এই সংখ্যায় ২৮টি কবিতার লেখকসূচি - বর্ণশ্রী বক্সী,সুমিত্রা পাল, সোনালি বেগম, তুষ্টি ভট্টাচার্য, সেমিমা হাকিম, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, অদিতি শিমুল, তপন মন্ডল, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, শশাঙ্কশেখর পাল, যাজ্ঞসেনী গুপ্ত, শৌনক দত্ত, মৌ দাসগুপ্ত, কাজরী তিথি জামান, পদ্মাবতী রায়চৌধুরী, লিপিকা বিশ্বাস সাহা, নীলদীপ চক্রবর্তী, সুনীতা দাস, বিনু মাহবুবা, কোয়েলী ঘোষ, শীলা বিশ্বাস, অরুণ সেনগুপ্ত, সাকিয়া রিপা, স্নিগ্ধা বাউল, জয়তী দাস, পলাশ কুমার পাল ও দেবর্ষি ভট্টাচার্য ।

     সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন
বাবাজী

অন্ধ সময়ের বাঁকে ঝুঁকে থাকে 

পলকা সেতুর গায়ে ধারণ ক্ষমতা 

রক্ষক সেজে ভণ্ডামী চলে

সন্ন্যাসের মাধুকরীতে রক্ত ছাপ ,

রুদ্ধ চেতনার কারাগারে মুক্ত চিন্তা 

খাবি খেতে থাকে ধর্মের পবিত্রতায়

কালি ছিটিয়ে নোংরাকারী সহজীবি!

ধর্ষণের ক্লেদ লেগে যায় সামাজিকতায়

গুরুর গরিমা ধূলিসাৎ মৃত্যুর যবনিকা পাতে,

দাউ দাউ জ্বলে ওঠে অসংবৃত চিন্তার 

সুবিন্যস্ত সংসার ।



দ্বিধাহীন

সন্ধি'র নিয়মে ভাঙ্গিনি কোন শব্দ
বিনির্মাণের ছন্দেও নয়
অথবা ঢেউ এর পরে
যে ভাবে ভাঙ্গে ঢেউ!

হঠাৎ সামুদ্রিক উচ্ছ্বাস যে ভাবে ভেঙ্গে ফেলে
উপকূলবর্তী জীবন বিন্যাস...
নীরবতাকে ঠিক সেইভাবে ভেঙ্গে গুঁড়ো গুঁড়ো করে
সরব ইতিবৃত্তে ঢুকে পড়েছি আমি!

আত্মমন্থনে উঠে আসুক অমৃত অথবা গরল
দ্বিধাহীন আমি
পান করে যাব অবিরল।


ছুঁয়ে যায়

ঝড়ের বাতাসে তোলপাড় দক্ষতার মূল্যায়ন

যৌনমুক্তি চাক্ষুস করে সমাজের দগ্ধ চোখ

ক্ষণস্থায়ী অন্ধকার আলো শিথিল গৃহকোণ

নিরাপত্তার চাদর জড়িয়ে যন্ত্রণার অবসান

পারস্পরিক টেনশন সরিয়ে স্পষ্ট সমঝোতা।

সমকক্ষ স্বাধীনচেতা শক্ত জমির কেন্দ্র

প্রস্ত্তত হও ঈর্ষাহীন আইনসিদ্ধ ব্যবস্থা।

সন্তানেরা চায় মা ও বাবা-র যুগ্ম পরিচয়

টলটল জল সম্পর্ক খণ্ডিত নয় কখনও

শুধুই কাগজ-কলম সরিয়ে দিয়ে হৃদয় ছুঁয়ে যায় –––– 
অন্নপূর্ণা

সে অন্য কেউ
অন্য চেহারার কেউ এসে প্রবেশ করে আমার ভেতরে
খুবলে নেয় কিছু মাংস, শুষে নেয় রক্ত-ঘাম
হৃৎপিণ্ড থেকে টেনে নামিয়ে আনে ক্লেদ
গায়ে কাঁটা দেয়
শিউরে ওঠে শব্দের পাষাণ প্রতিমা  
প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরে সেই দেবী এসে বসেন আমার খাতায়
অমৃত অক্ষর বুনে দেন কিছু আমারই অগোচরে

তাকে চিনি নি কোনদিন
তার স্বর ভীষণ অচেনা
আমি এক সামান্য মানুষ, কী করে জানি তাকে!
তিনি সেই অমেয় কালি, তিনি সেই বিষাদ প্রতিমা
তিনি সেই সমুজ্জ্বল চন্দ্র, সূর্যের তেজ
তাঁর হাতেই সঁপে দেব ভেবেছি কতবার
তবুও এই নশ্বর দেহ, কী মোহে আটকে থেকেছি

দয়ার শরীর তাঁর, তবুও এসেছেন আমার কাছে
অন্নপূর্ণার ভান্ডার উপুড় করেছেন এই দীনের হাতে
আর লিখে গেছি সেই মহিমায়
তবুও হতে পারি নি তাঁর নিজের কেউ
তিনিও রয়েছেন দূরদৃষ্টি নিয়ে তাঁর
আমারই দিকে তাকিয়ে।
শুভ জন্মদিন

চার দেয়ালের পাঁজর ভরেছিল কান্নায় ,
পর্দা নিজের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে
                প্রাণপণে শুষেছিল গোঁঙানি ,
ঐ একদিনই
আয়না দুষেছিল নিজেকে - অপারগতায় ,
তবে মাথার ওপর ফ্যানটা স্বস্তিতে ছিল ...

ভেজা বালিশ শুধু জানে :
সেদিন সেই একা মেয়েটার জন্মদিন ছিল -
              এক নতুনতর জন্মের...


বন্দিশ

মেঘলা মনে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়
যেমন ধর ,
তুমি  আপনমনে গেয়ে চলেছো বন্দিশ
আমি পিষছি অভিমানের নীল বিষ
তুমি বলছো "বাদল দিনের প্রথম কদমফুল "
আমি গুনছি নষ্ট-চিন্তার ফালতু মাসুল

হয়ত এমনি হয়
এমনটাই হয়ে আসছে
গুহাচিত্র থেকে চলমান সেলুলয়েড
কেউ আগলায় আগুন
কেউ সে আগুনে পোড়ে
      দাউদাউ দাউদাউ দাউদাউ
                         দাউদাউ দাউদাউ দাউদাউ .....




অন্ধকারের কবিতা

.

কাল রাতে জোছনায় পুড়ে গেছে একলা  বকুল
ঘাসের কান্নায়  মিশে আছে সূর্যের শোক
বৃহস্পতিবারের লক্ষ্মীরা  শাঁখ  কুড়িয়ে  নিয়ে  চলে গেলে
নির্জনের  সাথে পাড়া ভাব করে নেয়
অন্ধকার পাতায়  শুধু  ম্লান বাতাসিয়া অক্ষর


গন্ধের  ভিতরে  আদিম  রাত্রি  আসে
তার শরীরে কোনো সুললিত গান নেই
শুধু  কিছু  বিড়ালি  চাল  আর  উৎকট উল্লাস নিয়ন আলোর
নিয়ে আছে সর্বাঙ্গ
কেঁপে ওঠে সাদা  বনতল  অন্ধ
বেদনায়
মৃত শিশ্নের কাছে রজনী নামাই
অবাক ফেটে  ফেটে যায় রেখার
স্নায়ুদেশ
পাশাপাশি

চন্দ্র,সূর্য কখনও
আলোর পাশাপাশি
দিয়ে যায় অসংগত অন্ধকার।
পথগুলি অবিরাম ছুটে ছুটে দূরে
চলে যায় মুক্তির উদ্দেশ্যে। আর আমরা থেমে থাকি প্রাণহীন নিষ্প্রভ শাখা,
যেন উদ্যানের ভেতর একেকটি বৃক্ষ, যে বৃক্ষটিকে আর কখনওই কুসুমিত
হতে দেখা যায়না। উদ্দেশ্যহীন কিছু আগামীকাল বয়ে যায়, যে আর আশ্বাস
দেয়না গতকালের প্রত্যাশার মাঝে। কখনও কখনও চলিতজীবন জেনে
নেয় মৃত্যুর সাদা রং, আবার কখনও একসারিতে বেঁচে থাকার রং
যেন অন্তহীন অবসাদ!
পশু

যে স্তন যুগল এখনও পাঠ নিতে পারেনি                                                    
শৈশবের স্বাদ
তাদের বলি জেব্রাকসিং দিয়ে চলাচল করো
কিংবা সি সি ক্যামেরায় চোখে চোখ রেখে
আসলে এ সমাজে মনুষ্য পশুদের কোন অভয়ারন্য নেই

যারা যৌবন ধরে না রাখতে পেরে
টানাটানি করে নরম মাংস
তাদের জন্য খবর দেওয়া হোক বনদপ্তরে
চিহ্নিত হোক খ্যাপা বাঁদর খ্যাপা কুকুর
এরাই তো অহেতুক সমাজে ঢুকে পড়া পশু
প্রেম ঈশ্বর এবং হারানো বটগাছ

ধারণ করতে পারিনি পুরানো প্রেমকে,
তাই ভেসে যেতে দিয়েছি
ভেসে যেতে দিয়েছি অবাধ্য স্রোতের মত...
গল্পের মত...
ছায়ার মত।

নদীর পাড়ে যে বৃদ্ধ বটগাছ
তার ঝুরি মেলে
নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিল
তার হারানো গল্প কে
হারাতে দিয়েছে বারবার
তাই ভেসে গেছে স্রোত সমূহ উজানের দিকে

যে পাড়ের ভাঙ্গণ নেই
সে কি বুঝে নিয়েছে হারাবার গল্প ?
অথচ আমরা দেখেছি তাকে
রুক্ষতার ভিতরের নরম টুকু হারিয়ে
চোখ বুঁজে স্থির হয়ে আছে
পাষাণ  ঈশ্বরের মত


About