মেঘমল্লার

রোজ সন্ধ্যে বেলা আকাশ দেখতে দেখতে
মেঘের সাথে প্রথম আলাপ।
আমার রাজ্যের মন খারাপেরা 
বাষ্প হয়ে মিশে যেত মেঘের সাথে।
এভাবেই কবে যে এক অদৃশ্য সেতু
গড়ে উঠল দুজনার মনের মধ্যে
 কে জানে?

 হঠাত একদিন মেঘ নেমে এলো
 মনের ছাদে।
 কড়া নেড়ে বলল, “চলো,
আজ তোমায় নিয়ে যাবো আমার দেশে
আহ্লাদে আটখানা হয়ে মেঘের হাত ধরলাম।

ঘুরে বেড়ালাম মেঘের  দেশে,
এপ্রান্ত থেকে সেপ্রান্তে।
কখনো পাহাড়ের মাথায়
কখনো ঝর্ণার ধারে।
কখনো মাঝ আকাশে,
কখনো পৃথিবী ছুঁয়ে!

সেখানে কত রঙের
কত আকারের মেঘ
এধারে ওধারে বৃষ্টিদের সাথে
 সোহাগে মেতেছে।

এসব দেখে শিহরিত আমি
মেঘের হাত ধরলাম আবেশে।

মেঘ আমায় নিয়ে গেল ঘন বনের ভেতর।
সেখানে শাল, পিয়াল, দেবদারুর শাখায়
 দোল খেতে খেতে,
 পাতার ফাঁক দিয়ে আসা
পড়ন্ত বিকেলের রোদ্দুর গায়ে মেখে নিয়ে,
একটা ঝুমক লতা আমার খোঁপায় গুঁজে দিয়ে,
 আমার হাতটি হাতে নিয়ে বললে,
ছেড়ে যাবে না তো কখনো”?

চোখের কোণে জল টলমল,
আবেগে থরথর আমি বললাম,

মেঘ ছাড়া বৃষ্টির অস্তিত্ব দেখেছো কখনো’?

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About