ফুল ফুটলো কি না - ফুটলো


ফুল ফুটলো কি না -ফুটলো
যায় আসেনা
জল তরঙ্গের ভাঁজে ভাঁজে
তিরতিরে ঢেউ সাজলো কিনা
যায় আসেনা।
যায় আসেনা আকাশটার নীল
মেঘের ফাঁদে ফাঁসলো কিনা।
কিছুতেই আজ যায় আসেনা।
একুশ এবার ফিরে এলো রক্ত মেখে,
একুশ এবার ফিরে এলো অশ্রু নিয়ে
মায়ের বুকের আগুন নিয়ে, এলো দেখো
প্রিয়ার বুকের স্তব্ধ শোকের সাগর নিয়ে।
কবি মাহবুবুুল আলম চৌধুরী লিখেছিলেন
একুশের প্রথম কবিতা - " আজ আমি এখানে
কাঁদতে আসিনি, ওদের ফাঁসির জন্য এসেছি ....."
গুলিতে বিদ্ধ করে সেই ভাষা সৈনিক যারা লড়াই
করছিল ভাষার দাবিতে, সংস্কৃতির দাবিতে,
মাতৃভাষার দাবিতে, বাংলার দাবিতে
তাদের হত্যা করলো পাকিস্তানি জালিম সৈন্যরা
রমনার পুষ্পিত রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার নিচে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রত্ন সেই ওদের হত্যা করা হলো,
' ওরা চল্লিশজন কিংবা আরো বেশি ....'!
রক্ত আর রক্তের ঢেউয়ে রমনার পেলব মাটি ভিজে গেলো,
বাংলার মাটি চিরতরে রক্ত - অশ্রুতে মেশামেশি করে
বিষাদের, প্রতিবাদের জীবনদানের শাশ্বত পবিত্র ভাষাতীর্থ হলো।
আর সেদিন পূর্ববঙ্গের চট্টগ্রামের কবি সমুদ্র গর্জনে
কবিতার প্রচণ্ড ঝড়ো উদ্দামতায় জানালেন প্রথম ঘোষণা
ভাষা সংগ্রামের শহীদের হত্যাকারীর ফাঁসি চাই!
ফাঁসি ছাড়া অন্য কোন উপযুক্ত শাস্তি জালিমের নেই!
মাতৃভাষার মৌল অধিকারের দাবি সনদ একুশে ফেব্রুয়ারি,
আজ বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস সারাটি বিশ্বে বাংলা
  ভাষা সেনানীর
রক্তের রক্তিমাভায় বিভাসিত একটি উজ্জ্বল দিন।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আশ্চর্য রূপকথার অনন্য কাহিনী!
বাংলা ভাষা চেতনার গভীরে সেকী অনুপম আন্দোলনে,
সেকী দুর্ধর্ষ সংগ্রামে জিতে নিয়েছিল স্বাধীন একটি ভূখণ্ড
' আমার সোনার বাংলা...', আমার মাতৃভাষা বাংলা আহা!
আহা! আমার স্বাধীনতা!
আচ্ছা বলুন তো, স্বাধীনতা কার? তৃতীয় বিশ্বের জনগণ,
স্বাধীন সব রাষ্ট্রের জনগণ, কোন স্বাধীনতার অধিকারী?
এশীয় উপমহাদেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা কবে পেলো?
তবু বুকের ওমে তারা লুকিয়ে রাখে একটি ভাষার নাম
সে আমাদের গর্বের মাতৃভাষা, আ মরি বাংলা ভাযা!
তবু একুশে ফেব্রুয়ারি রক্ত রাঙা সূর্যের দিন,
তোমার আমার সকলের জেগে ওঠার দিন!


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About