ভোরফুলবিলাস


ভুলে যাওয়া জন্মের নাম ধরে কে ডাকে কোথায়
পাখি জানে ঘাস জানে প্রজাপতি জানে তার নাম,
আমি জানব কি? কে জানে! হয়তো বা জানব না --
শুধু শুধু অকারণ ভাললাগা আবেশে জড়ালে
হৃদয়েতে বয়ে যাওয়া নদীতীরে বসে রব, বা
বাস্তবে অন্য কোথাও, -- প্রিয় কবিতার সাথে
মুখোমুখি বসে কুয়াশায় এঁকে চোখ, এঁকে নাক
এঁকে মুখ -- ওষ্ঠ ছোঁয়াব গোপনে ভোরফুল 
কপোলে, চিবুকে, ঠোঁটে, শরীরে শরীর সবখানে...

                       --

সব বিলীন নীল...
শুধু তোমাকে পাবার ইচ্ছে
                            এখনো বৃষ্টিআভাস দিচ্ছে

অতন্দ্রিলা পাখনা
উড়ে উড়ে খুব যাক না
                           তোমার শরীরগন্ধ উড়ন্ত চিল নিচ্ছে

আরো আরো আরো , ভালবাসতে কি পারো ?
চোখচুম ঘুমঘুম -- স্বপ্ন তোমাকে ঘিরছে...

যদি কখনো একান্তে, পাই তোমাকে জানতে
                                প্রত্যুষী সেই খুশিরা
                                                            ভোরফুল হয়ে ঝরছে

                       --

স্বপ্ন দেখে ঘুম ভেঙে যায়..

সঙ্কুচিত প্রত্যাশী আগ্রহে
            তুমি ভোরফুল
                     পাপড়ি আঙ্গুলে  আঙ্গুলে
                                            ছুঁয়ে চলো আমায় আমায়

খুশি ঝরে টুপটাপটুপ
’  বুনো শিউলির ঘ্রাণআহ্ !

                       --

বুকের ভিতর এতো গান, আলোউদার ও  উঁচু  ক্যাথিড্রাল সিলিং ।
সমস্ত জমানো আদর ঘুরঘুরঘুরঘুর --  তুমি আসবে তো?

                       --

আলোর তরঙ্গগুলো , --
তোমাকেই ছুঁয়ে ছুঁয়ে, তোমাকেই ছুঁয়ে ছুঁয়ে
ছুঁয়ে ছুঁয়ে তোমাকেই
                       তোমারই তরঙ্গ হয়ে
খেলা করে নির্জন এই চোখে
                            ঝিকিমিকি মাছ!

প্রলম্বিত মন্থর ও দীর্ঘ  মুহূর্তগুলো
অপ্রত্যাশিত যতিবিহীনতায়
শ্বাস নিতে গিয়েছে যে ভুলে
                              দেখে উচ্ছাসঝরানো রূপ, হাসি...

বিপ্রতীপ অবস্থানে
          ক্রিয়াপদ অস্ফুটে উচ্চারে --
                                           'ভালবাসি'
                                           'ভালবাসি'
                                           'ভালবাসি'

পৃথিবীর বাগানে এখনো তন্ময় ঝুমঝুম বকুলেরা, আর
গাছময় মগ্ন অপেক্ষা --
                           মুঠোভরা ফুল দেবে বলে

                       --

তখন আমি ভাজামাছটিউল্টেখেতেজানিনা অমন ভালমানুষটিসম মুখ
তুমি অবলীলায় হুহু করে শুষে নিলে বখেযাওয়া ঠোঁটের, সমস্ত, সবটা সুখ
ভদ্রতার সেলোফেনরাপার সরিয়ে শরীর বুঝছে আদিম মন্ত্র বা ঘাঁটছে মগ্ন জিন
সময় কি এগিয়ে না পেছিয়ে আমি কনফিউসড -- নীতু সিং না তুমি মনরো মেরিলিন?
জানি এ লেখা বুঝবে শুধু তুমিইঅদেখা অথচ বহুদেখা শ্রীলেখা, নামে কী আসে যায়
জোয়ার পেরিয়ে শহরে শহরে হাঁটছি জানো তোমাকেই নিয়ে, একা ঘুরঘুর পায়পায়।

                       --

বলেছিলে আঁকতে তোমায়, ধানসিড়ি নদী, টুয়া পাখি
অথবা ভোরফুল -- কীভাবে তোমাকে  বলো আঁকি !
দেখে দেখে চোখ ডুবে যায়, ছায়াপথে হাঁটার তৃষায় 
একসাথে --  আনমনে কতবার নিয়েরঙতুলি উঠিয়েই রাখি!

বরং বসবো তোমার সামনেতে হয়ে চুপ হয়ে -- দেখো
সেই আঁক, সে আমার তৃপ্ত দুচোখে ! আশ মিটিয়েই দেখে নিও
পূর্ণতা কাকে বলে -- কাকে বলে দূরাগত প্রেম
কতবারই দুচোখ ভিজিয়ে মনরঙে হৃদয়ে তোমাকে আঁকলেম
কতোবার হৃদয় ছাপিয়ে ভাসিয়ে তোমাকে হৃদয়ে রাখলেম
এলোমেলো অগোছালো সবদেওয়া তোমাপানে ধায়
পরিযায়ী হাঁসেদের একমনে ওড়া দুডানায়পৌঁছাবে...

দিঠি ভরে নিও --  আঁকা সব চিঠি!

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About