ঋতুবর্ণ

প্রেম আবর্তে সার্থক ক্ষত দিয়ে
সবার মতোই করেছো অস্বীকার,
স্বপ্নেরা একা নীল আশকারা বয়ে
বশ্যতা খোঁজে আমার রাতভাঙার!

শহর আজ-ও আড়াল করেই দেখে
শ্রাবণ নাহয় ভেজায় ঘরের আলো,
কত উস্কানি তোমার দুহাত বয়ে
মান করেছিল, জানবে গ্রীষ্মকালও!

আমি তো চাইনা বৃষ্টির পর্দায়
সব ধুয়ে যাক, দৃষ্টি কিংবা শোকে,
প্রেমের জন্য আর যেকদিন জাগি
সত্ত্বা হারাক নির্বিষ শর্তকে!

পাখির সঙ্গে মিথ্যে সাহস নিয়ে
চলার মন্ত্রে নতুন নতুন সাজো,
বুকের ত্রাণেই সময় স্মরণ নিলে
এ কোন স্পর্শে ঘুম ভেঙে যায় আজও?

বিচার আসে না, ফেরে শুধু বন্ধকী -
শরতের দান ফেরে বসন্ত এলে,
নিয়মের কাছে বাঁচতে শিখেও যেমন
মুক্তোর প্রাণ ঝিনুকের আবডালে!

পণবন্ধু

জীবন বলে যারে ডাকিস, সে তোর ডাক শোনে বিশ্বাসে?
জন্ম বলে যারে প্রকাশ করিস নিষ্ঠুর গতিমালার রূপে
সেও কি তার সাহস রাঙায় খোলা মাঠে, বিধির বারোমাস্যায়?
কে আসলে স্থায়ী? একা শুধু ভঙ্গুর নয়-
সমস্ত জীবন জুড়ে যার সাথে কথা বলতে চেয়ে পৃথিবীর সম্মতি চেনা
মিশে গিয়ে বিনাশের আশ্বাসে, সেও আজ আড়াল খোঁজে-
আমি তাও কথা বলতে চাই, চাই তার পণবন্ধু সেজে!

তবে কি মিথ্যে সব প্রসঙ্গ, আভরণ, মৃত্যুর ভয়?
যার শরীরে লেগে থাকে ধ্বংসের ক্ষয়, লোককথার আগুন
সে করেনি কখনো ভগ্ন ছায়ামালার দিকে একরাশ গন্ধর্ব নির্মাণ!
এখনো প্রশ্ন জাগে, কে তার তীর্থের কাছে
রয়েছিল ত্রিসন্ধ্যা, বিবর্ণ সভ্যতা সেজে...
আমি শুধু ডেকে গেছি সকাল, সন্ধ্যে, দুপুর গড়িয়ে রাত-
তবু কোন বিত্তের আড়াল থেকে জন্ম নেয়নি গর্ভজাত শোধ, ভীষণ সহজে-
আমি তাও কথা বলতে চাই, চাই তার পণবন্ধু সেজে!

যেটুকু নিহিত ছিল জীবনযাপন হয়ে দৈন্যতার ভারে,
সেই শুধু অমরত্বের দায় নিয়ে সদর্পে তৃপ্ত একা!
আমি কার কাছে শোনাতে চাই বিহিতের শব্দ?
কার ছন্দে ভোলাতে চাই বধ্য হওয়া সম্বন্ধগুলো?
মিথ্যে সব, মিথ্যে যত গ্রহণীয় উপকরণসময়
জ্বলন্ত বশ্যতার জন্য আজও কেউ জন্মায়, বর্ণিত অন্ধকারের লাজে-
আমি তাও কথা বলতে চাই, চাই তার পণবন্ধু সেজে!

ভালোবাসা বয়ে যায় আপন খেয়াল হলে,
যেদিকে তাকাই, শুধু স্পর্ধিত, অস্থির কিছু গম্ভীর মান্যতার ভিড়ে
মিশে যায় যত অনিষ্ঠের দাসত্ববোধ!
যে আজ একাই ঢেকে গেছে কিছু নির্বাক অরণ্যের মাঝে-
আমি তাও কথা বলতে চাই, চাই তার পণবন্ধু সেজে!
আমি একা কথা বলতে চাই, চাই এই নগ্ন সমাজে!

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About