রাজগৃহে


এক

রাজগীর যত এগিয়ে আসছিল
আমি দেখছিলাম তুমি ক্রমাগত সাদা হয়ে যাচ্ছো
তোমাকে মনে হচ্ছিল সন্ধ্যা এক, যেন বিপন্ন বৈশালী
 অজাতশত্রু এসেছে নগরপ্রান্তে, প্রভাতেই যুদ্ধ
এই ধূসর শাড়ি তোমাকে আরো প্রাচীন করেছে
এখানেই সাম্রাজ্য, আমি আসি বার বার, মল্যযুদ্ধের মাটি দুগ্ধে ভেজা, কৃষ্ণছলে ভরা

দুই

গৃধ্রকূট পাহাড়ে বহুদিন পর অকালবর্ষা নেমেছে
আমাদেরই আগমনে, অহম্ মাল্যবান তুমি জয়শীলা
এরকম নাম মনে হয়, তোমার কাছ থেকেই স্বপ্নে শোনা,
এ স্তব্ধতা তোমার বুদ্ধজাত, শ্রমণ বিষাদে জারিত
বিম্বিসারের কালে রাজগৃহে শ্রেষ্ঠীগৃহে রবাহুত এক কন্যা ছিলে
এ জন্মে আমার কাছে, অপঠিত প্রত্নলিপি, আতশকাচে পড়া অশ্রু ও হাসি

তিন

নগরীর দ্বার খুলে গেল, উষ্ণ প্রস্রবনের খনিজ ধোঁয়া
বর্তমান আমাদের নয় এখন, কুশাগ্রপুরীতে বসবাস,
ছুঁয়ে আছে দেড়হাজার বছর আগের ষোড়শ জনপদ,
চম্পানদী তীরে প্রাচীন গ্রীষ্ম কলহ।

ডাইরীর পাতায় মগধের রাজকলম, আমি চৈনিক  পরিব্রাজক, তোমার মধ্যেই ইতিহাস সভ্যতার।

কাষায় বস্ত্র পরিধানে,
তবুও চুরি করি চূর্ণ চুলে গাঁথা পত্র পুষ্প, পারস্য দেশের সুগন্ধি ও সন্দেহ।

চার

বেদান্ত ঘটেছে যেন পঞ্চপর্বত বলয়ে, জেগে উঠছে
"ঈশাবাস্যমিদং সর্বম্ "
সব ভার লঘু হোক, হৃদয়ে জমছে  ছায়াহীন দেবগৃহ
গুহামুখ মন্ত্রময়, ঈশ্বরের সঙ্গে জাগছ তুমি
কোনদিন সাধক হবো না, পথচারী রবো আমি প্রিয় গহনে

পাঁচ

শাক্যপুত্র, প্রশ্ন ছিল! শান্তি কেন চাই? অশান্ত থাক সব,
সমৃদ্ধির জন্ম হোক রাজদন্ডে, সৌধের গায়ে থাক ইর্ষার ক্ষুধা
কালশিলা, স্বপ্তপর্ণী, চৌরপ্রপাত ঘুরছি,
ধুলোতে যেন পাচ্ছি  রাজভক্তি, বিচ্ছিন্ন মন্ত্র উপনিষদের
সম্বোধি লাভের সন্ধিক্ষণে দেহ ছেড়ে বেড়িয়ে যায় অন্ধকার, আলোকিত তুমি,
আমিও ছিলাম তোমার পাশে।
মগধের কলরবে শ্রমণের মিছিল,
জয়শীলা বলেছিল তার দেহে অসুখ ছিল তখন  খুব
ঔষধি উপচার এনেছিল শ্রেষ্ঠী পিতা জীবকের গৃহ থেকে
তারপরে আর বলে না, যেনো এক ধর্মান্তর, ক্ষয়িত ব্রহ্মচারীণি,
এই সময়ে, সোন নদীতীরে, জরাসন্ধীয় বিভাজন মেনে
চলো আমরা  মিশে যেতে থাকি বিস্তীর্ণ মগধভূমিতে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About