স্পর্শের বাড়ন্ত স্বাক্ষর

জীবনের সিকায় মনের ভাঙা প্রদীপ তুলে রেখেছি,
তেল নেই, সলতে জ্বলে গেছে অর্ধেক।
তবু মিনতি আসমানের তারার কাছে
অন্ধকার যদি দেখে স্মৃতির আলো হাস্যময়
জলের তরঙ্গ দেখে যেও আমি কেমন আছি।

পরম তত্বের বীজ মাবুদের স্পর্শ কুঁড়ায়ে
ইশরাকের নামাজ আদায় করে পূজারীর বিছানায়,
মনের পদ্মা নদীর চিতায় তৃষ্ণার্ত শ্মশান
প্রেমের রাজ্য ছেড়ে আজ মনের সহজ সরল সরম
বেহুদা তরাসে গভীর যুগ বেদনায় আরম্ভের ক্লান্ত!

দংশন আঘাত করোনা আবার মাংসের অনিদ্রায়,
জন্মের বেহুঁশ ডাকে পাষাণ রূপহীন শক্তি, মাটির ঘুম,
আয়ুর সিজদা ভিজে যায় বেদনার আফুরান কান্নায়
বিষের কটরা প্রেমহীন কাল খুলে নিজের হাতে,
তাঁর সামনে, যে মন্দিরে স্থির বিশ্বাস দৃশ্যমান!

অপমানের জ্বালা যখন বিরহের কালো মেঘে ঢাকে
আপনলোভী এক ফকির তোমারে হাত বাড়িয়ে ডাকে ।


মৃত্যুর সুন্দর অধিকারে


আজ খুব অভিমান করেছে প্রেমিক চাঁদ
তোমার মতো অভিমানী, তবু
ধীর পায়ে হাঁটছে অন্তমীল স্পন্দিত প্রেম ।
আমার আশার বৃষ্টি অসময়ে মেঘের খুঁটি
ধরে একটি শব্দের মতো এই দূরের আকাশে
ব্যতিক্রম শুধু এখানে,
যেখানে কতো ছায়ার উপর স্থায়ী তোমার ছায়া ।
নড়ছে মাটি, নড়ছে হৃদয়, নড়ছে শব্দরা
কোকিলের গানে উড়াল মারে প্রজাপতি
এখানে মাটির হাড় থেকে ঝরে পড়ছে
মাটির আপন মাংস !
আজ ভাসমান একটি নগর লজ্জিত মুখ
নিজের আঁচলে ঢেকে দুরন্তের পথে-পথে ।
তবুও যে ভালবাসি এতো অভিমান,
তবুও যে ভালবাসি মোমের ঝরেপড়া অশ্রু ।
নিবিড়তার কাছে যে অঙ্গীকার জবান খুলে
হাসে প্রেমময় ঈশ্বর জাগরণে, তাকেই
জীবনের রাজত্বে রানীর মতো প্রতিদিন
সাজিয়ে রাখি মৃত্যুর সুন্দর অধিকারে ।
 


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About