বিন্দু ছাড়া বিসর্গ – সৌম্যজিৎ আচার্য

চল্লিশটি কবিতা নিয়ে সৌম্যজিৎ আচার্যর সাম্প্রতিক কবিতা সংকলন ‘বিন্দু ছাড়া বিসর্গ’ পড়লাম । মুদ্রিত বই নয়, ই-বই । ঢাকারবাংলার -বই.কমনির্মাণ বা প্রকাশ করেছে সৌম্যজিতের ই-বইটি । এই সময়ের বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে সৌম্যজিৎ খুব নবীন নয়, বরং পরিচিত নাম । ইতিমধ্যে কিছু পুরস্কারও পেয়েছেন । সে সব বৃত্তান্ত লেখক পরিচিতিতে সন্নিবেশিত হয়েছে ।

          কোন কবিতারই পৃথক কোন শিরোনাম দেননি সৌম্যজিৎ । আসলে লেখাগুলির পৃথক কোন শিরোনাম দেওয়াই যায় না । সংকলনের কোন কবিতাতেই কোন নির্দিষ্ট বিষয়েইয়েরদেওয়ালে আটকানো যায় না । পাঠক পাবেন মনে রাখার মত বেশ কিছু শব্দ,  আর সেই সব শব্দের ব্যঞ্জনায় খন্ড খন্ড চিত্রকল্প নির্মাণ করেছেন সৌম্যজিৎ । আমরা - আমাদের তরুণ প্রজন্ম এক অদ্ভুত সময়-সংকট পার হচ্ছি অথবা বলা ভালো আটকা পড়ে আছি, আমাদের দৈনন্দিন যাপন ও আচরণের সর্বাঙ্গে ক্লান্তি, সংশয়, গ্লানি আর শূন্যতার ছায়া । সৌম্যজিৎ এই সময়ের কবি । তার কবিতায় এই সবেরই ছায়াপাত ঘটেছে ।

         বলে রাখি, এই সংকলনটি পড়ার আগে সৌম্যজিতের খুব বেশি কবিতা আমি পড়িনি । জানতে চেয়েছিলাম তার কবিতার কাছে আসার কারণ কি ? জানিয়েছে ‘কষ্ট থেকেই তার কবিতার কাছে আসা’ । আমাদের মধ্যবিত্ত যাপনের, আচরণের  নানান বিসংগতি, বৈপরিত্যের খন্ড খন্ড ছবি ‘পরবাস্তব’ শব্দের বিন্যাসে উঠে এসেছে । সংকলনটির ভূমিকায় যশস্বী কবি যশোধরা রায়চৌধুরী বলেছেন “রাস্তার ভাষা আর সুর রিয়েল সময়ের সন্ত্রাস মিলে মিশে যায় তাঁর কবিতায়” । হয়তো তাই।  সময়ের নানান পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে তার কবিতায়, এবং ক্রোধও - অসংযত একক ক্রোধ । সংকলনের ৫নম্বর কবিতায় কবি লেখেন -

“ছুঁচের ডগায় যেটুকু মাটি, সেই মাটিতেই
উঠেছে আমার ঘর, দক্ষিণ বারান্দা, বাইক
রাখার সিঁড়ি, বাথটবে ধরে রাখা বৃষ্টি বিকেল ।
বিনা যুদ্ধে কিছুই দেয়নি কেউ । বলছে জামাটা তোল ।
দেখাও ওটা উল্কা না নাভি । বলছে জমা দাও জিভ ।
রাষ্ট্রের ভিসা পাসপোর্ট । কর্পোরেশনের জলের পাইপ
ধুয়ে গেছে হিসি করা দেয়াল, পোলট্রি ফার্ম,
ব্রীজের লেখা, তোর মাকে ......” 

কবিতাটির পুরোটাই উদ্ধৃতি দিলাম । দিলাম, কারণ আমার মনে হয়েছে, এই একটি কবিতাই সমগ্র সংকলনটির প্রতিনিধিযোগ্য কবিতা ।

একটা ত্রুটির কথা উল্লেখ করতেই হবে । তাহ’ল চোখে লাগার মত অনেক অশুদ্ধ বানানের শব্দ । হতে পারে ই-বই, মুদ্রিত বইএর মত যত্নশীল প্রকাশনা হয়না । অন্তত বাংলা ই-বইএর প্রকাশনা এখনও সেই পর্যায়ে আসেনি । তবুও আর একটু সতর্কতা প্রত্যাশিত ছিল । কারণ বেশি অশুদ্ধ শব্দ পাঠককেই নিরুৎসাহ করে ।

ই-বইএর পাঠক কেমন বা কতটা জনপ্রিয় তা আমার জানা নেই । তবে আশা করতেই পারি যে, সৌম্যজিতের সংকলনটি পাঠক পড়বেন ।

                                                                         - ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About