দুই ঠাকুরের গল্প

উঠোন থেকে মায়ের ডাক-
প্রসাদ নিবি না খোকা?
বড় ঠাকুরের পুজো।
মা বলেন- শনিঠাকুরের নাম নিতে নেই।

পড়ার টেবিল থেকে উঠে এসে
দরজা ঠেলতেই দেখি-
এক অলৌকিক যান-
যার চারদিকে অগ্নিবলয়।
চোখের ধোঁয়াশা ভেদ করে
তার থেকে ধীর পায়ে নেমে এলো এক
কুয়াশাশরীর।
অনির্বাণ ঋজু বুড়ো।
তার মুখ আর মাথাভর্তি শরতের শন।

ঈষৎ হাসির রেখা ঠোঁটে মেখে
তিনি তাকালেন। তারপর ধীরে ধীরে
অসংকোচ দৃঢ়পায়ে আমাকে ডিঙিয়ে
ঢুকলেন আমার ঘরের মধ্যে।
মুছলেন দেয়ালে ঝোলানো ঝুল আর
ধুলোমাখা রবিঠাকুরের ছেঁড়া ছবিটাকে।

আমি নির্বাক। নিথর।
ফিরে এসে তিনি উঠলেন যানে।
শনিঠাকুরের নৈবেদ্য মাড়িয়ে
উড়ে গেল তার অলৌকিক অগ্নিযান।
লন্ডভন্ড হয়ে গেল পুজোর প্রসাদ।
সমস্ত বাড়ি। সংসার। মন।
কেঁদে উঠলাম ভয়ে।
কি গো, কি হলো তোমার?
বউয়ের কন্ঠস্বরে ভোরের ঘুমের ঘোর
কেটে যায়। এত বেলা হয়ে গেল!
জানালার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে
চেটে নিল স্বপ্নমধু।
দেখলাম- সামনে দাঁড়িয়ে আছে
মরা মানুষের দুইখানা চোখ মেলে
ছেঁড়া শাড়ি পরা বাড়ির লক্ষ্মী।

শুনতে পেলাম -আমার পাঁচ বছরের
ছোট্ট ছেলেটির গলা-
ঠাকুমার কাছে বসে হয়তো পড়ছে-
তাই ফুল একদিন --------

হঠাৎ কে যেন ডেকে বললো আমাকে-
শানিঠাকুর আর রবিঠাকুর
দু'জন ঠাকুরই আছে তোর পৃথিবীতে।
তোর সব ফুল প্রজাপতি হয়ে উড়ে যাবে-
পারবি নে আর কোনো
দেবতার পুজোয় তা দিতে।

3 মন্তব্য(গুলি):

Dipankar বলেছেন...

শনির পরে 'রবি' এলেন। আবার কবে আসবেন তিনি?

lifelong বলেছেন...

Nice

lifelong বলেছেন...

Good

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About