পঁচিশে বৈশাখ

নিদাঘবেলা প্রতি বছর আসে ;
মধ্যদিনে স্মৃতির ভিড়- ঝাঁক ।
ক্যালেন্ডারে দেখি সবার আগে- 
আসবে কবে পঁচিশে বৈশাখ ?

সেই যে এক কিশোরী নেচেছিল-
রবিঠাকুর, তোমার সুরে সুরে । 
দখিন হাওয়ায় উত্তরীয়ের দোল- 
লাগলো গিয়ে কার হৃদয়পুরে ? 

নবীন যুবা গানের দলে ছিল-
নেপথ্যে সে গাইল, ‘জল দাও’ ।
কণ্ঠস্বরে আকুতিমাখা তৃষা-
সত্যি সে কি চাইল? বলো তাও ।

তার সে চাওয়া আকাশ বুঝেছিল-
নাচের শেষে কি বৃষ্টি, কি ঝড় !
এগিয়ে এসে বলল, ‘ভেবো না-
আমি পৌঁছে দেবো তোমায় ঘর’।

যেতে যেতে বলেছিল সে পথে,
‘আবার কবে হবে এমনি দেখা ?’
আমিও ছিলাম এমন মূর্খ মেয়ে-
 ভেবেছিলাম ছেলেটা বড় ন্যাকা।

বলিনি কিছু, ভুলতে চেয়েছিলাম ।
ভোলা কি যায়? কণ্ঠে ছিল তৃষা ।
রবিঠাকুর, তোমার সুরের যাদু-
মনে করিয়ে ভুলিয়ে দেয় দিশা ।

যখনই শুনি কে গায়, ‘জল দাও’।
ছুট্টে গিয়ে খুঁজি কি তারই মুখ ?
নিদাঘবেলা কত যে আসে যায়-
বেড়েই চলে খুঁজে ফেরার সুখ ।

শুনেছি সে ভালোই আছে দূরে ।
মিটেছে তৃষা ? থাক সে ভালো থাক ।
রবিঠাকুর, ভুলিয়ে রাখো আমায়-
উঠুক সেজে পঁচিশে বৈশাখ ।

1 মন্তব্য(গুলি):

lifelong বলেছেন...

অপূর্ব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About