো ,কেমন রাতের মত কালো কাজল পড়েছি ।
কেমন কাকের পালকের মত কালো আমার চুল।
কেমন মনভোলানো হাসি আমার, কেমন সুন্দর পায়ের নুপুর,হাতের চুড়ি।
কেমন পাখীর মত উড়তে পারি আমি, দেখবে ?
বলেই দু হাত ছড়িয়ে দুলে দুলে নাচতে লাগলো।কি অপূর্ব সে নাচ!
আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত চেয়ে রইলাম।আহা কি সুন্দর।

নাচতে নাচতে সে মেয়ে রুপকথা ,গাছকোমরে ডুরে শাড়ী ,কপালে চাঁদ ।
ওরা আবার প্রশ্ন করলো এই , তুই কোথা থেকে এলি? কী করা হয় শুনি ?'
সে বলল, 'আমি ও'মাঠে বৃষ্টির আগে মেঘ দেখেছি,
তখনই তো কবি আমায় বলল  কৃষ্ণকলি, বলল, আমার নাকি কালো হরিণ চোখ।
আর শোনো, 'মাঠে আর রামধনু দেখা যাবে না, বৃষ্টি হবে না।
মাঠ আমি কবিতাকে দিয়ে দিয়েছি।
তার বদলে কবিরা আমায় দিয়েছে তিলফুল নাক,কুঁচফলের মত লাল ঠোঁট, মরালগ্রীবা।
বলেছে কোকিলকন্ঠীগান শুনবে আমার?”
ওমনি জলতরঙ্গ বেজে উঠলো, রুদ্রবীণা তুললো ঝঙ্কার। জয়জয়ন্তীতে সুর ফুটলো।
আমি বাকরুদ্ধ। আহা কি সুন্দর।

গানেগানে ফুল ফুটলো, মৌমাছি এলো, চাঁদ উঠলো,চাঁদ ডুবলো,
এতো আমি! আমি এত সুন্দর!এত মোহ, এত মায়া আমার!
আমার সামনে আয়না।আয়নার সামনে আমি।
বড় আমিময় আমার আমিত্ব।
আমাদের মাঝে শুধুই আত্মরতি, আত্মকাম, আত্ম-সম্মোহন।
নাকি নার্সিসাস প্রেম !!!

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About