ঈশ্বর কৃষক বা প্রেমিকের জবানবন্দী

সিঁড়ি বেয়ে ওঠে মশাল মুখের আগুন।
জি প্লাস থ্রিয়ের ফার্স্ট ফ্লোরের দরজা,
টোকা চেনে, গভীর চেনে ছোঁয়ায়,
প্রবেশ খুলে নত হয় আলোর উৎস, নদীর তিরিতিরি।
সহস্র জানলা যে ঘরের অবাধ আয়না,
সে প্রতিফলনে বৃষ্টিতে ভেজা খাট উন্মাদ ছটফট।
এ ভাবেই বিকেল জুড়ে প্লাবন  প্লাবন  ঘূর্ণি হাওয়া।
বজ্র মুঠি, চুম্বন লতি, চেনে রান্নাঘরের
 চুড়ির আওয়াজ, তাপ, বাষ্প নিশ্বাস।
বোগেনভোলিয়া বারান্দায় গোলাপী নেশা চাগিয়ে উঠলেই
এসো ফাঁকা টবে বীজ পুঁতে দিই।

আর দুহাতে মাখামাখি হোক মাটির গন্ধ।


বর্ষণের ফলে

আমাদের শহরের সব ভালো,
কিন্তু যেদিন ঝেঁপে বৃষ্টি হয় একটানা,
সেদিন ঝাপসা হয়ে যায় দূরের বহুতল।
বেপরোয়া মোটরগাড়ি গুলো ধীরে সন্তর্পণে,
ঢেউ ভেঙে ভেঙে স্টিমারের মত চলে।
জলনিকাশি পাম্পগুলো সব,
অকেজো হয়ে যায় আচমকা, আর
ম্যাজিকের মত ভ্যানিশ হয়ে যায় বাস ট্রাম।
বাস স্ট্যাণ্ডে পাশাপাশি বেমালুম দাঁড়িয়ে পড়ে,
হাত নাড়ে, বিড়বিড় করে হারু পাগলা
এবং ট্রাফিক পুলিশ।
পাঁচিল ধসে পড়ে কবরখানার,
লাগোয়া বস্তির হাঁড়ি পাতিল ভেসে গিয়ে,
আঁটকে যায়, বিদ্যুতের তার গলায় জড়িয়ে -
পড়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছে।
চোঙাপ্যান্ট অফিস বাবুরা
ভিজে যায় ছাদে টাঙানো কাপড়ের মত উবুড় চুবুড়।
এসব দিনে তক্তপোশের উপর উঠে বসাতেই আনন্দ আমাদের,
অন্ধকারে ভূতের মত বসে থাকাই উল্লাস,
ভাটির মত জ্বলতে থাকা চোখে আমরা
ঘোলা জলে ভাসতে দেখি কোমর।

আর ভাবতে থাকি,
কি করি আমাদের এই নির্বাক
উল্টে যাওয়া ছাতা গুলো নিয়ে।
কী ভাবে শুকাই আমাদের আহত চোখ,
কোথায় লুকাই বজ্রবিদ্যুত সহ,
নিদ্রাহীন অনন্ত রাতের গর্ত আকাশ।

সেদিন সেই মুহুর্তকাল জুড়ে,
হাতের নাগালে মোমবাতি পেলেও,
ভিজে দেশলাই ধরাতে আমাদের কালঘাম ছুটে যায়।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About