আজকাল সারাক্ষণ ফুল দেখি

কেন জানি না আজকাল সারাক্ষণ ফুল দেখি,
কারো কারো আসা-যাওয়ার পথে ফুলেরা বিছিয়ে থাকে জানি
কেউ কেউ আজীবন স্বপ্ন দেখে দুরন্ত ডানার ,
সব আশঙ্কাকে মিথ্যে করে শুঁয়ো থেকে তবুও প্রজাপতি !
আজকাল চারিদিকে শুধু ফুলই দেখি
এখানে হাওয়ারা চঞ্চল কাশফুল ,
 সকাল শিশিরসিক্ত ঝরা শিউলি, বুনো ঘাসফুল-
সূর্যমুখীদুপুর উন্মনাপারিজাত নীলিমায়,
কবে যে কে এসব বাগান সাজিয়ে গেছে আদিগন্ত সর্ষেফুলের আকাঙ্খায়
জুঁইয়ের হাসি, চন্দ্রমল্লিকার আনন্দহিল্লোল ছড়িয়ে ছিটিয়ে
রক্তলাল গোলাপের দাম্ভিকতায় !
তুমি কদমের গাম্ভীর্যতায় কলাবতী দু-মুঠোতে রেখেছিলে
বকুলের দুঃখ আর মৃণালিনীসুখ,
তোমার দুচোখ কি সেদিন পদ্মনীল ছিলো ! ঠোঁট পলাশ,
রক্তকাঞ্চন মুখ, কলাবতী হাতজুড়ে কাঁঠালিচাঁপা আঙুল ,
কান ঝুমকোলতা, নগ্নচুল নাগকেশর,  বুকজোড়া বিস্তীর্ণ ডালিয়া আর
নাভিশ্বেতপদ্মফুল !
তোমার চঞ্চল রঙ্গন পা দোপাটিনূপুরের ধ্বনীতে
কবে যে স্পর্শ করেছিলো মাধবীলতা জানালাটি কে !
কাঠচাঁপার দরজা ছিলো সেঘরে , নয়নতারা কেয়াদের বাসর
আদিগন্ত বসন্ত ছিলো, আদিগন্ত বর্ষার ধ্বনি ,
কৃষ্ণচূড়া বিকাল ছিলো, মালতীসন্ধ্যার প্রদীপ,
হাস্নুহেনা রজনীর মোহমুগ্ধ রাত্রি ছিলো, আকাশ পারিজাত !
এ সব দৃশ্যতই দেখি আমি
কারো কারো আসা-যাওয়ার পথে ফুলেরা বিছিয়ে থাকে,
বৃন্ত চ্যুতির ভয় থাকে নাকি, শশ্মানের চন্দনে কি জ্বলে অগ্নিকাঞ্চন ,
বসন্তকে সন্দেহ করে না সজনের ফুল, প্রলম্বিত কুয়াশাকে আমের মুকুল !
তুমি পারুলবিশ্বস্ততার বর্ণগন্ধহীন স্থায়ী স্ফটিক-কমল চেয়েছিলে
অথচ দেখো সম্বৎসর আমি মননের আকন্দ আর আত্মাহুতির
জবা ও ধুতরা ছাড়া অন্য কোনো ফুলকেপাইনি কোনোখানে !
হেনা সযত্নে এঁকে দিয়েছিলো তাই
ঘেঁটু আর ঝাঁটিফুল অবজ্ঞাকে,
প্রতিশ্রুতি হীনতায় ঝরে যায় কতো অজানা কুঁড়িরা !
বিরহী কুন্দ কি নীলাভ বেশীঅথবা
যন্ত্রণার তীব্র নীল অপরাজিতা
যেসব কুঁড়িরা হারিয়ে গেছে কবেকোনো ফুল স্থায়ী নয় জেনে !
অথচ, তোমারি সযত্নের বাগানে আজো ফোটে অদৃশ্য বেলিরা,
আমি সারা হাস্নুহেনারাত জেগে জেগে শুনি
পদ্মগর্ভ হতে পদ্মযোনি হয়ে কাদের আসা-যাওয়ার ধ্বনি !
কারো কারো আসা-যাওয়ার পথে ফুলেরা বিছিয়ে থাকে
কেনো জানিনাআমি আজকাল শেষবিকেলে সবখানেই ফুলদেখি
মৃত শুঁয়োদের বিবর্ণ খোলস দেখি-শুধু
প্রজাপতি দেখি না কোনোখানে !!





0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About