এই সংখ্যায় ২৬টি কবিতা । লিখেছেন - বিশ্বরাজ ভট্টাচার্য, স্বপন চক্রবর্তী, ইন্দিরা দাশ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, সুবীর সরকার, প্রণব বসু রায়, যাজ্ঞসেনী গুপ্ত, রাজ্যশ্রী রায়, সুপর্ণা ভট্টাচার্য, জারা সোমা, তুলসীদাস ভট্টাচার্য, বচন নকরেক, চন্দ্রাণী বসু, অমিতাভ দাস, বৈশাখী দাস, মৌসুমী ঘোষ দাস, পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়, মীনা দে, রুমা বসু, বিনতা রায়চৌধুরী, পলাশ কুমার পাল, বেথুন বেরা, মলয় সরকার ও ইন্দ্রাণী সরকার ।

              সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন
বিশ্বাস, শেকড় ইত্যাদি

ছুঁয়ে থাকার জন্যে
নাছোড় ভালবাসা দরকার
ছোঁয়া মানে উষ্ণতা
দিয়ে উষ্ণতায় হাত
বুলানো নয়; নয় ত্বক দিয়ে
শুধুমাত্র উদাসীন ত্বক-স্পর্শ!
ছুঁয়ে থাকা মানে, গভীরে গিয়ে
গুহ্য শেকড়টাকে অনুভব করা
এই শেকড়ে হাত রাখলে এক বিশ্বাস
ভূমিষ্ঠ হয়; এই বিশ্বাসের নাম
ছুঁয়ে থাকা।
তোমার প্রতি যদি তীব্রতর বিশ্বাস
না জন্মায় তা হলে ছুঁয়ে থাকা যায় না
বিশ্বাস, শেকড় ইত্যাদি
ছাড়া আসলে
ছুঁয়ে থাকা যায় না...
রোদ্দুরের গান


জাতিস্মর নই,
তবু সহস্র  জন্ম  জন্মান্তর ধরে
দু'হাত পেতে রাখি আকাশের নীচে
দু'হাত পেতে রাখি অরণ্য শেকড়ে !

এই দুই হাতে অসংখ্য গল্প আছে জমা,
এই দুই হাতে অনাবিল রোদ্দুর
খেলা করে আপনমনে মহাকালেশ্বর
এই দুই হাত ছুঁয়ে থাকে বৃষ্টির সুর !

শেকড়ের গান উঠে আসে নীরবে
হাতের শিরা বেয়ে ব্রহ্মরন্ধ্রপথে,
দিকশূন্য মন আলুথালু ছায়াপথে ঘুরে,
চেতনার উন্মেষ ঘটায় ভাবের আবর্তে !

এই জন্ম পার হয়ে আরো আরো জন্মে
আরো কত কী জমা হবে এই দুই হাতে,
আরো কত গান, আরো কত বিরহগাঁথা
আরো কত দু:খের দিন, সন্তাপ সাথে !

না জেনেও দু'হাতে জমে কালের বীজ,
অজানা মোহন মুদ্রায় ঋতুকথা আঁকে,
গোপনে জলের রেখা পথ কাটে বুকে
শিরায় শিরায় নদী উছলে অজস্র বাঁকে !

দূর দূর হতে কে যেন ছড়ায় ভৈরবী সুর
দু্'হাতে সংঘাতময় গল্পবীজ ছন্দরোদ্দুর!
লজ্জা

ফেরিউলির ঝুলিতে টান মেরে
ওরা শাড়িতে হাত দিলো
গভীর গলিতে রাত বেড়েছে
আজকের শিকার এমনতরই শুকনো
বলে উঠল নেশায় ঘর্ঘর গলা
আজ একেই ছিঁড়ে খাওয়া যাক,
তার আগে বের কর্কি আছে তোর ঝুলিটায়
বছর পঞ্চান্ন বিধবা বিড়বিড় করে
দ্বিতীয় বিশযুদ্ধের পর মড়ক রয়েছে
পার্টিশনের উদ্বাস্তু ক্যাম্প রয়েছে, বাবা
বান্টু-চিনু খিধের কান্না
আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের সাদাকালো ফটোটা” 

ওরা দ্যাখে ফুটপাথের কোণে একপাটি পুরনো স্যান্ডেল
ওরা দ্যাখে সরে যাওয়া শতচ্ছিন্ন শায়ার আড়ালে  
একদার প্রসবযন্ত্রণা
ওরা দেখে ছিঁড়ে ফেলা ক্লান্ত আঁচলের ফাঁকে  
একজোড়া শ্রান্ত মাতৃকলস

ওরা কি কাঁপা হাতটায় তুলে দেবে কাঁচভাঙ্গা চশমা 'টা ?
ওদের শিশ্নের তীক্ষ্ণতা কি নুয়ে আসবে?
ওরা কি ঝুলিতে তুলে দেবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়া যুগান্তের স্নেহ?

ওরা কি করবে এসব?


অন্য ইন্তিফাদা

নিশ্চিন্ত ঘরের কোনে মুখ ঢেকে বসে থাকা যে সব বন্ধুরা ভেবেছেন        
                 লড়াই থেমে গেছে,
                 প্রহরের নকশীকাঁথায়
                 এবার শুধু বুটী তোলা,
                 উদ্বেলিত তরুনী হাতবদ্ধ
                 সেক্সি সিনেমায় অবগাহন
                এবার শুরু নির্মোক জীবন-
এ কবিতা তাঁদের ব্যাথা দেবে নিশ্চিত।

শালবনের ফাঁকে বেয়নেটবিদ্ধ সূর্যের
অনিশ্চিত লুকোচুরি        - এখানেও,
অর্দ্ধভগ্ন আয়নার কাঁচে শিরা উপশিরায়
ভগ্ন প্রতিবিম্বের খিলখিল     -এখানেও,
সময়ের নিশ্চিন্ত সামতলিক স্রোতে অন্তঃশীল বিপরীত চোরাস্রোত।


চলো আজ মিশে যাই
                      আকাশের ধূসরতায়
                  অঙ্গারভূমির তীক্ষ্ণ রক্তিমাভায়
বোবাকান্নারা আয়োজন করে এখানেও

                                   অন্য ইন্তিফাদা।
হেঁয়ালি

হেঁয়ালির মত কিছু একটা
আষাঢ় সাজানো আলপথ
অগ্রাধীকার পাবে দিঘীর জল
তুমি হেরে যাবে সে তো আমারই
                 পরাজয়
আমাদের চোখ সরাসরি মঞ্চের দিকে
আপনি কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে শট
                 নিচ্ছেন
গল্প যতই এগোয় ততই রাত বাড়ে
আমাদের কোন সন্ধিপ্রস্তাব নেই
আমাদের কোন যুদ্ধবিরতি নেই
অকারণে বাজতে থাকে বাজনাগুলি











প্রাইভেট লিমিটেড বর্ণমালা

অঙ্কের উত্তর হয়, তবে সব অঙ্ক এক নয়
গমনে উড়ান লাগে, গন্তব্য আলাদা আলাদা

এক আকাশ মেঘ নিয়ে গিয়েছি যখন
তুমি রচনা দেখাও গরু ও মহিষের,
পেডিগ্রি ও দুধের হিসেব দিতে দিতে
ল্যাক্টোমিটার ধরিয়ে দাও আমার হাতে।
মিটারে আঁকা দাগের তাৎপর্য বুঝতে পারি নি
আমার চোখে তখন অর্ধেক অন্ধকার। সেকথাও
অজানা ছিল না তোমার।
কিছু কি বলল কেউ বিদ্যুৎ-ভাষায়!
তার বর্ণমালা এখনও প্রাইভেট লিমিটেড

পুণ্যের দিন নিকট বলে জলসত্র খুলেই রেখেছি
ক্লান্ত পথচারী সেখানে দুদন্ড জিরোয়, জল খেয়ে যায়


ট্রাপিজের খেলা
      
একটা শুকিয়ে থাকা নৈরঞ্জনা... 

তার উৎস ভরে যেতে    
যথেষ্ট -যৌবন  
                   মেঘ দরকার

তারপর ফোঁটা ফোঁটা করে প্রবাহ ছুটবে
পরিনির্বাণ সমুদ্রমুখী...

পানকৌড়িটিও ডানা শুকোবে রোদ্দুরের হ্যাঙারে

একটি বৃষস্কন্ধ রুক্ষ চারণক্ষেত্র
           পরিভ্রমণ করে চলেছে রোদের ভেতর

দিনগুলি রাতগুলি ছেঁড়া ন্যাকরা 
 কিংবা পাপোষের মতো
                       বিছিয়ে পড়ে থাকে

সাবলীল অনাগ্রহের ভেতর
আমি তো আসমুদ্র প্রবাহিত হতে চেয়েছি 
তবু নিরন্তর
এপার ওপার সরু দড়ির উপর 
ট্রাপিজের খেলায় কেন ঠেলে দাও,
ও বাজিকর?


দহন

অন্ধকার গাঢ় হলে 'পর
আমার অবিনাশী  ভাবনারা
নিঃসঙ্কোচ স্বীকারোক্তি করে চলে,
নির্বাসিত  উন্মাদ স্বপ্নসাধে
হৃদয়ের মোক্ষণ নিরন্তর  ,
অন্তর্দহনে দগ্ধ হৃদয় মুক্তি চায় l
তারপর.....
পার্থিব ভাবনার অস্হিভস্ম
ভাসাই গঙ্গায়
শূণ্য অনুভবে , আত্মিক বন্ধনে
অসীম ক্ষমায়
তোমাকে পাই।


রূপকথা

আস্তে,,মেয়ে জেগে
এতো রাত অব্দি!
,রাত হয়েছে,খেয়াল আছে তাহলে!
পাড়া কেমন নিঃঝুম,,কুকুরগুলো পিছন পিছন আসছিলো
চোর বা মাতাল ঠাউরায়,তা তুমি তো আর চোর নও
জানি,মাতাল
তালে তো এক্কেরে ঠিক
চোর হতে বুকের পাটা লাগে রাণী  ,
সে আর বলতে,মাতাল হতে দুঃখু লাগে শুধু
আমি মাতাল হই না তো রাণী, মাতাল হতে না চাইলে কেউ মাতাল হয় না
মরণ!!হাত পা ধুয়ে গিলে উদ্ধার করা হোক আমাকে
হলুদবর্ণ  আলো। থালা ভরা সাদা ভাত। লাল আলুর দম।
অদ্ভুত ,,,নির্বাক,,,,মুখ নাড়ার শব্দ 
খাটে এক শিশু,,,অপলকখোলা জানলা দিয়ে জোছনা দেখছে ঘুম আসছে বুঝি
আকাশ ভরা তারা নির্ঘুম,
রাণী ,কথা ছিলো
কাল শুনবো
শিশুটি ঘুমালো,,
মায়াবী রাত নীল রাতবাতি বাইরে জোছনা
রূপকথার দেশ
পা ভাঁজ করে বসে খাটে রাণী তেলাল মুখে ক্লান্তি
ভালোবাসো রাণী এখনো আমাকে?
আদিখ্যেতা 
কেমন রাজকন্যের মতো মেয়ে তোমার রাণী  
,আমার একার ?রাজামশায়ের নয় বুঝি??
গলায় দলা পাকালো কিছু ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়া 
বরখাস্তর চিঠিটা চোখে জ্বালা ধরালো
ভিখিরি রাজা তোমার, রাণী 
তাহলে আমি দুয়োরাণী
রাত গভীর হয়।
রপকথারা ঘুমায়।

 অন্তর্জলী

আমার অভিমানগুলো ভিজেছে সারারাত
তবুও ফিরিনি রাগ অনুরাগে
 বর্ণিল জীবন্ত উৎসব উদযাপনে
ভালোবাসার জন্যই অপেক্ষারা বেঁচে থাকে

সুদীর্ঘ যাত্রাপথে অনামী গুল্মে ভরে
সকল বেলা কালবেলা
মুখোশের আড়াল আবডালে ইঙ্গিত
আদানপ্রদানে সুনিপুণ অভিনয়
পথপাড়ির ক্লান্তি ভুলে আঁকড়ে ধরি
কাঙ্খিত দ্রাক্ষারস

অনেকেই বলে এ এক কর্তব্যের খেলা
কাজ শেষে ফিরে যাওয়া অনন্তের পথে
আলুনি বেঁচে থাকায় আমার দ্রোহ নেই
বরং ভেজা দাঁড়কাক খেয়ে যাক
অসময়ী ছোলাগুড়

ফিরে যাব না এত সহজে , বরং তীব্র আশ্লেষে
জড়িয়ে থাকি সময়ের অজগর
ঋষিমুনীরা সামলে দিক ধর্মকর্ম
মৃত্যু নামক শব্দাবলিকে উপেক্ষা করে
এগিয়ে যাই ঘুম ভাঙা পৃথিবীর পথে.......




About