পরিলেখ

 চিত্রকরের চুলের গোছা উড়িয়ে, বাতাস দুলে ওঠা
এক নারী এসে দাঁড়ায় সমুখে।
ঝর্ণা কলমটি শিল্পীর দিকে বাড়িয়ে,
তৃষিত আবদারে মেলে দিয়ে হাতের করপূট,
              একটা ছবি এঁকে দাও না!
একবার চোখ তুলে দেখে নেয়; রমণীয় পুঁইয়ের ডাঁটা,
মদীর ঢাল বেয়ে নেমে আসা কান্তি, রেশমি চুলের-
                  মেঘ ঢাকা আধ পূর্ণিমা।

শিল্পীর হাত মুখর এখন শ্লোগানে। ঝর্ণার নাকছাবি ছুঁড়ে
ক্ষিপ্র আঁচড়ে এঁকে যাচ্ছে সে কারও - অর্ধনগ্না; নিটোল মাতৃকা।
থর-থর চিত্রপট, অধর তরণী কেঁপে ওঠে ঈষৎ অস্ফুট স্বরে,
                  - “ ইস...আস্তে!”  ব্যথায় কাতর করপূট শিরা।
 - “ কি হলো, কোন সমস্যা?” মগ্ন চৈতন্যে বেজে ওঠে-
শিস যুবকের, যুবতীর হাত তখনো এলানো - বেতসলতা!
আঁচলে ঢেকে নিয়ে শেষ বিকেলের চুম, নকশী পাঁড়ের দোল
হেঁটে চলে বলে,
                  আজ তবে আসি,
            সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো বলে!

- এসো, প্রতিদিন এসো!
 এসো প্রতিক্ষণ,
 সন্ধ্যা তারা হয়ে ফুটে থেকো তুমি,
 এসো - রাত্রি ভেদ করা আলো,
 এসো বার-বার;  অনেকবার...
          আবার তুমি এসো...


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About