শ্রুতি নাটক

আমি বাংলায় গান গাই
[চরিত্র – সুদীপ্ত, ভাষ্কর, বুবুন, কৃষানু, জাদুকর]

[বুবুনের জন্মদিন, চার বন্ধু মিলে জন্মদিনের হাসি মজায় ব্যস্ত । একটা ইংরাজি পপ গানের তালে নাচ চলছে ।]

সুদীপ্ত – আজ বুবুনের ফিফটিন্থ বার্থ ডে, আমরা সবাই বুবুনকে কনগ্রাচুলেশন জানাচ্ছি । (সকলে একসঙ্গে হাততালি দেয় )   কনগ্রাচুলেশন, হ্যাপি, হ্যাপি হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ , (গান জোরে, ফোন বাজে, কৃষানু ধরে )
কৃষানু –হ্যালো, হ্যা, প্লিজ হোল্ড করুন । বুবুন তোর ফোন । দিল্লি থেকে আঙ্কল বোধহয় ।
বুবুন –হ্যালো, কে ছোট কাকা ?মনে আছে তাহলে ? থ্যাঙ্কইউ । না গো, এবার কোন সেলিব্রেশন
করছি না । ড্যাডি অফিস ট্যুরে চেন্নাইএ, মাম্মির ক্লাবের এনুয়াল মিট । না মাম্মি এখনো ফেরেনি । না না, এই সবে মাত্র কেক কাটা হল, কজন বন্ধু মিলে হৈহুল্লোড় করছি । এই আরকি । তাই নাকি ? আমার জন্যর ক্যাসিও এনেছো ? সিঙ্গাপুর থেকে ? থ্যাঙ্কইউ । নেকস্ট মান্থে আসছো তো ? ওকে, গুড নাইট । ভাষ্কর এবার তুই কেকগুলো ডিস্ট্রিবিউট করে দে ।
ভাষ্কর – দাঁড়া, আগে আমরা সবাই মিলে তোকে কেক খাওয়াই । তোর জন্মদিন, তুই তো আগে
খাবি । আয়রে সুদীপ্ত, কৃষানু আমরা সবাই মিলে কেকের বড় টুকরোটা বুবুনকে খাইয়ে দিই
বুবুন – এই কি হচ্ছে কি । অত বড় কেক একা খাওয়া যায় নাকি । ইস, দেখতো, সব ক্রীমটা মুখে লেগে গেলো । কি যে করিস না ! (সকলে হাততালি দিয়ে হাসে । (এক আগন্তুক প্রবেশ করে) ।
আগন্তুক – আসতে পারি ?
বুবুন –   পারি মানে ? আপনি তো এসেই গেছেন ।
আগন্তুক – না এখনও পুরো আসিনি ।
কৃষানু – মানে হাফ এসেছেন । বেশ এবার বাকি হাফটা নিয়ে সাফ হয়ে যান । এখানে কিছু পাওয়া-টাওয়া যাবে না ।
আ – চলে যাবো বলে তো আসিনি । তোমাদের কাছেই তো পাওয়া যাবে । আমি যা চাই পাওয়া  যাবে বলেই তো এসেছি ।
সু – বাট, হু আর ইউ? আপনি কে ? ঘরের ভেতর এলেন কি করে ? হু পারমিট ইউ ?
আ – আমি কে ? তা বলতে পারো তোমাদের ভালোবাসে যে ।
কৃ – ভালোবাসার কি স্যাম্পেল আইরি ! সাড়া-শব্দ নেই, সোজা ঘরের ভেতরে ।
বু – দেখুন আপনার ভালোবাসা আমাদের দরকার নেই, আমাদের সবাই ভালোবাসে ।
আ – (একটু জোরে) না, বাসেন না । আমার সংশয় আছে ।
ভা – এই, সংশয় মানে কি রে ?
সু - ফুল, সংশয় মানে ডাউট ।
ভা – আমাদের মাম্মি, ড্যাডি আঙ্কল আমাদের ভালোবাসেন কি না আপনি ডাউট করার কে ?
সু – আমার মাম্মি আমাকে কতটা ভালোবাসেন তার জাজমেন্ট আপনি করবেন না কি ? আপনি কে ?
কৃ –‘ জাজমেন্ট সিট অফ বিক্রমাদিত্য’ । পড়িসনি ?
বু- আঃ কৃষানু, ডোন্ট বি সিলি ।
আ – আমি কিন্তু তোমাদের সবাইকে চিনি,অচেনা মানুষকে তো ভালোবাসা যায় না । আচ্ছা বুবুন, আজ তোমার জন্মদিন । তোমার বাবা অফিসের কাজে চেন্নাই গেছেন, তোমার মা এখনো ক্লাবে, রাত করে ফিরবেন । তোমার ছোট কাকা আসবো বলেও দিল্লি থেকে এলেন না । বলতো বুবুন তোমার ছোট কাকা কি তোমাকে ভালোবাসেন ?
বু – অফকোর্স ভালোবাসেন । একটু আগেই তো ফোন করেছিল ।
আ – ও হ্যা, এখন তো মাথায় হাত রেখে আশির্বাদ করতে হয় না, জন্মদিনে মাকে পায়েস রেঁধে খাওয়াতে হয় না ! এখন টেলিফোনেই স্নেহাশিস পাঠিয়ে দেওয়া যায় । এর নাম ভালোবাসা ? তোমার কাকা যদি সত্যিই তোমাকে ভালোবা্সতেন তাহলে কনগ্রাচুলেশন না বলে বলতেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা । ভালোবাসলে তোমাকে বলতেন থ্যাঙ্কইউ নয় ধন্যবাদ বলতে হয়, গুড নাইট নয় শুভরাত্রি বলতে হয় । যারা নিজের মাতৃভাষা উচ্চারণে গৌরব বোধ করে না, তারা নিজ সন্তানকে ভালোবাসতে পারেন না ।
বু – কিন্তু আপনি এতো কথা জানলেন কি করে? আপনি কে, এখানে এলেন কি করে ? এতো কথার রিপ্লাই আপনাকে দেবো কেন ?
ভা – আপনাকে আমরা কোনদিন দেখিই নি , চিনি না । অথচ এমন কথা বলছেন যেন কত দিনের চেনা ।
আ – চিনতে, এখন ভুলে যাচ্ছো । ভুলিয়ে দিচ্ছে । কিন্তু আমাকে চেনা খুব দরকার । সে জন্যই তো তোমাদের কাছে আসা । আমাকে না চিনলে তো নিজেকেই তোমাদের চেনা হবে না ।
সু – লোকটা ভেতরে এনট্রি নিল কি করে বলতো ?
বু – তাইতো ভাবছি । আমি নিজে মেইন গেটে চাবি দিয়েছি ।
কৃ – মনে হয় লোকটা আগে থেকেই ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল । দেখছিস না, কেমন মিটমিট করে হাসছে ।
ভা – শোন বুবুন, কাকিমাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা কর তো ডুপ্লিকেট চাবিটা সঙ্গে আছে কি না । হয়তো ওটাই হাতিয়েছে ।
আ – তা ওখানে যেরকম নাচগানের হুল্লোড় চলছে চাবির আর কি খেয়াল থাকে ? বেশ ফোন করো অনুমতি দিলাম ।
বু – পারমিশন ? আপনার পারমিশন নিয়ে ফোন করতে হবে নাকি ? এর পর তো পুলিশে ফোন করবো ।
আ – পুলিশ ! বাহান্নতে চারবার গুলি লেগেছিল আর একষট্টিতে এগারোবার ।আটকাতে পেরেছে ? আবার বলছি আমি কিন্তু একটা ফোনের অনুমতি দিয়েছি তার বেশি নয় ।
বু – ভয় পাবো ভাবছেন ? পারি কি না দেখবেন । হ্যালো, সানড ক্লাব ? মে আই স্পিক টু মিসেস সেনগুপ্ত ? হোয়াট, কথা বলা যাবে না ? বলুন ওনার সন বুবুন কথা বলবে ।  হ্যাল্লো, মাম্মি ? দেখো তো ফ্ল্যাটের ডুপ্লিকেট চাবিটা তোমার ব্যাগে আছে কি না । না না এমনি বলছি । আমার মনে হল যদি চাবিটা নিতে ভুলে যাও । আসলে আমরা বাইরে খেতে যাবো তো । আছে ? ঠিক আছে ।  তুমি কখন ফিরছো ? দেরি হবে ? ওকে রাখছি । হ্যারে সুদীপ্ত, চ্যাটার্জী আঙ্কলের ফোন নম্বরটা মনে আছে ? বলতো ।
সু – হ্যা ডাবল টু থ্রি ফাইভ থ্রিটু থ্রি টু ।
বু – ডাবল টু, থ্রি ফাইভ থ্রি টু থ্রি টু , হ্যালো ... ডিসগাসটিং ।
ভা – কি হল ?
বু – ফোন ডেড ।
সু – ডেড
কৃ – নে, এবার কি করবি ? আন্টিকে পেলি, তখন যদি বুদ্ধি করে ব্যাপারটা বলতিস ।
আ – কোন লাভ হত না । তিনি তো ঘরে ঢুকতেই পারতেন না । মানে, ঢুকতে দিতাম না ।
সু – যার ঘর তিনিই ঢুকতে পারতেন না ?
আ – না, পারতেন না । আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ নয় । যাদের আমি চাই না তাদের আমি আমার কাছে আসতে দিই না ।
ভা - আপনি নিজে চোরের মত না বলে চলে এসেছেন আর যার বাড়ি তাকেই ঢুকতে দেবেন না ? এতো সাহস ?
আ – হ্যা, সাহস । এই সাহসের কথা বলবো বলেই এসেছি । তোমাদের সাহসী হতে বলবো বলেই এসেছি ।
বু – এনাফ ইস এনাফ । ভাষ্কর, সুদীপ্ত তোরা বারান্দায় গিয়ে চ্যাঁচ্যাঁ, লোক জড়ো কর, সাউট ।
ভা – একি, দরজা খোলা যাচ্ছে না কেন ? বাইরে হেকে বন্ধ করলো কে ?
সু – জানালাও খোলা যাচ্ছে না, বন্ধ করলো কে ?
আ – না, এখন খুলবে না । সময় হলেই সব দরজা, সব জানালা উন্মুক্ত হয়ে যাবে । এখন আমি যা বলছি শোন, যা চাইছি দাও ।
কৃ – দেখুন এই ঘরে একটা টেপ রেকর্ডার ছাড়া নেওয়ার মত আর কিছুই নেই । ওটাই না হয় নিয়ে চলে যান । আমরা না হয় আজ গান শুনবো না ।
আ – আমি কিন্তু শুনবো । গান শুনবো বলেই এসেছি ।
সু – গান শুনবেন ? গান শুনেই চলে যাবেন ? আগে বললেই পারতেন । কি গান শুনবেন বলুন, রিকি মার্টিন ? নাকি জেনিফার লোপেজ ? নাকি বাবা সায়গল ?
আ – আমি তোমাদের গলায় বাংলা গান শুনবো ।
কৃ – একি আবদার রে ! বলে কি না বাংলা গান শুনবে । তাও আমাদের গলায় । দূর কাচকলা । বাংলা গান আমরা গাইতে পারি নাকি ? পপ সং হলেও নাহয় চেষ্টা করা যেতো ।
ভা – লোকটা মনে হয় ম্যাড । একটু গান টান শুনে চলে যাবে । কৃষানু ম্যানেজ কর ।
সু – আরে কৃষানু, তোর মাসি তো গান শিখতো রে । একটা  রবীন্দ্র সঙ দু এক লাইন গাইতে পারবি না ? সেই যে রে ধনধান্য পুষ্প ভরা । এই ধান্য মানে কি রে কৃষানু, কি টাফ শব্দ রে !
আ – ওটা রবীন্দ্রনাথে গান নয়
বু – ওসব গান টান ছাড় কৃষানু । আগে জান তো লোকটা কে , কি চায় ? শুনুন মশাই, আগে বলুন তো আপনি কে ? আপনার মতলবটা কি ?
আ – বেশ, তাহলে বলেই দি । বলতে পারো আমি যাদুকর । অবশ্য একটা নাম আমার আছে । গৌরব ।
কৃ – গৌরব মানে প্রাইড ? তা গৌরব যাদুকর স্যার,আজকে বরং আপনার ম্যাজিক দেখি আর একদিন আপনাকে গান শোনাবো । কেক খাবেন ?
আ – জাদু দেখাবো বলেই তো এসেছি । শুধু দেখবো না । তোমাদের জাদুও দেখবো ।
ভা – কি উলোপাল্টা বলছেন ? একবার বলছেন ম্যাজিক দেখাবো, একবার বলছে গান শুনবেন, আবার বলছেন ম্যাজিক দেখবো ।
আ – তাইই তো ভাস্কর । বাংলা গানেই তো জাদু । সেই যে গানটা শোননি ? কি জাদু বাংলা গানে গান গেয়ে দাঁড় মাঝি টানে / গেয়ে গান নাচে বাউল, গান গেয়ে ধান কাটে চাষা / আমরি বাংলা ভাষা । তোমরা বাংলা গান গাইবে, সেটাই তো জাদু ।
বু – সুদীপ্ত, ভাস্কর, কৃষানু তোরা লোকটার সঙ্গে কথা বলতে পারছিস ? আমার মাথার মধ্যে কি যেন হচ্ছে ! ওঃ আমার কাছে যদি একটা রিভলভার থাকতো, আমি ঠিক গুলি চালিয়ে দিতাম ।
ভা – বুবুন মাথা গরম করিস না । লোকটা পাগল, তার ওপর ম্যাজিক জানে ।
সু – লোকটা কিন্তু আমাদের ভয় টয় দেখায়নি । উল্টোপাল্টা কথা বলছে এই যা ।
কৃ – লোকটা কিন্তু চোর ডাকাতের মত দেখতে নয় । দু একটা কবিতা টবিতা শুনিয়ে দিলে হয়তো চলে যাবে ।
আ – শুরু হয়ে গেছে । আমার জাদু শুরু হয়ে গেছে । তোমরা আমাকে কাছের মানুষ বলে ভাবতে শুরু করেছো ।
বু – ড্যাম ইওর কাছের মানুষ । আমরা মোটেই আপনাকে কাছের মানুষ বলে ভাবছি না ।
আ – হ্যাঁ ভাবছো, ভাবতে শুরু করেছো , আমি তোমাদের কাছের মানুষ, চেনা মানুষ । ‘সারা বছর ফুল থাকে না, গানের পাখি সারা বছর গান গায় না / তবু স্বপ্ন থাকে, চেনা মানুষ সারা বছর কাছেই থাকে / ফুল না থাক, মানুষ থাকে’ । হ্যাঁ বুবুন আমিই সেই চেনা মানুষ, তোমাদের কাছের মানুষ ।
বু – ( একটু ভেঙে পড়ে যেন) আপনি কেন, কেন আমাদের ওপর মেন্টাল টর্চার করছেন ? আমরা তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি !
আ – আমিও তো তোমাদের কোন ক্ষতি করছি না । শুধু কিছু চাইছি ।
ভা – কি চাইছেন ?
আ – চাইছি তোমাদের সূর্যের দীপ্তি প্রকাশ হোক, চাইছি তোমরা নিজেকে চেন ।
সু – আপনার কথা আমরা বুঝতে পারছি না ।
আ – এমন করে আমাদের আগে কেউ বলেনি ।
আ – জানি । বললে তো আমাকে আসতেই হত না । বুবুন, তোমার নাম অর্কপ্রভ, মানে সূর্যের দীপ্তি । তোমার নাম সুদীপ্ত, মানে দীপ্তির বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারো । দীপ্যমান সূর্যের আর এক নাম তুমি ভাস্কর । আর তুমি আগুনের আর এক নাম কৃষানু, আগুনের উত্তাপ ছড়াতে ইচ্ছে করে না ? পারো না ? একটা পিস্তল থাকলে আমাকে গুলি করার ইচ্ছা হয়েছিল বুবুনের, আর তোমাদের নিজেদের মাতৃভাষাটাকে যারা লোপাট করে দিতে চাইছে তাদের ওপর ক্রোধ হয় না ? পবিত্র ক্রোধ ?
বু – ( চেঁচিয়ে ) আপনি আমাদের হিপনোটাইস করছেন । ভাস্কর, কৃষানু, সুদীপ্ত, তোরা শক্ত হয়ে থাক । লোকটা আমাদের হিপনোটাইস করছে
আ – হ্যাঁ, বশীকরণ করার শক্তি আমার আছে । তোমরাও এবার বশীকরণ করতে শিখবে । আমার জাদু কাজ করছে । তোমরা এবার গান গাইবে, কবিতা বলবে । সেই গান, সেই কবিতা যার সন্মোহন শক্তি আছে । সম্মোহন করা শিখবে না ?
ভাস্কর (আচ্ছন্নের মত) গান গাইবো, কবিতা বলবো ?
আ – হ্যাঁ, গান গাইবে, কবিতা বলবে ।
সু – আমার জেঠু খুব ভালো কবিতা বলতো একটু একটু মনে আছে  ‘নম নম নম ...
আ – মনে আসবে বলো ‘নম নম নম সুন্দরী মম ...
সু – জননী ... জননী মানে কি মা ?
আ – মা । পৃথিবীতে আসার পর যে শব্দটা প্রথম উচ্চারণ করেছিলে - মা । বলো মনে আসবে । আমার সঙ্গে গলা মিলিয়ে বলো –
দুজনে – নম নম নম সুন্দরী মম, জননী বঙ্গভূমি / গঙ্গার তীর স্নিগ্ধ সমীর জীবন জুড়ালে তুমি’... ।
ভা - বাবার কাছে শুনেছি, বাবা কলের গানে গান শুনতো, কি যেন গানটা ... ‘মোদের গরব, মোদের আশা । গরব কথাটার মানে বাবা বলে দিয়েছিল ‘প্রাইড’ । মনে পড়ে ...
আ – মনে আসবে । বলো, বলো, মোদের গরব, মোদের আশা ...
দুজনে – আমরি বানলা ভাষা ...।
 কৃ - আমার মাসি গান শিখতো । অনেকদিন আগে । একটু একটু মনে আসছে ... আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি, আর মনে আসছে না ... । 
আ – আসবে, মনে আসবে । মনে করিয়ে দেবার জন্যই তো আমার আসা ।
সু - ঐ গানটা ছোটবেলায় আমারও খুব গাইবার ইচ্ছে হত । মা বলতো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ছো, ঐসব গান টান কে শুনবে ?
আ – আমি শুনবো । সবাই শুনবে। জাদু দেখাও সুদীপ্ত, নিজেকে নতুন করে আবিস্কার করো । কন্ঠে সুর আনো ।
বু – আমি... আমি কি করবো আমি কি একা হয়ে যাবো ?
য়া - তুমি অর্ক । সূর্য কি কোনদিন একা হয় ?
বু – আমি তো গান জানি না । আমাদের বাড়িতে তো কোনদিন বাংলা গান, কবিতার চর্চা ছিল না । জাদুকর আমার চোখদুটো বুজে আসছে কেন ? কেমন আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি ।
আ – তুমি গান শুনতে চাইছো বলে । শুনতে পাচ্ছো বুবুন, গান শুনতে পাচ্ছো ?
বু – (আচ্ছন্নের মত) গান, কই না তো ।
আ – পাবে, নিশ্চয়ই পাবে । চোখ বুজে শোনার চেষ্টা করো... শুনতে পাচ্ছো ?
বু – হ্যাঁ, অনেক দূর থেকে একটা গানের সুর ভেসে আসছে ।
আ – দূরের নয়,  কাছের গান । তোমার নিজের গান, নিজেকে চেনার গান ।
বু – হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি । (নেপথ্যে গান ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ... )
আ- ব্যাস, আমার কাজ শেষ । এবার তোমাদের কথা শুরু । এই বৃদ্ধ জাদুকর তার টুপি খুলে তোমাদের অভিবাদন জানাচ্ছে । চেয়ে দেখো সমস্ত দরজা, জানালা খুলে গেছে,বাতাশ আসছে, উন্মুক্ত বাতাস । চেয়ে দেখো আকাশে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা । চেয়ে দেখো ‘ এতো তারার মধ্যে আকাশ বাংলা ভাষায় ভরা / বুকের মধ্যে চলছে ছুটে সোনালি হরকরা’ । চলি, ভালো থেকো । শুভ রাত্রি ।(নেপথ্যে গানের সুর ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ) ।






1 মন্তব্য(গুলি):

PALASH KUMAR Pal বলেছেন...



বাংলায় গান শোনালেন।

বেশ ভালো লাগল। কখনো করার ইচ্ছেও রইল। এটা সংগ্রহে রাখব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About