দিনলিপি 

বাতাসের স্থবির যন্ত্রণা আর প্রশ্নচিহ্ন শরশয্যা পেতেছে সাগ্রহে 
মাতাল ফিঙেরা এসে চুমু খায় পূতিগন্ধ মাছির শরীরে
 
রোদ ঠিকরিয়ে পড়ে পালকের দাম্ভিক কার্নিশে
 
অথর্ব দাঁতের রেখা রেখে যায় কাঁধে ও চোয়ালে
ক্লান্ত জরায়ুর শ্বাস জানালায় ভেঙে পড়ে অস্থির বিশ্বাসে
 
দেওদার গাছের ছায়ায়। সপ্রতিভ গ্রীষ্মকাল ঘর্মাক্ত শরীরে নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলে ।
 
ভগ্নাংশে বিকীর্ণ সব প্রতঙ্গের বর্ণনা বিস্তার
 
পাংশুটে বিকেল কথা মেঠোসুর হয়ে মিশে যায়
 
বাউন্ডুলে পথের দিশায় . . .

চাঁদের গভীর খাতে জমেছে পরতবদ্ধ দুর্গন্ধ গাজন 
নেশাতুর বিকিরণ অনিশ্চিত বৃষ্টির বিলাশ
 
নোনা আঁচলের রেশ রূঢ়তর ষড়যন্ত্রী মেঘে
 
ইন্দ্রধনু গরহাজির , দিগন্তের ম্লান বৃত্তে বিবর্ণ গোধূলি
 
বিকেলের ঘুম ভেঙে মমির নিয়ত ঘুমে জেগে ওঠে তুতেন খামেন
সাহারার ঘ্রাণ নিয়ে নীলনদী বাণপ্রস্থে অভিসারে চলে।।

এখন ঘুমাতে যাব
তার আগে লিখে নেব ভোর থেকে এই অবধি খণ্ড ক্ষুদ্র স্মৃতি ও ঝঞ্ঝাট
 
সহজ জলের ঢোকে গিলে নেব ছকে লেখা ঘুমের বড়িটা,
 
বালিশের সন্তুলিত উচ্চতায় মেরুদন্ড সমর্পণ করে
 
ডুব দেব নিমঘুম স্বপ্ন খোঁজায় ।
 
স্মৃতি বড় প্রতারক তাই
কালকের সকালও রোদ্দুরে
পায়ে পায়ে চলার ইচ্ছাও।
 

ঐকান্তিক

জানিনা তুমি ঝরনা ছিলে কিনা,

মেঘ ছিলা কিনা তুমি, 
অথবা হাপুস ভেজা শ্রাবণের বৃষ্টি ।
কিজানি তুমি শরতের উদাসীন পথের একতারায় হেমন্তের সোনাঝুরি আশ্বাস অথবা    
পলাশ পলাশ ফাল্গুন ছিলে কিনা ।
তবে তুমি পাইন-পাহাড়ে চিরসবুজ হবার প্রেরণা
থেকেছ
তার ছায়ায় দোচালা ঘর
তার পাশ দিয়ে ছুঁতে গিয়ে শ্রাবণের মুখর আর তার
শেষে গিয়ে আপনগন্ধ বন ও সোনালী সমতল হয়েছ 
এক একটা চাঁদ ধোঁয়া রাতের শেষে অজস্র কবিতায় মল্লিকা মাধবীর মালবিকার গল্প হয়েছ অকপটে ।
অনিঃশেষ ব্যপ্তিতে বিকীর্ণ  হয়েছি


জানিনা তুমি অপরূপ কিনা
জানিনা তুমি অপ-রূপ কিনা 
তবে তুমি আমার তন্নিষ্ঠ সত্তায় শব্দোত্তর আচ্ছন্নতা 
অজান্তে অথবা অবচেতনে বলে ওঠা উচ্চারণ
“আমার প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির অভিপ্রেত যোগান্তক কাম্যতা তুমি     
 
স্বগতোক্তি প্রশ্নচিহ্ন আঁকতে থাকে
মনে হয় সবটাই সত্যের অপলাপ
আর সব কিছুর শেষে একগুচ্ছ সাদাপাতা- একটা সীমাহীন নীল দূরত্ব ।

তবুও
তবু মনে হয় এ সব না থাকলে 
গ্রীষ্ম স্বেচ্ছাচারী হবে
শ্রাবণে থাকবে এক নাগাড়ে বন্যার হাহুতাশ
হেমন্ত প্রৌঢ় হবে নিমগ্ন ধূসরতায় 
বিপর্ণ বন আনবে বসন্তের নিস্তব্ধ বিস্মৃতি।

তোমার প্রকৃতি ও প্রত্যয়ে নীরবতা বেমানান
নিরপেক্ষ মাটিতে কান পেতে আছি 
এভাবে বিলীন হব হয়ত  ঘাস ও মাটিতে ।
তবুও আশাবাদী অন্তত এক তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম্পনেরঃ  
তোমার সপ্রতিভ চলার
তোমার অনিরুদ্ধ বলার। 

আর ততদিন আমি প্রতিশ্রুত একতরফা স্বেচ্ছাবন্দী ।।
 



0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About