চারিদিকে এত রক্ত কেন
(প্রিয় বাংলাদেশে নিষ্ঠুর হত্যাকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে)

চারিদিকে এত রক্ত কেন
রক্ত দিয়েই কি আজ রঙ ভোর আকাশে নরম কমলা! 
প্রিয় সোনা-মোড়া সবুজের দেশ
এখনও কি হবেনা কো বলা
অনর্থক মৃত্যুময় এইভাবে বাঁচা!  
রক্তেই মুছে দেবে গোয়ালপাড়ায়
সদ্য জন্ম বাছুরটার স্তন্যপানটুকু?
গেছুয়া লক্ষ্মণের পেড়ে আনা ডাবের অপেক্ষায় 
দেখো দাওয়ায় জিরোয় ঝুঁকে পড়া বৃদ্ধ মোহসীন চাচা-    
বড় তেষ্টা পেয়েছে
তার জন্যও সবুর সইবে না কো!
প্রশ্ন কর ওই ওদের, কেড়ে নাও হাতিয়ার
এইবার অন্ততঃ রক্তবীজ হয়ে ওঠো শান্তির দূত লাখো লাখো। 

কি বলছে ওরা?
অস্ত্র ধুতে ধুতে মাতৃসমা নদীটির বুক
করে দেবে লাল?
সন্ধ্যেয় রাঙ্গিয়ে দেবে আজানের সুর
রক্ত ছিটবে বৃদ্ধা রাঙ্গাপিসীমার থানে,  শ্বেতশুভ্র শাঁখে
পবিত্র ঈদ অথবা দেবীর পূজায় আজকাল!

চারিদিকে এত স্তব্ধতার আওয়াজ কেন
ধর্ম কেন ক্রমাগত লিখে চলে মৃত্যু পরোয়ানা
চূড়ান্ত সর্বনাশী অন্ধকার ডাকে
কঙ্কালমিছিল আর লাশেদের জমে ওঠা ভিড়ে   
এ কোন উদ্দীপনা!

চারিদিকে এত শূন্যতার ভিড় কেন
যে বা যাহারা চটচটে খুনের ফোয়ারায়
বারবার  স্নান করে নিষ্পাপ হয়ে নিতে চাও
জেনে রাখো ইতিহাস লিখে রাখে সময়ের কথা
মহাকাল দুন্দুভি বাজায়,   
মুখোমুখি হও নিজস্ব সত্ত্বার আয়নায় একবার
নির্দোষের হত্যা, নয় কোন মনিষীর উপদেশ 
সে ধর্ম ধর্ম নয়
সেই পাঠ উন্মাদনার।

ফিরে এসো, ফেরাও সম্বিৎ
ভেবে দেখো তোমাদের শৈশবেরও আগে
মহাপুরুষেরা লিখে গিয়েছেন কথা
ভালোবাসা মমতার মহান বারতা
আর কোরনাকো অপমান তাঁকে
কালচে খয়েরিতে ঘাস আর যেন রঙ না হারায় 
ইছামতী পারে, পদ্মার তীরে
একদার মনুষ্যত্ব এখনও তো বাস করে থাকে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About