এখন গাছ দেখলে মায়া হয়

কবরস্তানের পাশের রাস্তায় গাছগুলো ঝুলো অন্ধকার হয়ে থাকে
পাতার ফাঁকে ফাঁকে কি অপরিসীম চাকচিক্য
কি একটা আশ্রয় দেওয়ার আভাস
আমার তো শেকড় নেই, আশ্চর্য হয়ে যাই ওদের টান দেখে
এক পশলা বৃষ্টি নেমে আসে সন্ধ্যেবেলা আর গাছগুলো জোনাকি হয়ে যায়

আমাদের বাড়ির পাশের যে বৃক্ষটি এতদিন ছায়া হয়ে ছিল,
যার তলায় আমাদের খেলা শেষের জটলা,
বস্তির ছেলেগুলোর বৃষ্টির দিনে পেয়ারা পাড়ার উচ্ছ্বাস
সে আর নেই
জায়গাটা বিবর্ণ ঝোপ হয়ে আছে
বিবর্ণ আর আমি কাঁটা গুণছি তার বিষণ্ণ দিনে

আমি আমার স্কুল চিনতে পারি না
একদিন যে পথে হেঁটেছি সে ছিল ছায়াময়
হাতে হাত ধরে পথ চলেছিল ওরাও, হেঁটেছিল আমার রূপকথা
আমার বড় হওয়ার গল্প
    ফেলুদা, শঙ্কু, টিনটিন, বন্ধু দেবজ্যোতি – সব ছেড়ে গেছে
লেকটাউনের খালের ফুটে দাঁড়িয়ে আমি ভাবছি কোনটা আমার স্কুল
সামনে মরুভূমি  - ( ও হ্যাঁ, উন্নয়ন হয়েছে)

আজকাল বড় মায়া হয়
শিশিরের মত জল জমে থাকলে গাছের পাতায়
ভোরের কুয়াশায় ছাতিমতলা দেখলে
আচমকা গন্ধ ভেসে এলে কাঠগোলাপের
    পরিণতি জেনে গ্যারেজের পাশের সেগুন গাছটার






0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About