শেষবর্ষায় রবির সঙ্গে

বর্ষা আমাকে দাও সংগোপনের শঙ্খজল
প্রাচীন পূঁথির অপরিচিত অক্ষরের ঘনমেঘ
দিও শ্রাবণের শয্যা,সন্ত্রাসের মরুবালক 
তাকে দেবো আমি অনিবার মাতৃদুগ্ধ 
আমার শিয়রে শষ্যক্ষেত, নিরাশ্রয় চুম্বনের ভীড়
তারা পেরিয়ে এসেছে পূন্যাহের রাত, বহুগামিতার আষাঢ় অঝোর অঝোর
বরিষণ শেষে সেজেছে আজ নৈবদ্য,
পুষ্ট ফসলের গোছা,মুছে গেছে রাত্রি কালো 
ঘুমিয়েছে আমার পুকুর,উপচানো জলে 
জেগে আছে  পূর্বপুরুষের পিন্ড গেলা,মাছের দল
আমার চোখে খুঁজে নিতে চায় আত্মার অসমকথা 
আমাকে দিয়ো বৃষ্টিধোঁয়া,জুঁইগন্ধ,
আমি মুছে দিতে চাই সেই  মৃত্যুরঙ     
এসো বর্ষা ঝরো বার বার আমার রবিগহনে
বাগেশ্রীতে দিও ভাসানের প্রেম
দুরন্ত হই বার বার যেন,তারপরে নিভে যাই শেষমেঘে
বিরহ মাটিতে ফুটে ওঠে তখন  পদ্মবন, খোলসহীন সুগন্ধি সাপ
আবার এসো রবি, খোলা গীতবিতানে আমার ঘরবাড়ি
তব সুধা, দিনের প্রতি প্রেমে, সংশয়ের নিবিড় দুপুরে
শরীরে ঘন হয়ে থাকা বর্ষা গাছ,
পাতা ঝরে ঝরে উর্বরা আমি, রক্ত, মাংস, দ্রোহে
চুরি গেছে পৃথিবীর যাবতীয় হীরকখন্ড
লুকায়েছে আমার দেহের খনিজে
জন্মাচ্ছি আমি, তাদের সঙ্গে একটু একটু করে
বিপদসীমার নদী নিয়ে গেছে সব বিষ, সন্দেহ, শ্লেষ আর বিষাদ 
আমার জন্য রাখো পৃথিবী 
দুখানি কর্মঠ হাত, দু পশলা প্রগাঢ় বৃষ্টিপাত...


1 মন্তব্য(গুলি):

nivedita ghosh বলেছেন...

mon chuye gelo

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About