নিখিলেশ ও আরতি
দোতারার তারে ঘুমিয়ে থাকে শিশুরা
ঘুমন্ত ঠোঁটে সমাধির মতো যাপিত কলহ
সারারাত ভিজে ভিজে বাড়ীদের একা থাকার মতো
এক বিন্দু ঝড় ছুঁয়ে থাকে কারো
  ময়ূরী চোখ
এমনি ভেজা সময়ে, শহরের টাওয়ার গুলো
পাখিদের অপেক্ষা করে
আজ ফিরে তাকালে, নিখিলেশ !! 
এই তাকানোয়
 
হাত থেকে নেমে আসে অমাবস্যা,
লুকনো সৌরজগৎ, কৃত্রিম উপগ্রহ সন্ধ্যা
নিখিলেশ তুমি আরতিকে খুঁজছিলে
যদিও হেমন্তের মেঘলা মাঠের মতো
তার এতো কাছাকাছি বসবাস
 
বহু অন্ধকারে সে তোমায় নিয়ে যাবে
এমনি নাকি কথা
  ছিল...
আরতি আমার বন্ধু,  কলেজবেলার
নিঃসঙ্গ বেতার কেন্দ্রে আমাদের কথা 
জোনাকির পাখা হয়ে জেগে আছে
দলে দলে, ঝরে ঝরে
আকাশের আলো স্নানের কাপে ভরে নিয়ে
বিন্দু বিন্দু চুমুক দিই, ঘাম হয়ে ঝরে পড়ে নীল
বিসর্গের এই বহুল ব্যবহার আমাকে ভেজায় না
শুষ্ক জোয়ারে জীবিত এক নদী
  বয়ে যায়
নক্ষত্র মেখে পরে থাকা সুঠাম সেতুর
ডুবুরী বুকের নীচে
 
আরতির গ্রীবায় সুস্পষ্ট বিকেলের রোম রাশি রাশি
শহর ঘিরে ঘিরে দোকানীরা কেবল ছায়া বিক্রি করে
সার সার গাছের পাশে রাখা আছে
আমার আর আরতির ধুলো মাটি রস কষ আসন্ন যাদুবেলা
ঘুমঘোরে এতো কোলাহল করে
কেন যেন আসে স্বপ্নেরা
চেয়ে থাকা অন্ধকার নীরব হয়ে যায়
পোশাকে শরীর ঢেকে রাখা পাপড়ির মতো
ঘুমেরা আমায় ঘিরে জেগে উঠে অস্পষ্টতায়
নিখিলেশ আজকাল বিদ্যুৎ তাড়িত
আরতি আরতি করে তার ডেকে যাওয়া
তরঙ্গের মতো অলৌকিক
আরতি, বল তোর এই অশরীরী বসবাস কবে শেষ হবে? 
আমি যে আর পারি না ...


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About