কে তোমায় চিনিয়েছে রাত

এক সময় তোমার কাছে রাত মানে ছিল ঘুম,
রাত মানে ছিল টিভি সিরিয়ালে চোখ,
রাত মানে অশরীরী চুপ,
ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভূতের কোরাস শুনে শুনে
শরীরের কোজাগরী শোক।

এখন রাত মানে ফিসফিস কথা,
ভালবাসা, ছুঁয়ে থাকা,
রাত মানে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলা
রাত মানে নাভিমূল থেকে জেগে উঠা নাভিপদ্ম জুড়ে প্রপতিত ঢেউ।

এবার তুমিই বল, রাতকে রজনী করে কে দিয়েছে উপহার তোমায়?
কে তোমায় দিয়েছিল চাঁদ, জোছনা ভিজানো ফুটফুটে ঘুম?
শিশিরে শিশিরে হাত কে দিয়েছে এঁকে?
বল কে তোমায় চিনিয়েছে রাত?

এই আমি।

ফুলতাত তোমার চোখে
তোমার ঘুমের মুহুর্তগুলো ওষ্ঠতিলকে
যে দিয়েছে ভরে?
সে তো আমি।

অন্ধকার ভালবেসে
যে তুলেছে ঠোঁটে তোমার বিষবতী ফনা?

সেও আমি।

শরীরের ঘরে ঘরে যে তানপুরা কেঁদেছিল সুরে,
তাকে গান করে
যে দিয়েছে ছড়িয়ে বাতাসে বাতাসে, সে আমি।

এই মিহি সুর
এই খরতাপ
উচ্ছাস
ঢেউ
বাঁধভাঙা সৃষ্টির ভাঙন ছুঁয়ে
পূর্ণিমা জোয়ার,
যে দিয়েছে তুলে
করতলে
বিচিত্র আঙুল, সরোজ, সেতার।

সেও আমি।

অন্ধকারে পাঠিয়ে সংকেত
যে তোমার জাগিয়েছে শ্রাবণ শরীর,
উত্তালে ভাসিয়েছে গা,
তোমার সমুহ ঢেউ বুকে করে কেটেছে সাঁতার,
ভাসিয়েছে অস্থির শ্রাবণে সে-ই আমি

তোমার মোহন বাঁশরী?
ভালবাসা অদৃষ্ট যাই বল, আমি।
আমি মানে কোজাগরী রাত
আর তুমি সর্বস্ব আমার।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About