স্বপনচারিণী

একটি মেয়েকে আমি গল্প লিখতে দেখি।
জীবনের গল্প,সমাজের গল্প,ভালবাসার গল্প।
তার ছবিটা আমি গভীর ভাবে দেখি।
গোধূলি আকাশের আবীর মাখা রঙের মতোই তার রূপ।
তার ছোট্ট ছোট্ট গল্পগুলির মতোই সে মিষ্টি।
এক অনাবিল শান্ত, স্নিগ্ধ, নম্রতায় মেশা তার মুখ।
এক রূপকী ভাব সর্বদা খেলা করে সেই মুখে।
তাকে বিশেষ ভাবে সাজতে হয় না কখনও,
নিজেকে প্রত্যহ তুলে ধরতে হয় না সমাজের চোখে।
তার ভাবুক চোখের ভাষাই কথা বলে আপনি।
তার পরিচিতি সে লেখিকা।
তাকে আর কোনো ভাবে দেখে নি কেউ কখনও।
অথচ, আমি জানি, কোথাও একটা গোপন সুরের সুরঙ্গম,
তাকে করেছে একান্ত অদ্বিতীয়া। করেছে সৌম্যকান্তি।
যখনই সন্ধ্যা ঘনায়, সন্ধ্যাদীপের আলোর মতোই উজ্জ্বল হয় সে।
আমি তার নির্মল সুগন্ধ অনুভব করি।
যেন, ধুপধুনো আর পঞ্চপ্রদীপে সজ্জিতা সেই শ্যামাতন্বী,
কাঁসরঘন্টার তালেতালে আরতীতে প্রজ্জ্বল।
তার শাড়ির সৌষ্টবে যে গল্প লেখা থাকে,
আমি পড়ি তা নিবিড় ভাবে।
সে তো শুধু এক ছবি,
অথচ কতই না অনুভবি তার কলম।
তার দু'চোখের পলকে লেখা গল্প,
তার কোঁকড়া চুলের বাদামী আভায় মাখা গল্প।
তার কোমল হাতের আঙুলে আঙু্লে গল্প,
আমি গল্পে মোহিত এক ভিন্ন নারীকে দেখি কল্পনায়।
তার গল্পে গল্পে যামিনী ফুলেল।
সে যে এক আলোকবর্ণা নারী।

অস্বচ্ছ কাঁচের মতো

এইতো এখন মধ্যবর্তী রাত,
ইতিবাচক ইচ্ছেদের সম্মতি,
ঠোঁটের উপর অষ্টাদশী চাঁদ,
চন্দ্রালোকের অবাধ ঊর্ধ্বগতি।

কোথাও কোথাও একটু বোঝাপড়া,
কোথাও আবার হিসেব মেনেই ঢলে,
আমার দু হাত তার দু হাতে ধরা,
চাঁদের আলো পড়ছে গলে গলে।

অবাধ অবুঝ উদাম চরাচর,
নিশুতি রাত নিষেধ জানেনা কোনও,
বহ্নিদীপ্ত অসংযমী নজর,
বাগ মানেনা অভিলাষী মনও।

স্পষ্ট হচ্ছে অস্বচ্ছ দুই মন,
রাত বেড়েছে রাতের জামা খুলে,
শ্বাস নিচ্ছে উষ্ণ আলোড়ন,
আজ পৃথিবীর সব যাতনা ভুলে।




0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About