শেষ সময়ের যাত্রা 

ছায়ার সাথে মনোমালিন্য আমার বহুদিনের
সেই যে ক্লাস পালানো সময়ে খুঁজতে থাকা
মায়ের ক্লান্ত চোখ, বাবার রাগত কন্ঠস্বরে
সুর মিলিয়ে ছায়া জানান দিত আমার সেই
চড়ুইভাতির ঠিকানা আর মারমুখো চোখের
প্রতিলিপি আঁকা থাকতো তারও চোখে মুখে
তখন থেকে আদ্যবধি ছায়ার সাথে বিতর্ক।
রাত্রি নামলে ছায়ার ক্ষয়ে যাওয়া দেখে
আনন্দে জড়িয়ে ধরতাম মায়ের গলা
বলতাম, ‘ও কী আর ফিরে আসবে ভোরে?’
মা বলতেন, ‘আসবেই তো, ও যে তোর সখি!
কেমনতর সখি তোমার স্বাধীন সত্তা নেই
আমি হাসলেই হাসো, আমি কাশলেই কাশো
ভালোবাসলেই বাসো কী আমার মতো?
ভাবতে ভাবতেই ক্লাস পালানো সময় গিয়ে
জ্যামিতির সূত্র লেখা হলো মুখের অবয়বে
সময়ের খসড়া খাতার অগোছালো সুরলিপি
সজ্জিত ছন্দরূপ নিয়ে গড়ে তুললো অর্কেষ্ট্রা
মিউজিশিয়ানের চেয়ারে ছায়াদের আধিপত্য
দেখে অবাক, এলো কী ভালোবাসার ক্ষণ?
ভায়োলিন, চেলো, স্যাক্সোফোনের সুরে
ছায়ারা নাচছে, গাইছে, হাসছে, খেলছে
আমার মতো নিঃসঙ্গ শেষ সময়ের
অপেক্ষায় রত ছায়াদের যাত্রালক্ষ্যে।


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About