বেলা বোস

বেলা বোস কেমন আছ ?
বেলা আমি চাকরী
পাওয়ার পর তোমাকে কত বার
ফোন করে জানাতে চেয়েছিলাম 
তোমার বাড়ীর কেউ ফোন টা ধরেছিল
তাকে কত রিকোয়েস্ট করেছিলাম,
তোমাকে ডেকে দেওয়ার জন্য
কিন্ত্ কেউ ডেকে দিল না 
তুমি কি বাড়ী ছিলে না ?
আসলে কি জান ?
আমি তখন যৌবনের দ্বিতীয়
পাওয়াতে উচ্ছল 
যদি বল দ্বিতীয় কেন ?
কারণ আমার প্রথম পাওয়া তো
শুধু তুমি তুমি তুমি 
তাই তোমাকে জানাতে গিয়ে
ব্য্র্থ হয়ে, বহু কষ্টে বুকে নিয়ে
চাকরীতে জয়েন্ট করলাম
শ্রীরামপুর জুটমিলে
ডিউটি ছিল বড় বেয়াড়া,
অফিসের মতো দশটা পাঁচটা নয় 
শিফিটিং ডিউটি ছটা ,দুটো, দশটা 
তা হোক তবুও তো
তোমার আমার স্ব্প্ন্ সার্থক হবে 
সেই আনন্দে ভরে আছে মনটা 
কসবার সেই ভাড়া বাড়ীটা কে ছেড়ে
তুমি আমি মিলে গড়ব সোনার সংসার 
আমি যাব অফিসে , তুমি আমার
টিফিন ব্যাগে দেবে ভরে 
আমি বলব তাড়াতাড়ি কর
এখনই  ভোঁ বাজবে কলে 
তুমি তখন বলবে হেসে
তোমার কি হবে গো আমি মলে 
আমি তখন খুব রেগে
ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে চুম্ব্নন দিয়ে কপালে
আর কোন দিন এমন কথা
যেন না শুনি এই দিলাম বলে 
কিভাবে যেন কয়েক দিন
গেল কেটে 
আমার কাছে তোমার ফোন নং
বাড়ীর ঠিকানা কোনটাই ছিল না 
মনে আছে বেলা
আমি তখন ইতিহাসের
শেষ বর্ষের অর্নাসের ছাত্র 
সে দিন ছিল সরস্ব্তী পূজার দিন,
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে বাসন্তী দেবী
কলেজের সামনে 
বাসন্তী রং এর শাড়ী পড়ে
এলো চুলে 
ঠিক যেন বেদী ছেড়ে জ্যান্ত সরস্ব্তী
পথের উপরে দাঁড়িয়ে 
আমি আনমনে তোমার রুপে
হারিয়ে চলতে গিয়ে,
সব যেন কেমন যায় গুলিয়ে 
হঠাৎ তোমায় বলে ফেলি
আপনাকে না দারুণ লাগছে 
তুমিও অবাক হয়ে
মৃদু হেসে  বি বাসে উঠে
গেলে চলে 
তারপর প্র্তিদিন কেমন করে
তোমার প্র্তীক্ষায়
কটা দিন গেল কেটে 
হঠাৎ আবার দেখা তোমার সাথে 
সেই কলেজের গেটে 
তুমি এগিয়ে এসে বললে আমাকে
কি ব্যাপার? কোথায় ছিলেন এতদিন ?
আমি থতমত খেয়ে বিষম খেয়ে
আমতা আমতা করতে থাকি 
তখন তুমি বললে আর
কৈফিয়তে কাজ নেই 
প্রোয়জন মনে করলে,
বলে একটা চিরকূট দিলে
হাতে ধরিয়ে দিয়ে
আস্তে আন্তে সামনের দিকে গেলে হেঁটে 
আমি চিরকুট খুলে দেখি
তোমার বাড়ীর ঠিকানা আর ফোন নং 
সে সব কবে কার কথা 
তারপর কতদিন শস্তার
কেবিনে হাতে হাতে রেখে
তোমার আমার লাল নীল
স্ব্প্নে ভেসে চলা 
কোনদিনই তোমার বাড়ী যাওয়া
হয়ে ওঠেনি  ফোন নং টাও ব্য্বহার
করা হয়নি ,কারণ ওটার
ব্যবহার তখন এত দামী 
তুমি তো জান ছাত্র পড়িয়ে
কত আর পাই ? তাই প্রথম
চাকরী খবর পাওয়ার পর
তোমাকে ওই ফোন করা 
তাও কোন উত্তর পেলাম না 
ফোনের ওপারে শুধু নীরবতা 
সে দিন হঠাৎ , কিসের জন্য মিলে
তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেল
ভাবলাম তোমার দেওয়া
চিরকুটটার ঠিকনায় গিয়ে
একবার খোঁজ নিয়ে দেখি 
নিজের মুখে সুসংবাদ টা
দেওয়ার লোভটা সামলাতে
পারলাম না  আর তা ছাড়া
মনের গভীরে একটা প্র্শ্ন্ ?
কেন তোমার এই নীরবতা ?
সেটাও জানা হবে 
এই বলে কলকাতা দিলাম পাড়ি 
এই যে দাদা,  নং হরি চরণ ঘোষ লেন টা
কোন দিকে বলতে পারেন ?
সামনের বাঁ দিকে ঘুরে
ডান দিকের তৃতীয় বাড়ীটা 
বাড়ীর সামনে
...

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About