এই সংখ্যার লেখকসূচি - রত্নদীপা দে ঘোষ, দময়ন্তী দাশগুপ্ত, অমলেন্দু চন্দ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, তৈমুর খান, পার্থ কর, ইন্দিরা দাশ, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, বিজয় ঘোষ, অনুপম দাশশর্মা, চয়ন ভৌমিক, সোনালি বেগম, অদিতি চক্রবর্তী, কৌশিক চক্রবর্তী, শঙ্কর দেবনাথ, জারা সোমা, পিনাকী দত্তগুপ্ত। তপন মন্ডল, অসিতবরণ চট্টোপাধ্যায়, দিগন্ত রায়, হাসান উজ জামান আনসারী, দূর্বা মুখার্জী, নিবেদিতা পুণ্যি, জয়া ঘটক, জয়তী দাস, শিবু মন্ডল, সুকল্যাণ তপস্বী, দেবলীনা চক্রবর্তী, লোপামুদ্রা মুখার্জী । 

       সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন
আমার বন্ধু একা একা যুদ্ধে থাকবে ক’দিন ...


তুই আছিস 
শুনছি তোর অনামিকায় কে যেনো এঁকেছে মৈথিলীবন 
খানাখন্দ তোর চোখের হাইওয়ে
ঝিনুকের পায়ের শব্দ 
নাছোড় জুঁইফসল 

তিন ফর্মা আগুন 
তোর দানাদার শরীরে  গ্রানাইট রাত 
আতশবাজির মতো গুটিপোকা উড়লেও

তুইআমি আগের মতই 
ব্ল্যাকবেরী, প্রচ্ছদ ভরা চাঁদ 

জোনাকিদরজা তোর নয় শুধু 
পাখি ছেয়ে যায় আকাশে 
নিরালা শস্ত্র 
বিদ্যৎপলকে মৃত্যু আড়ি পাতে 
ভ্রমরে ভ্রমরে আমারও 

লোনা নিম্নচাপ নয় 
এই দ্যাখ বন্ধুতা ...
রুমালে টলটলে শিমুলজ্যোৎস্না
মুকুলবীথিতে তোর 
গোটা দশ বারো সূর্য 
একখানা ধার দিবি বন্ধু 
তোর যুদ্ধ গায়ে মাখবো ...?

অলীক কথোপকথন

নন্দিনী ধর শুভঙ্কর,একটা মেঘের নাম রাখলাম সোনামন
আর বৃষ্টিফোঁটার নাম,শ্বেত করবী।
শুভঙ্কর - এ আবার কী রকমের আদিখ্যেতা!
মেঘ কিম্বা বৃষ্টিফোঁটা ওদের কি আর নাম নেই?
যেমন ভালোবাসার নাম ভালোবাসা,আর মনখারাপের নাম মনখারাপ।
নন্দিনী - তবে তোমার নামটা আকাশ থেকে বদলে মানুষ করে দিই আবার?
শুভঙ্কর - না,না মানুষ হতে চাই না,সে বড় সর্ব্বনেশে কথা। বরং
একরাশ অন্ধকার হয়ে ঘরের কোণে চুপটি করে বসে থাকব,
সেও ভালো।
নন্দিনী - আর আমি তখন কী করব জানো?
আলোর লন্ঠনখানা তুলে নির্বাক হয়ে দেখব তোমায়
অন্ধকারের ভেতরেও যে মানুষ আকাশ হয়ে থাকতে পারে।
উজানের ধারাপাত

গুনীন হে
জণ্ডিস ঠিকুজীর বাস্তুর ভাঙা দেওয়াল
গজানো আশ শ্যাওড়ায়
সাধের আশ্রয় খোঁজা বিকেলের শেষ রোদ
পুরোনো মাংসের টানাপোড়েনে
অর্থহীন সারাদিন চিৎপাত

বাঁচার তাগিদে অনেক আব্রু বেচতে হয়
বেঁচে বর্তে থাকার সেই  চাকার তলায়
অনেক অবজ্ঞার মধ্যে চাপা পড়া
একটা মানুষের সন্ততি
উত্তরাধিকার সুত্রে
এক টুকরো জ্বলন্ত কাঠ গুঁজে দিচ্ছিল
গলায় দড়ি দেওয়া বাপের
ঝুলে থাকা লাল জিভটার ওপরে

ছবির তলায় নির্বাক ধুপগুলো  নিরাময়হীন
এরপর সারারাত বাতাস কাটবে
ধুঁয়ো উড়িয়ে সরল রেখায়
নৈর্ব্যক্তিক মনখারাপী আয়েসে

বহুশ্রুত বেদনার অধিকার
বস্তুতপক্ষে একটা ভবিষ্যৎহীন ভুত
উড়তেও কষ্ট মাটিতেও ভয়





তাসের ঘর

ভাঙাচোরা সাইকেলের চাকা ঘুরলেই
অবিরাম শব্দের চাষ।
সেই লালমাটির ধূলো ওড়া কাঁচা সড়ক
সবুজ তারুন্যে সোজা তাকানো ফলসা গাছ
এসবেস্টসের শেড দেওয়া লম্বা বারান্দা
অনেকদিন স্বপ্নে বর্গিহানা দিত।
তিন বেদে ফর্সা আর্যরা লিখেছিল
শূদ্ররা ধর্ষণ উপযোগী,
একপিস শূদ্রের রক্তে হাতে মেহেন্দী আঁকলেই
পূণ্য পালেপালে তাড়া করবেই।
সেই ট্র্যাডিশন মেনে সরতে সরতে
জঙ্গলহীন আব্রুবিহীন নরনারীগুলো
হারিয়ে গেছে কত অভিমানে,
অথচ সেদিন ওরাই ছিল
আমাদের একচিলতে আশ্রয়।
সেদিন ফলসা ছিল, পলাশ ছিল
বুনো কুলের বেঁটেখাটো ঝোপে রসাল
আমন্ত্রণ ছিল অবারিত।
একলৌতা সাইকেলের চাকায়
গড়ুরবাহিনীর ঝড় উঠত যখন তখন,
স্বপ্নরা এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে
মস্করা শিখিয়েছিল মজারু ইচ্ছেয়।
ছত্রিশগড়ের সেই ছোট্ট মানুষ
আজ বহুতলের চল্লিশ তলায়
স্বপ্ন দেখতেই ভুলেছে কখন!
মা

কার হরিণছায়া পড়ে আছে জলে  ?
ফুটকি ফুটকি ফুলে ঘোর মায়া
চুম্বন ভেসে উঠছে কালের বাতাসে

মাতৃত্ব আজ ফণিমনসার গাছ
সহজিয়া মরুর মাটিতে বেড়ে ওঠে
দিনান্তে পাখির ভিড়ে মা উড়ে যায়

আঁচল খুলে খুলে অপত্যচাবির ঘুম নামে
দরোজা খুলে যায় লীন অভিমান
বালিশের তুলোয় জমা মেঘে
কান্না লেগে যায়
   আমরা জাগি বেঁচে থাকার ভ্রমে

মা আসে,শ্রীরামকৃষ্ণ দেব,মা আসে
ঘরে ঘরে আরতির মাতৃমন্দির
অদ্ভুত পরিত্রাণে চেয়ে থাকে জন্ম আমাদের



চেনা

আজ্ঞে,আপনি আমায় চেনেন,আবার আসলে কিছুই চেনেন না
হতে পারে আপনি আমার মুখোশটাকে দেখেন,আমরা আপনার
রোজ দেখেন স্ক্রোল করে করে আমার মতই হাজার লক্ষ কেউ
তাদের জন্মদিনে উইশ করেন,ক্রিসমাস মহরম শারদীয়া
বেবিদের ছবিতে আদর পাঠান, আপনার আনন্দে তারাও লাইক কমেন্ট
দুঃখে 'আহা, মরণে আর আই পি,সাফল্যে কনগ্রাটস
কারো মন খারাপে পিপি কালো হলে আপনি ইনবক্সে পাশে থাকেন
আমাদের দেখা হয় না মুখোমুখি হলে খানিক সময় নেবেন চিনতে
পাব্লিক ফিগার না হলে আম আদমির মুখ চোখ নাক সবার মিশে যায়
নাম ধাম এর ধড়ে তা,তাও দেখুন আমি দেখছি আপনাকে রোজ
জেনে যাচ্ছি কি খাচ্ছেন পরছেন বেড়াচ্ছেন প্রেম করছেন না প্রপাগন্ডা
আপনি দেখছেন আমাদের আদিখ্যেতা দেখানেপনা
মনে মনে বলছেন 'ন্যাকা'
মনে মনে বলছেন,'পারি না'!
আমরাও বেশ তেমন করেই রাগে ঈর্ষায় ক্ষমায় ঘেন্নায় বারোয়ারী

About