কথোপকথন

-তুই গাছ হবি নন্দিনী?
-নাহ্‌, এই বেশ ভালো আছি রে শুভঙ্কর। যেখানে ইচ্ছাই চলে যেতে পারি।
-তুই গাছ হলে, একটা পাখি হতাম আমি, বাসা বাঁধতাম তোর ডালে। রোজ খড়কুটো মুখে করে নিয়ে এসে জড়ো করতাম একটু একটু করে। ভুরু কুঁচকাচ্ছিস কেন? অন্য কারোর সঙ্গে নয়, ধরে নে, একাই থাকতাম সেই বাসায়।
-আর যেদিন সেই গাছের গুঁড়ির গায়ে মানুষের কুঠার এসে পড়তো? টুকরো টুকরো করে কাটত আমায়, তোরই চোখের সামনে? তোর বাসা যেত ভেঙে? সেদিন? সেদিন কি করতিস? দেখছিস না চারদিকে তাকিয়ে কংক্রিটের মহীরূহ গড়তে গাছেরা পড়ছে কাটা? দেখছিস না আমাদের ছায়ার কোনও দরকার নেই ! দরকার নেই আশ্রয়ের !
-মানছি। তবু ভাবতে ইচ্ছে করছে তোর ওই সবুজ শাড়িটা দেখে, তোকে একটা মস্ত বড় গাছ আর তার বুকের আশ্রয়ে আমি একটা ছোট্ট পাখি। ধর, যদি বনের গাছ হতিস?
-অনেক গাছের মধ্যে চিনতে পারতিস আমায়? অন্য কারো ডালে বাসা বাঁধতিস না তো?
-ঠিক পারতাম। তোর গায়ের গন্ধ, তোর আঁচলের খসখসানি ওই সব আমার চেনা।
-আর যদি বন কাটতেও হাজির হত মানুষ? অথবা জমি দখল করতে আগুন লাগিয়ে দিত বনে? ধূ ধূ রাঙা আগুনে পুড়তে থাকতাম আমি সঙ্গীসাথীদের নিয়ে নিঃশব্দে। তুই কি ডানা মুড়ে বসে থাকতিস শেষপর্যন্ত? একসঙ্গে ছাই হওয়ার জন্য? কেমন জানি বিশ্বাস হয় না।
-থাকতাম।
-আর তারপর মানুষের খবরে কি বলত জানিস?
-কী?
-দাবানলে মৃতের সংখ্যা শূন্য।

2 মন্তব্য(গুলি):

subir roy বলেছেন...

বক্তব্য খুবই ভালো, কিন্তু আমি ঠিক কবিতা বুঝি না। তাই কবিতা হিসাবে কতটা ভালো লাগলো জানি না, কিন্তু লেখাটা চমৎকার।

Damayanti Dasgupta বলেছেন...

কবিতা পাঠকের মন ছুঁয়েই কবিতা হয়ে ওঠে। আপনার ভালোলেগেছে এইটাই খুব ভালোলাগল আমার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About