পাঠ-প্রতিক্রিয়া – ‘কুয়াশার কার্নিশ’ / অনুপম দাশশর্মা

আলোচক – ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

অনুপম দাশশর্মার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কুয়াশার কার্নিশ’ পড়লাম । ৫৬টি কবিতা অনুপমের এই কাব্য সংকলন, প্রকাশ করেছে ‘অসময় প্রকাশনী’ । জানুয়ারি ২০১৩তে অনুপমের প্রথম কাব্যসংকলন ‘পালকের ঘরবাড়ি’ প্রকাশিত হয়েছিল, তারপর ঠিক তিনবছর পরে পেলাম তাঁর দ্বিতীয় সংকলনটি । ‘পালকের ঘরবাড়ি’তে অনুপমের একটা পংক্তি পড়েছিলাম কোন একটি কবিতায় - “আছে যারা ভাবনা সরানো দ্বীপ সুখে/সরে এসো সাতনরী পাশে / স্পন্দিত কবিতার বুকে” । আর তিন বছর পরের এই সংকলনে কবির উপলব্ধি –
“ঝড়ের খোলা পালে কিংবা ভাসানের পর ভেসে ওঠা মাতৃমুখে
যন্ত্রণার তুষে জ্বলেওঠা, এ সবেই কবির অমরত্ব” (‘কবি ও তার অশ্বমেধ ঘোড়া’)

অন্যনিষাদসম্পাদনা ও নানান ওয়েব পত্রিকায় ঘোরাঘুরির সূত্রে অনুপমের কাব্যকৃতির বেড়ে ওঠার কিছুটা সাক্ষি আমিও । সেই সূত্রে বলি আলোচ্য কাব্য সংকলনের কবিতাগুলি নিশ্চিতভাবেই পাঠকের ভালোলাগার মত । কুয়াশার কার্নিশএ অনুপমের কবিতার উপকরণ তার চারপাশের চলমান সময় আর সেই সময়ের মানুষের সংশয়, ক্লান্তি, বিষাদ আর তার বিষন্ন জিজ্ঞাসা। এবং অন্যতর এক সকাল দেখার প্রত্যয় । । কবি দেখেন -
“হলাহলে নিষিক্ত মনুষ্যত্ব, বিবেকের ধ্রুপদী দর্শন
পারস্পরিক সমভ্রমের দিনমান ক্রমশঃ অপসৃয়মান
অদ্ভুত বাতাসের সাথে” । (‘রক্তিম সমকাল’)
তবুও কবি দেখতে চান –
“সমস্ত শূন্যতা ছিঁড়ে নতুন সকাল ডেকে নিক ধোঁয়া ওঠা ভাতের থালা
শ্রমিকের” ( ‘আশ্চর্য সকাল’)

বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে ‘উত্তর-আধুনিকতা’ নামে একটা কথা খুব শুনতে পাই ।  অনুপমের কবিতা সেই উত্তর-আধুনিকতার হৈ হট্টগোলের ফাঁদে আটিকে পড়েনি । ওর কবিতায় একটা সহজতা আছে, হৃদয়ের আবেগ আছে । পাঠকও তাই কবিতাগুলির সঙ্গে নিজেকে খুঁজতে চাইবেন, জড়িয়ে নিতে চাইবেন । সংকলনের প্রথম কবিতায় কবি লেখেন -

“প্রতিটি ভাঙনের পরও জেগে ওঠে লাবন্য নয়াচর
কেউ না বুঝুক উড়ন্ত পাখিরা বোঝে” ( ‘মনের গতিবিধি আর বিচ্ছিন্নতার কথা’)

শেষ কবিতায় ‘শিশিরবিহীন কুয়াশা’য় ছেয়ে থাকা দুঃসময় থেকে কুয়াশা সরার অপেক্ষায় কবির উপলব্ধি, কিংবা বিশ্বাস
– ‘বেশ আছি’ যারা হাবেভাবে বোঝায় ...
“এ সমাজ তাদের অখন্ড জমি।
অপেক্ষা প্রতিধ্বিনিত হয় গেরুয়া সকালে
কে বলতে পারে কথা বলে উঠবে না
মৃত জ্যোৎস্নার কবরস্থ মমি” ! (‘দুঃসময়’)

‘কুয়াশার কার্নিশ’ কবির বিশ্বাসের অন্বেষণ । আশা করবো সংকলনটি পাঠক সমাদর লাভ করবে ।

চোখে পড়ার মত কয়েকটি অশুদ্ধ বানান রয়েছে । ‘কবি ও তার অশ্বমেধের ঘোড়া’ দুবার দুটি পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে (২৯ ও ৫৭) । পরের সংস্করণে এ গুলি সংশোধনযোগ্য । মারুত কাশ্যপের আঁকা প্রচ্ছদ জ্যাকেটএ মোড়া ‘কুয়াশার কার্নিশ’ বেশ পরিপাটি প্রকাশনা ।

1 মন্তব্য(গুলি):

PALASH KUMAR Pal বলেছেন...

গ্রন্থটি পড়ার ইচ্ছে রইল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About