স্মৃতির লাঙল হৃদয় জমিনে

দেহ থেকে প্রাণ ত্যাগের ফরিয়াদ
রক্তের দীর্ঘশ্বাসে মাটির পবিত্র পৃষ্ঠাগুলো
নাড়ছে, বিজয় কিংম্বা স্বাধীনতার গৌরব
আজও অনুভূতির মর্মমূলকে বেদনার তীব্রতায়
আনন্দের পুকুরে অসংখ্য চিৎকারের ঢেউ তুলে।

একসময় বিরান নগরীর বারুদের উল্লাসে
পুড়া মাটি সতেজ হয়ে উঠলো, ডাকলো
গ্রামের কাঁটামারা বুটের তলায় পিষ্ট পথগুলো,
বোমা আর গ্রেনেডে খাক হয়ে যাওয়া কৃষকের
জমিন ডাক দিলো, মানুষের নাম ধরে, এসো।

পাখিরা তাদের নীরবতা ভাঙলো,বৃক্ষের
নিঃশব্দ তাকিয়ে থাকা বদলে দিলো মুক্ত
বাতাস,হাওড়ের জলে পদ্মফুলে বিজয়ের
সূর্যকে অভিবাদন জানালো-আম,জাম,আর
শিমুলের উদরে জন্মালো বিশ্বাস কতো আনন্দে।

একমাত্র মাটি মা ছাড়া যখন কেউ ছিলোনা
সেদিন বিষাদগীতি গাইবার জন্যে, সেই মাটির
চোখের জলে মুছাতে গিয়ে কতো মায়ের বুকের
আঁচল ছিঁড়ে আয়াতের মতো পবিত্র বুকে বুলেট আঘাত
করে সে নিজেও কেঁদেছিলো পষাণ হাতের স্পর্শে ছোটে।

গভীর আলিঙ্গনের মাঝে লুকিয়ে থাকে বিচ্ছেদ,
নিজের অবস্থান ক্ষতবিক্ষত হলেই মন অকুলে ভাসে
বিজয়, স্বাধীনতার জন্যে অনন্তকাল পৃথিবীতে
মৃত্যুকামনা ছাড়া আপন পতাকাকে কেউ স্পর্শ করতে
পারেনি, তাই শহীদের শেষ নিঃশ্বাসের বাতাসে
চিরকাল স্বাধীন স্বদেশে উড়ছে বিজয়ের পতাকা।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About