ছিদ্র

আমরা আমাদের কবর
নিজেরাই খুঁড়ি
আমরা নিজেরাই পোড়াই
আমাদের মৃতদেহ।

কেউ কী বলতে পারো
মানবিকতা সে কেমনতর?
ওই সত্য-সেটা আবার কী?

আমরা নিজেরাই ছিদ্র করি ওজোন স্তর
আর আমন্ত্রণ জানাই মহাজাগতিক রশ্মিকে
-ত্বকের ক্যান্সার,
-রোগ,শোক।

যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ শেষ
এবং তারপর শুরু হয় অন্যরকম যুদ্ধ
ইতিহাস পালিয়ে যায় বিজেতার হাত ধরে;
কেউ কী বলতে পারো মানবিকতা কেমনতর

"অর্থ" যখন সবকিছু  মাপার মাপকাঠি
তখন আমরা প্রত্যেকেই
প্রত্যেকের নিজের ছিদ্রে আঙ্গুল রাখি।

সত্যের ছিদ্র দেখে
মিথ্যা একাকী হাসে-
মিথ্যা, সে জানে সে ব্যভিচারী নয়।








শুক্রবার
-----------------
আকাশ জুড়ে মধ্য যৌবনের সূর্য,
নির্জন দুপুর।

জুমার নামাজ শেষ
ঘরের পথে মানুষ।

যে বাড়িটি নতুন রং করা
তার দরজায়
লম্বা,দীর্ঘ পান্থপাদপ
একদম অপ্রয়োজনীয়।

ফেরিওয়ালার সুললিত কন্ঠ
দুপুরের
বাড়তি নির্জনতা বয়ে বেড়ায়।

রান্না শেষের ঘ্রাণ জাগ্রত করে
জারক রসকে।

পড়ে থাকা খবরের পাতায়
গড়াগড়ি খায়
মানবতা দরদী মানবতার ব্যবসায়ী সংগঠন।

৩০/১০/২০১৫













দ্বৈত জীবন
----------------------
জীবনের অনেকটা পথ কাটিয়েছি
আমরা দু'জনে
সংসার নামক ভেলায়।
আরও পথ দেবো পাড়ি-আমরা,
একসাথে।
আর চলার এ অমসৃণ পথে,
কি দিয়ে দোবো তোমার তুলনা।

যে ঘ্রাণ ভেসে আসে নিশিথে
কোন ফুলের ঘ্রাণ?-চাঁপার!
টুপটাপ ঝরে পড়া শিউলির মত
চুপচাপ দেখি
এই পৃথিবী।

যে কষ্ট,যে দুঃখ তুলে ঝড়
চলার পথে-দু'জনার
শান্ত মন-শান্ত তুমি
বয়ে চলো তরী
নির্ভিক,নির্বাক!

জীবনের অনেকটা পথ
কাটিয়েছি দু'জনে, সংসার নামক ভেলায়
আরও পথ দেবো পাড়ি
জানি।

আর আমি?
যেন কবর থেকে উঠে আসা হতাশ বাতাসের কান্না,
কিম্বা নৌকার ভাঙ্গা মাস্তুল,
অথবা বলতে পারো,খোলসহীন কোন প্রাণী
যার পথে ওঁত পেতে আছে
সুদক্ষ কোন শিকারী।

সূর্যের আলোয় ঝকমক করতে থাকা ক্ষেত
নিশিথে কেমন ম্লান,
কুয়াশায় যেমন ঝাপসা দিনের সবুজ ক্ষেত
ঠিক তেমন বর্ণহীন সময়
পাড়ি দেই আমি
নিসঙ্গ;একাকী
এক ভুলে ভরা রাতে।

২৭/১০/২০১৫
শ্রী হীন
---------------
এই ঘরে
কেমন ভ্যাপসা ঘ্রাণ; সবকিছু এলোমেলো
বিছানায় পড়ে আছে ম্লান আলো
ঘরের কোনটিতে ধূলোদের  রাজত্ব
দড়ি হতে ঝুলে পড়ে কাপড়-নিসঙ্গ।

এলোমেলো সবকিছু
এই ঘরটিতে
যেমন শ্রী হীন মৃত গাছ,
চাপাপড়া ঘাস,
ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধানো ঘাট,
নোংড়া উঠোন।

ঘরে ঢুকতেই কেমন একটা ঘ্রাণ
ধাক্কা মারে নাকে

যে ঘরে নারী নেই
সে ঘরে কোন শ্রী নেই।

২৭/১০/২০১৫











রাত বারোটায়
------------------------
ঠিক বারোটায় বেজে ওঠে
ঘন্টা
শীতের নীরবতাকে ভেঙ্গেচুরে।
ঠিক সেই সময় কুয়াশা ঢেকে দেয়
এই শহর-
দিনের ব্যস্ত শহর ।

ঠিক বারোটায়,ঘন্টা বাজা শেষে
পুনরায় নীরবতা আসে নেমে।

ঠিক সেই সময়,কেউ বা আছে
গভীর ঘুমে
কেউ বা স্বপ্নের দেশে।

ঠিক বারোটায়,কোন নবদম্পতি ব্যস্ত শরীরী প্রেমে
মনের আগে শরীর চেনে
শরীরকে।

ঠিক বারোটায়,ঘন্টা বাজা  শেষে
কবিতা কি সুন্দর ভাবে এগিয়ে চলে।

ঠিক বারোটায়, ঘন্টা বাজা শেষে
কেউবা প্রবেশ করে
দুঃস্বপ্নের দেশে।

ঠিক বারোটায়, ঘন্টা বেজে উঠে।

২৪/১০/২০১৫
তোমায় ভালবাসি
----------------------------
আমি তোমায় ভালবাসি
যেমন রাত ভালবাসে নীরবতাকে
যেমন যমুনার প্রবাহ ভালবাসে সময়কে
ঠিক তেমন।

আমি তোমায় ভালবাসি
তাই মৌমাছি ব্যস্ত মধু সংগ্রহে
তাই লজ্জাবতী এমন স্পর্শকাতর
তোমার কোমল স্পর্শে।

শীতের কুয়াশায় খোলা প্রান্তর
ঢেকে যেতে যেতে
দেখে নেয় তোমার লাজুক হাসি
আনন্দে পাখা মেলে রাতজাগা পাখি।
ব্যস্ত শহর একটু হাফ ছাড়ে
আমাদের ভালবাসা দেখে;
আর সাতমাথায় মানুষের হৃদয়ে জমা ভালবাসা
ছটফট করে।

আমি তোমায় ভালবাসি
তাই মহাস্থান গড়ে  জমা হয় মানুষ
করোতোয়ায় ডিম পাড়ে মা কচ্ছপ
ডিমে ভরা রুপালী ইলিশ চকচক করে।

আমি ঘুমিয়ে পড়ি,আর স্বপ্নে হানা দাও তুমি
আর ঠিক সেই সময় তোমায় বলি
আমি তোমায় ভালবাসি
আর সে ভালবাসায়
রাতের মশারা গান করে
মশারীকে ঘিরে।

আমি তোমায় ভালবাসি
তাই রাত বাড়ে
আর প্রতি প্রহরে কুহক ডাকে।

২৭/১০/২০১৫


২৮/১০/২০১৫


একটি চুম্বন ও অন্যান্য
-----------------------------------------
তোমার  উষ্ণ  ঠোঁটে আমার ঠোঁট
আর রক্তনালীতে বয়ে চলে জ্বলন্ত স্রোত
ধীরে,খুব ধীরে
পৃথিবী দুলছে।
জিহ্বায় স্পর্শ করে অমৃত
মস্তিষ্কে কালবৈশাখী
- আকাশে ঝড়ো হাওয়া।

তোমার  উষ্ণ ঠোঁটে আমার ঠোঁট
আর অনুভব করি তুমি কিভাবে গলে যাও
মিশে যাও
আমার উত্তপ্ত রক্তস্রোতে-
কিভাবে প্রস্ফুটিত হয় গভীর ভালবাসা
আর দেখি শরীরের জেগে উঠা

সে এক অনাবিল আনন্দ গাঁথা।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About