তবুএসো

তবু এসো,
বোস কিছুক্ষণ,
হাওয়া খেলুক তালসুপারীর পাতায়,
দুলে উঠুক বাবুইয়ের বাসা,
ফিরে আসুক সোঁদালের দল, 
ঝড় নামেনি তবু মেঘ করুক ,
ধুলো উড়িয়ে যাওয়া বাসের থেকে নামুক প্রিয়জন,
আলপথ ছুঁয়ে উড়ে যাক কাজললতা পাখিটি ।


বয়ে যাক চেনা বেলফুলের সৌরভ প্রতি ধূলিকণায়
ঝরুক  পাকা তেঁতুল, আর কয়েদবেলেরা বৃন্ত থেকে
খসুক সবুজ  জামরুল আর জ্বরতপ্ত জামগুলি ;
হয়ত এবছর প্রার্থিত বন্যায় ভাসাবে বালুচর,
দ্বিধান্বিত হবে নদী হেসে উঠতে ক-দশক খরার পরে, 
তবু এসো, পাহাড়ের উলটো পিঠ  থেকে সরল রেখা হয়ে
 যখন ঘুরে যাবে রূপোলী  বৃষ্টির ছাট এইদিকে,
 বুঝে ওঠার আগেই ভিজে শিহরিত হবে স্নিগ্ধতায়, আর
সব পথ এসে থেমে যাবে ‘কি জানি কি হবে’র দাওয়াতে।


উৎসব আর না হলেও এসো, নরম লাল
পানিফলের কাঁটায় নীলাভ ফড়িং নাই বা বসল,
নাই বা ছুঁলাম দুজনে আর কোমল  তালশাঁস,  
কিম্বা বুরুজ ভরে থাকা পানপাতায় শুভদৃষ্টির গল্প,
তবু আমি তো সেই আমি, তুমিও তো  তুমি,
যাক না  উঠোন ভেসে অঝোর বৃষ্টিতে
ফিরে যাবার পথ না থাকুক আর
একমাত্র সেতু ভেঙ্গে প’ড়ে চুরমার হয়ে
তীব্র উপায়হীন করুক তোমাকে ;


 ছায়া নামুক বনান্ত জুড়ে, গভীর অন্ধকার রাতে
ডাকুক খামারের পেঁচা, ক্ষুধার্ত জন্তু কোথাও, 
তবু এসো, পৃথিবীর  সব ভয় তুচ্ছ করে 
আমার কবিতা-মগ্ন প্রহরে ।

কত বছর যে হল শুনিনি তোমার কণ্ঠস্বর,
ভেতর ছেনে মধু সমান গহন ঝংকারে
বেজে উঠিনি সেতারের মীড়ের নিবিড়তায়, 
কত যে জন্ম তুমি হারিয়ে আছো আমার কাছ থেকে,
আমি কতদিন যে দেখিনি প্রিয় মুখটির উজ্জ্বল আভা, 
হাত রাখিনি শিল্পীত আঙুলের ভাঁজে ভাঁজে,
ছুঁইনি ভাগ্যরেখা আর নামেনি জ্বরের আভাস
সারাটা পৃথিবীর সব সমুদ্র তোলপাড় করে, 
আর্দ্র হয়ে ওঠেনি শুকনো  দুচোখ, অন্তঃস্থল।

তিন জগতের সব সুখ ছেড়ে ফিরে আসতে চাই
কেন শুধু এইখানটিতে, তোমার খুব কাছটিতে, 
গা ছুঁয়ে থাকতে চাই ফুল-তোলা বালিশটির মত
নিবিড় দিনের নরম প্রান্তে ভরে উঠতে চাই,
আজ মনে করাও আরো একবার।

ভালোবাসা নামুক আবার পাগলা ঝোরার মত
হিসেববিহীন, মত্ত প্রেমে মথিত হোক
জীবনের স্রোত, প্রাণ পাক রূপকথা
তোমার আমার বুকে, অনন্ত,
অনন্তবার ভালোবেসে,
আমাদের নিজস্ব ইতিহাসে।   

1 মন্তব্য(গুলি):

Sofil Ahamad বলেছেন...

চমৎকার একটি কবিতা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About