একলা                                                 

একলাই বেঁচে থাকা যায় পৃথিবীতে
অন্য কারো প্রয়োজন নেই
একলা তো মহাশূন্যে একা থাকা নয়-
আমার সঙ্গে আছে মাটির পৃথিবী
ভরপূর ধরণীর প্রাণের সম্ভার
আমার চতুর্দিকে পতঙ্গ ও কীট-
রঙিন প্রজাপতির পাখা-
ধুলো বালি মাটি ও পাথর
গাছের তলায় ঝরা পাতা ও শুকনো কাঠি
সবুজ হলুদ ঘাসে টুকরো টুকরো ইট-
শূন্যগর্ভ পলিথিন ব্যাগ-
এক মনে ঘাস খাওয়া ছাগলছানাটি-
অজানা উৎস থেকে ভেসে আসা কটু গন্ধ
মৃদু-মুরগির দানা খুঁটে খাওয়া-
জিভ বের করা কুকুরের
লেজ তুলে দুলকি চালে যাওয়া –
জড়ো-করা বাঁশের ডগার পাশে জঞ্জালের স্তুপ-
প্রাচীরের গা-ঘেঁষে বেড়ে ওঠা আগাছার ঝোপ-
টালির ঘরের ধারে বড় গাছে থোকা থোকা ফুল-
পথের বাঁকের কলে চান করে ন্যাংটো ছেলের 
টাটকা জল ছড়াতে ছড়াতে ছুটে যাওয়া-
সবুজ পাতার ভিড়ে নতুন পাতার কচিমুখ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের কলকোলাহল-
ঝিরিঝিরি রোদ আর দলবদ্ধ গুপ্ত ঝিঁঝিপোকা
কুয়োর ভেতরে থির জল আর
আধখোলা দরজা দিয়ে বাতাসের অবাধ প্রবেশ-
প্রস্থানবৃষ্টির শেষে নীল ক্যানভাসে ফুটে ওঠা
সাতরঙ্গা ইন্দ্রধনু আর কাঁচা পথে অফুরন্ত
কাদাভাঙা ছাতা সঙ্গে আছে
আর আছে দু’পায়ের পাতা
আলো আছে –আছে অশ্রুজল
শিশিরের আয়নায় সূর্যের স্মিত চাঁদমুখ
আমি তো একলা নই-আমার সঙ্গে আছে                 
চেনা ও অচেনা বহু টুকরো টুকরো আমি।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About