একান্ত রবীন্দ্রনাথ

আমিও পেয়েছি আমন্ত্রনমানুষের চলাপথ বসতির গ্রামনগর বন্দর ঘাট হাট মেলা থেকে প্রকৃতির সব জমি সব জ্বলারৌদ্রছায়া নক্ষত্রের অন্ধকার থেকে শীত গ্রীষ্মে বসন্ত বর্ষায় হেমন্তে শরতে সেইসব রোমাঞ্চিত অলক্ষ যাত্রার সব পথের বাঁকে আমার মুহুর্তগুলি বিদ্ধস্ত কেবলি সর্বত্রের পটে আঁকা তোমার স্বাক্ষর চিনে চিনে,সমস্ত শব্দের নদী বেয়ে তোমার সুরের ঢেউ আর আমার প্রাণের কুল থেকে অনুভূতি থেকেতোমারই ভাষায় তার প্রতিধ্বনি শুনে আমি শুধু অপমানে ম্লান বার বার মৃত্যু মেনে নেয়া অপৌরুষ জানি তবু তো পারিনি হাজার মৃত্যু থেকে নিজেকে বাঁচাতে আমার দিগন্ত জোড়া পূর্ণবাহু আলিঙ্গন তোমার নামের আমি তাই হতমান হাজার মরনে তবুও সান্ত্বনা ছিল আশ্রিতের নির্বিঘ্ন জীবন কাম্য যদি হত ! রক্ষকের হাত ধরে পথের কন্টক এড়াবার তৃপ্তি যদি ততখানি লোভনীয় হত । হোক না বিবর্ণ শীর্ন আমার কঙ্কাল তবু তা উজ্জ্বল হবে আর কারো দাক্ষিন্যের মেদ পুষ্টি সমৃদ্ধি কুড়িয়ে উর্ধ্ব থেকে কারো দান করুনা বৃষ্টিতে সুরভিত পারিজাত হয়ে ঝরবে আমার দুটি ভিক্ষা তৃপ্তহাতে আমি তাকে গেঁথে নেবো কন্ঠের মালায় আমি তা চাইনি । আমার মালার ফুল শিশিরে কাদায় মাখা শিউলি বকুল আমি তা কুড়াবো নিজ হাতে । তবে সে মালার গন্ধ ফাল্গুল হবে আমার প্রাণের মুক্ত ছন্দের উল্লাসে তোমাকে বেসেছি তবু ভালো দুচোখের দীপালোকে বেছে বেছে বারবার দেখে সুনিশ্চিত বিচারে সম্ভ্রমে । আর তাই তো এড়িয়ে যেতে চাই তোমার আকাশ তাই তো হারিয়ে যেতে চাই তোমার অব্যক্ত কোন ঘাস লতাশিশিরে সলিলে। অন্ধ হয়ে অথবা কখনো অন্ধত্বের ভানে দুই চোখে কালো পর্দা টেনে যদি ভালোবাসতাম তবে তো অসহিষ্ণু সজারু হতাম ! শত শত উঁচুনীচু ঢিবি আর পোড়াবাড়ি বটগাছ বেলতলা খুঁজে হৃদয়ের খোলসের শিরনী দিতাম । আমি তাই চোখ মেলে খুঁজেছি প্রতিদিন আছে কিনা তেমন পৃথিবী যেখানে প্রান্তরে পথে, দিগন্তে আকাশে..তোমার দীপের থেকে ধারকরা আলো নিয়ে জ্বলবে না সন্ধ্যা শুকতারা । হাজার শানিত প্রশ্নে মথিত করেছি আমি সন্মোহিত বিভ্রান্ত চেতনা, তুমি কি দেখেছো সব কিছু ? অনুভব করেছ কি সহস্রের অন্তরের লক্ষ কোটি সুর । তুমি তো কবি,অতিক্রান্ত অনাগত যুগের সীমানা, সূর্য আর আকাশের উপমায় তোমাকে চিনেছি । তাই তো জেনেছি সূর্যের মত তুমি পারোনি কখনো যেতে সমস্ত আঁধারে । সমস্ত আঁধারে তবু অসংখ্য মানুষ আছে, আছে তার আনন্দ বেদনা । আকাশের মতো তুমি কোটি কোটি সৌর জগতের আনন্দ সংগীতে মুগ্ধ হয়ে তাইতো শোননি সমস্ত ঝিল্লির ক্লান্ত সুর অসংখ্য মানুষ তবু আছে সমস্ত ঝিল্লির সুরে রাত জেগে জীবনের কান্না যারা শোনে । এইসব প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ পেয়ে যখনি গিয়েছি দেখেছি তোমার চিহ্ন পড়েনি সেখানে। তবু দুঃখ সহসা জেনেছি আমার যে দেখার ভঙ্গিমা সে যে একান্ত চেনা তোমারই জিজ্ঞাসা । আমাকে বেষ্টন করে আছো অবিশ্বাস্য অদৃষ্টের মতো । আমাকে আচ্ছন্ন করে আছো প্রতিমুহুর্তের বর্জনের প্রয়াসে ধিক্কৃত অনিবার্য অভ্যাসের মতো একান্ত আমার রবীন্দ্রনাথ।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About