স্বপ্নেরা ছুটি নিক কিছুদিন

সব স্বপ্নেরা ছুটি নিক কিছুদিন,
কবি কবিতার বদলে,কলমিশাকের চাষ করুক,
গল্পকার গল্পের প্লট বানাক,শ্মশানের শান্তিতে,
সব গোলাপের রং কালো হয়ে যাক এক নিমেষে,
অনন্তশয্যায় ঘুম আসছেনা বিষ্ণুর,
আমি দেখতে পাচ্ছি  প্রফেটের চোখে জল,

কিছুদিন ছুটি নিক প্রেম,
প্রেমিকেরা পাইপগান হাতে নিয়ে যুদ্ধ শুরু করুক,
আপেলের স্বাদ,হয়ে যাক আমলকির মতো,
সকালের প্রথম সূর্য্য প্রতিদিন ঢাকা পড়ুক কালো মেঘে,
হাতে টাকার থলি নিয়ে, বিচারকের সঙ্গে দর কষাকষি চলুক,
ভেজাল ডাক্তারেই ভরে যাক হসপিটাল গুলো।

সব স্বপ্নেরা ছুটি নিক কিছুদিন,
বাল্মীকি আবার শুরু করুক ডাকাতি,
বুদ্ধদেব ফিরে যাক সুজাতার কাছে,
বিষ্ণুপ্রিয়া ভালোবাসার টানে আটকে রাখুক নিমাইকে,
রোকেয়া শাখওয়াত বন্ধ করে দিক নারী শিক্ষা,
শাজাহান ফিরিয়ে নিন তাঁর ভালোবাসা,মিলিয়ে যাক তাজমহল,
আদি শঙ্করাচার্য্য আর বলবেন না সবাইকে এক হয়ে থাকবার কথা,

কথামৃতর  শব্দগুলো বদলে যাক অক্ষরে অক্ষরে,
নজরুল ভুলে যান,সাম্যের গান গাইতে,
রবীন্দ্রনাথের গান থেকে মুছে যাক লালনের সুর।

স্বপ্নেরা ছুটি নিক কিছুদিন
এই ভারতবর্ষ স্বপ্নের নয়,
আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে,
আজানের সুরের সঙ্গে যেখানে মিলে যায় হরিনাম,
আজহারউদ্দীন লম্বা জুটি বাঁধেন শচীনের সঙ্গে,
সুরজিত সেনগুপ্ত- পাস থেকে গোল করে যান আকবর,
পিকে ব্যনার্জী চেঁচিয়ে ওঠেন,হাবিব,মানস কে বলটা দে ----------

আমি চিনতাম আমার ভারতবর্ষকে,
রবিশংকর আর জাকির হোসেন সুরবাহারের তুফান তোলেন,
গোলাম আলির প্রতিটি মেহফিলে,মজে যায় তামাম ভারতবাসী,
নেতাজীর একটি মালার জন্য রেঙ্গুনের ধনী ব্যবসায়ী মি.হাবিব,
সেই সময় আজাদহিন্দ বাহিনীকে দিয়ে দেন এক কোটি টাকা,
আমি চিনতাম সেই ভারতবর্ষকে।

আজ যখন চারপাশেতে
হানাহানির জয়,
ক্ষিদে ভুলে অস্ত্র হাতে,
এদেশ আমার নয়,

আমার ভারত অন্য রকম,
সেজে ওঠা অঙ্গনে,
বিসমিল্লা সানাই বাজান,
দূর্গাবাড়ির  প্রাঙ্গণে।

1 মন্তব্য(গুলি):

Sreelekha Mukherjee বলেছেন...

চমৎকার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About