চড়কের কাঁটা


চড়কের বাজনা বাজতেই সবাই যেন চুপ করে গেলো।
এবার নেঙটি পরা সাধুবাবা বড়শি গেঁথে গোল হয়ে পাক খাবে।
তারপর ঝাঁপ দেবে বাবলা কাঁটার ওপর। ঢাক, ঢোল, করতালের
আওয়াজ পেরিয়ে ভেসে আসবে সন্নাসীদের সমস্বর কন্ঠ
"জয় বাবা তারক নাথের জয়!"

এই সময়টা ভারি একা একা লাগে। ক্রমে ক্রমে  ঘিরে ধরে
জাগতিক অন্ধকার। মেটে রঙের কুলুঙ্গিতে জ্বলে ওঠে দিনান্তের দীপ।
ঘাপটি মেরে বসে থাকে দু-একটা মেনি বেড়াল। জানলা 'লে
পলাতকা বিজলি বাতির হলদে আলোর রেখাচিত্র আর ডুগডুগির শব্দে,
তোমাকে পাবার ইচ্ছেটা যেন তীব্র হ'য়ে আসে।

দরজাটা ভেজিয়ে দিতেই হিংস্র হয়ে ওঠে  অবসাদের লাস্যময়ী রাত।
টানাপোড়েনের পালা শেষ হ'লে, দুইজনে মুখোমুখি বসি।
চোখের ওপরে রাখি চোখ। তারপর কিছুটা শূণ্য সময় বয়ে গেলে,
বাইরে বেরিয়ে দেখি, কেউ নেই, কেউ নেই, শুধুই আমরা দুজন।
নিজেকে অনাথ মনে হয়।

নিজেকে প্রশ্ন করি, কাকে চাই? কাকে চাই? তোমার অনাসক্ত বিবর
নাকি ফেলে আসা চড়কের কাঁটা?

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About