কাব্যগ্রন্থ পাঠ-প্রতিক্রিয়া

মেঘমহিলা একটু দাঁড়াও / তন্ময় দত্তগুপ্ত

তন্ময় দত্তগুপ্তর কাব্যগ্রন্থ ‘মেঘ মহিলা একটু দাঁড়াও’ আসলে দ্বিভাষিক কাব্য সংকলন । সংকলিত আঠাশটি কবিতার ইংরাজি ভাষান্তরও স্থান পেয়েছে গ্রন্থটিতে । তন্ময়ের খুব বেশি কবিতা আমি আগে পড়িনি । আদতে চিত্র সাংবাদিক তন্ময় গদ্যই লেখেন প্রধানত । ফিল্মি দুনিয়া সম্পর্কে এবং চিত্রতারকাদের সাক্ষাৎকার ভিত্তিক ওর লেখালেখি নিয়মিতই প্রকাশিত হয় নানান পত্র-পত্রিকায় । অবশ্য বছর পনেরো আগে তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ ‘লীনার ক্যানভাস’ প্রকাশিত হয়েছিল । গদ্য লেখেন বলে কবিতায় সচ্ছন্দ হবেন না, এমন কোন কথা নেই । কবিতাতেও তন্ময় সাবলিল, আড়ষ্টতাহীন । আঠাশটি কবিতা পড়ে অন্তত আমার তাই মনে হল ।
সংকলিত কবিতা গুলিতে প্সঠক নিশ্চিতভাবেই একটা শূন্যতাবোধের ছায়াপাত দেখতে পাবেন । পাবেন, এবং একাত্ম বোধ করবেন কারণ সেও তো শূন্যতাবোধেই আক্রান্ত । এই সময় শূন্যতা ছাড়া আমাদের দিচ্ছেটা কি ? কবি যেমন বলেন –
“...রাতের শেষে ঘুম ভাঙলে
উধাও মূল্যবোধ
জীবন যখন জরাগ্রস্ত তীব্র শূন্যবোধ” । আর কবি দেখছেন তার সমকালকে এইভাবে -
“তোমার তুমি দিশেহারা
এদিক ওদিক খোঁজ
রক্তবৃষ্টি ফোঁটা ফোঁটা
সকাল বিকাল রোজ” । (‘হারিয়েছে মেরুদন্ড’)
আমরা জানি এবং মানি - কবিতা কবির সমকাল, সমাজ-সচেতনতা, কবির সংসার পরিবেশ তথা একান্ত নিজস্বতাকেও ধারণ করে। যে পারিপার্শ্বিকে কবির যাপন, সেই পারিপার্শ্বে কবি নিজেকে মনে করেছেন ‘বিষাদের বাগান’ আর কবির সত্য-প্রতীতি – “ঘাতকের পোষাক পরেছে সমাজ” (‘নিঃসঙ্গতার চিঠি’) । অতয়েব কবির উপলব্ধি –
“নতজানু হয়ে জীবনে মিলে যায় জীবন
আর আয়নার মুখোমুখি আমি-তুমি
তুমি-আমি সব এক হয় ভয়ের উপত্যকায়
ভেসে আসে, ভেসে ভেস্র আসে
কানে কানে বলে যায় কেউ –
‘তোমার আশ্রয় শুধু তুমি
আর কেউ নয়, কিছু নয়”। (‘বশ্যতা মেনেছি অক্লেশে’ )
তবু, ‘বিষাদের বাগানে’ থেকেও জীবনের সৌন্দর্যমন্ডিত বোধ কবির অধরা থাকেনি। উপলব্ধি করেছেন ‘অনন্ত সুখ চাঁদের গুহায়’ । বলেন –
“আলোর হদিস দিতেই পারি
আঁধার শেষের চাঁদ
চার অক্ষর সাজিয়ে দেবো
ভালোবাসার সাধ” । (‘নরম শীতল পাটি’)
সহজ শব্দে সাজানো তন্ময়ের কবিতাগুলি বেশ সুখপাঠ্য এবং পাঠককে স্পর্শ করবে বলেই আমার বিশ্বাস । গ্রন্থটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী । ৬৪ পৃষ্ঠার পরিপাটি মুদ্রনে কাব্যগ্রন্থটির দাম ৮৫টাকা । প্রকাশক – সংবর্তক প্রকাশনা ।
                                                                - ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়



0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About