আজ ১৫ই অগস্ট ভারতের ৭১তম স্বাধীনতা দিবস । দেশ বিভাগেরও সত্তর বছর পেরিয়ে এলাম । লাখো মানুষের সংগ্রাম আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা কেমন আছে এখন ? স্বাধীনতা মানে তো মুক্তি - মুক্তির আনন্দ । ক্ষুধা, দারিদ্র, ভয় থকে মুক্তি । এবং মনের মুক্তির আনন্দ । মুক্তির কাঙ্খিত স্বাদ পেয়েছি কি ? কিংবা যা পেয়েছি সেই রকমই কি পাওয়ার কথা ছিলো ! স্বাধীনতার লবঙ্গ-এলাচ কারা বাটোয়ারা করে নিল ? আছে বৈকি এই সব বিষণ্ণ জিজ্ঞাসা ! এই পাওয়া-না পাওয়ার বিষন্ন জিজ্ঞাসা রেখেই বিনম্র প্রনাম জানাই স্বাধীনতা সংগ্রামী শত শহিদের বেদিমূলে ।

আজ কবি সুকান্ত ভটাচার্যের ৮৯তম জন্মদিনও । স্বাধীনতার দিনটা দেখে যেতে পারেননি সুকান্ত, স্বাধীনতা প্রাপ্তির তিনমাস দুদিন আগেই চলে গিয়েছিলেন, কুড়ি বছর নয় মাস বয়সে । মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায় কবিতার পংক্তি লিখেছিলেন বসন্তের কোকিল কেশে কেশে রক্ত তুলবে, সে কিসের বসন্ত ?” সুকান্ত বিস্মরণের কবি নন । প্রবল মানবিকতা বোধ, ইতিহাস জ্ঞান ও দেশপ্রেম তাঁকে দিয়ে রচনা করিয়ে নিয়েছে বিপ্লবী অনুভবের শিল্পিত কবিতাগুচ্ছ ।  মানুষের চিরকালীন গণচেতনাকে শিল্পের আধারে ধারণ করতে চেয়েছিলেন সুকান্ত । তাঁর কবিতায়  চিত্রিত হয়েছে যুগের আশা-নিরাশা, প্রতিবিম্বিত হয়েছে অস্থিরতা-যন্ত্রণা । নবজাতকের কাছে সুকান্তর অঙ্গীকার ছিল আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,/এ-বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি”...সে অঙ্গীকার পূর্ণ হয়নি । সংগ্রাম জারি আছে, থাকবে । লিখেছিলেন - 

রক্তে আনো লাল
রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে
ছিঁড়ে আনো
ফুটন্ত সকাল

আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য ৬৭তম স্বাধীনতা দিবস এবং কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রতি । এই উপলক্ষ্যে বাংলা কাব্য-সাহিত্যের দুটি দ্রুপদি সৃষ্টি দীনেশ দাসের ‘স্বাধীনতা ১৯৪৭’ ও মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সুকান্ত’ কবিতাদুটি পেশ করলাম ।


1 মন্তব্য(গুলি):

Pinaki Datta Gupta বলেছেন...

খুব সংক্ষেপ ও চুড়ান্ত তাৎপর্যপূর্ণ সম্পাদকীয়। তরুণ সুকান্ত তরুণই থেকে যাবে। শুধু বাড়বে স্বাধীনতার বয়স। আর আমরা প্রত্যেকে অশ্বমেধ যঞ্জের ঘোড়ার মত আড়ম্বরপূর্ণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ব। তবুও বেঁচে থাকবে কিছু কবিতা। ওরা অপেক্ষায় থাকবে কবে আগামির নবজাতকের কন্ঠে ধ্বনিত হবে ... "বন্দে মাতরম"।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About