মেরা ভারত মহান


এক ছোট্ট গা ছমছম নিশ্চুপ অন্ধকার ঘর, 
এক শিশু ভয়জ্বরে থরোথরো ঘাম স্নান সারে। 
অদুরে কাঠের চৌকিতে কামাখ্যাদেবীর পট অতন্দ্র পাহারায়
"তিনসাল কি জওয়ানি"-র।
ঊপাচারে কমলকলি, জবার মালা, করোটি, কারণবারি, 
ধুপধুনোর ধোঁয়া ছাপিয়ে ষাটোর্ধ পুজারির লোভ চকচকে চোখ,
সিদ্ধি চাই,চাই আয়ু, চাই কাম,চাই অক্ষম পৌরুষে ধর্ষকাম তৃপ্তি,
লোভী হাতে কমলকলির পাপড়ি টেনে টেনে অসময়ে ফুল ফোটায়,
ঘরের ভয় ভয় আঁধারকোণে সাজায় পুর্ণ ঘট,
কামাখ্যাতীর্থে সতীর হাত নেই, পা নেই, 
অন্ধকারেই মেলা থাকে গৌরীপট যোনি,
যোনির 'লাল'রহস্য, রমণীর গূঢ গোপন গন্ধে 'ম ম' করে অন্ধকার,
সুচিভেদ্য অন্ধকারে শীৎকারে নয়, সকরুন চিৎকারে 
তিনবছুরে শিশু রমণী হয়,
রমণী রমণযোগ্যা, পুরুষভোগ্যা,
(পুরুষ-)সংসার সুখের হয় 'রমণের' গুণে,
অত:পর গোপন রতিসুখ মিটে গেলেই
সুচাগ্র পরিমান আনন্দও শেষ,
আদিম উল্লাসে, পাশবিকতায়, একে একে  
সূঁচগুলি বিঁধে যায় একরত্তি দেহে,
পাশের উঠানে সন্ধে নামে, তুলসীতলায় শাঁখ বাজে, 

অন্ধকারে গোঙায় আগামীর মহাভারতীয়  শৈশব,আবারও....
ভারতবর্ষ মহাভারতের দেশ, মহাভারতীর ভাগ্যে শুধুই বস্ত্রহরণ, আর যন্ত্রণা !





2 মন্তব্য(গুলি):

Shankar Bandyopadhyay বলেছেন...

ভাল লেখা, তবে বিষয় উপস্থাপনার সাথে একমত নই। একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে গোটা পুরুষ জাতিকে দোষি সাব্যস্ত করা ঠিক নয়। নারী পুরুষ নির্বিশেষে যে অন্যায় করে প্রতিবাদটা তার বিরুদ্ধেই হওয়া উচিত।

moudasgupta বলেছেন...

পড়ার জন্য ও মন্তব্য করে সম্মানিত করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। গোটা পুরুষজাতি কোথায়, এখানে বৃদ্ধ পুরোহিত উপমায় তো সার্বিক কিছু বলা হয়নি, একজনকেই নির্দিষ্ট করে দেখানো হয়েছে।আর শেষ লাইনটি নিয়ে আপত্তি থাকলে বলি, ভারত মহাভারতের দেশ, এই ভাবেই লেখা হয়। মহাভারতীরা যুগে যুগে অপাংক্তেয়ই ছিল, আছে, থাকবেও।তবে তার জন্য কোন পুরুষকে দায়ি করা হয়নি তো!!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About