বিদায় মুহূর্ত

কাল,
লোকালয় ছেড়ে গভীর জঙ্গলে যাব
যেমন কলেজ কেটে গিয়ে বসতাম
মজে যাওয়া কাঁসাই এর ঠিক মাঝখানে
যেখানে ব্ল্যাক হোল গুলো
ঘুমিয়ে অসাড়
মরিচিকা এক বোতল দেশী মদে গুলে
নিজের হাতে ঢেলে দেব
ফুয়েরারের মুখে, যার দাড়িতে আবার
ডোরাকাটা গাম্ভীর্য।

এখানে কোন খালাসিটোলা নেই
নেই ট্রাফিক পুলিশের রবীন্দ্র সংগীত
বরং কয়েক কিস্তি বকেয়া ডিএ র দাবিতে
সিপাহিরা বিদ্রোহের আগুন জ্বালায় ধিক ধিক
তুলির আঁচড়ে এক কোটি ছিয়াশি লক্ষের
একটা গোটা বিশ্বযুদ্ধ
খবরে বলেছে পরমানু বোমাটা
রাখা আছে দুহাজার উনিশের জন্য।

হারামজাদাদের স্টাটারে দেব আস্ত গীতা
ওয়াইনে ভেজানো রোস্টেড বেহালাটা
করুণ সুরে বাজাবেন আইনস্টাইন
ফুয়েরারের চ্যালা আসছেন শহরে
ক্যানিং লোকালে চেপে
বস্তি ঘরের লোকগুলোর সাথে

এখন আকাশ ফ্যাকাশে লাল
জলে গোলা, ডায়লুট
যেন জুরাসিক পার্কের ডাইনোসর
উজ্জ্বলটা গেছে ছত্তিশগড় গত সন্ধ্যার ঝটিকা সফরে
সেখানে বস্তিতে এখন আলোক, আগুন।

রেস্তোরায়, ট্রেনে, এমন কি সুলভ শৌচাগারে
অনবরত বেজে চলেছে রিংটোন
কেউ অসাবধানতায় সবুজ বোতাম টিপলেই
মুহূর্তের বিস্ফোরণে উড়ে যাবে সব।

পাড়ার কমিটি গুলোতে সন্ধ্যায়
মহাকাশচর্চার ক্লাশ হয়
স্লেট বগলে অনেকেই যায়
বিগ ব্যাং থিওরিকে সুতলি দড়িতে পেঁচিয়ে
জমিয়ে রাখা হয়
গোয়াল ঘরের পিছনে।

আমি ইদানিং যাদের সাথে মিশছি
তারা সবাই সমাজসেবক
প্রতি সন্ধ্যেয় আমরা একসাথে
হরিকীর্তন গাই তারপর তুলসিপাতা দিয়ে
একফোঁটা গঙ্গাজল মুখে
ধর্ষণযোগ্য মেয়ে খুঁজতে বের হই
রাতের শহরে
অটোতে ট্যাক্সিতে
অলিতে গলিতে
রাজপথে ফুটপাথে

কয়েকটি পাড়ায় তল্লাসি চালায়
কেস্টা, বীর আর নানকু সিং এর ছেলেরা
নেপালী বস্তির অ্যাংলো মেয়েটার
ফসফরাসের মতো চামড়ার লোভে ওরা
খাটো গলার জিরাফটাকে দিয়ে খাইয়েছিল।
হাইওয়ের ট্রাক, ব্যাডমিন্টন ফেদারের পর
মন্ত্রী এখন ক্যানসারেও
বিদেশি বিনিয়োগ চাইছেন যাতে
সস্তায় বিলি করা যায়
একটার দামে দুটোর অফারে -

শেষ রাতে ভাতের থালায় অটোগ্রাফ
দিতে দিতে
দিতে দিতে
আমি সাধারন এক গামছাওয়ালা থেকে
মুখোশমুখো পবিত্র সাধক হয়ে যাই-
একমুঠো ঝিলমিল চোখে ছুঁইয়ে
রঙ্গিন করে নি আধময়লা জামাকাপড়

কেননা কাল,
লোকালয় ছেড়ে গভীর জঙ্গলে যাব।।


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About