এই সংখ্যায় ২৫টি কবিতার লেখকসূচী - তপন মন্ডলরত্নদীপা দে ঘোষ,শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, তৈমুর খানআলো বসু, বিজয় ঘোষ,শীলা ঘটক,অদিতি চক্রবর্তী,সুবীর সরকার,অনিমেষ সিংহ,অসিতবরণ চট্টোপাধ্যায়, আপন দেবনাথ,শেখর কর,দিশারী মুখোপাধ্যায়,মন্দিরা ঘোষসিয়ামুল হায়াৎ সৈকত,নন্দিনী পালমনোজ ভৌমিক, পার্থ রায়,তুষার দাস,মৌমিতা রায় ও জ্যোতির্ময় মুখার্জী ।

         সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন
মৃত্যুর স্তূপে দাঁড়িয়ে

এ মৃত্যুর স্তূপে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছে
এখনও একটা লাশ ফেলতে বাকি আছে
এখনও একটা প্রতিবাদের আলজিভ কাটতে বাকি আছে
তোমাদের ধর্ম রাজনীতি জাতের ধারালো অস্ত্রে

আমরা , আমরাই তো মানুষ দেখে দেখে বেছে বেছে
হত্যা করো, আমাদের বিচারালয়ের চোখ বাঁধা আছে

আসলে আমরা এই ধর্ষিতা গনতন্ত্র নিয়ে
ব্লু ফিল্ম দেখছি আনন্দ করছি
আর খবরের কাগজ দেখতে দেখতে দুকাপ বেশি চা খাচ্ছি 
নিয়তি

কোথাকার আকাশ কোথায় যে মাথা তুলে দাঁড়ায়
তুমি কি চেনো সেই নক্ষত্রের অধিক সকাল ছটার সূর্যছটা
চেনো কি সেই মহার্ঘ কাঙাল অনন্তকালের একুশ ভিখারি যিনি
চেনো কি তার ম্যাজিক আঁকা দোতলা রামধনু  বাঁশিঢেউ  নিঝুম
শূন্যতাময় সন্ন্যাসের গুমটিতে বসে থাকা অজগাঁয়ের বিরাজবউ
চেনো কি তাকে

সে এক আনন্দের বাঘ দুঃখের হরিণ টলমল হড়কাবান
নেশার জ্বরে শিরশির স্বরে যার গায়ে বাতাসের জ্বর
যার আয়নার জলরঙে সবুজ হয়ে আছে নীলজীবাশ্মের শিখা
অনির্বাণ তারাটি খসে পড়ছে সে কোন বিধাতার আঁচল তলায়
চেনো কি তাকে যার সৌন্দর্যে তছনচ হয়ে যাচ্ছে তোমার নিয়তি
কবিতা তোমাকে দিলুম
  
প্রতি বছর দেবীপক্ষে একবার গিয়ে
এদের সঙ্গে আমার দেখাশোনা হত।
মাটির দেওয়ালে একটা ছোট কুলঙ্গি।
ওইখানে সাজানো হত স্বল্পযাপনের
সাজের সম্ভার -পাউডার,কুমকুম,মায়ের
আলতা,সিঁদুরকৌটো
ছিল ছোট জানালার একরত্তি একটা কোল,
ওখানে জমা হয়ে থাকত শহর থেকে
দাদাদের বয়ে আনা রকমারি বাজির বাক্স।
বোধন থেকে বিসর্জন - ম্যাজিকের মত
হাওয়া হয়ে যেত ওরা!
দশমীতে জানালার কোলটা আবার যে কে সেই;
ঠিক যেন আমার মনটাই।
কালো কাঠের টেবিলটা পাঁজি থেকে টর্চ -
সব ভারই কেমন অনায়াসে সামলাত!    

বানভাসি সেই বিশাল বাড়ির বাঁশবাখারির
খাঁচাটাকে যখন দেখতে গেলুম; দেখি
কুলঙ্গি নেই,টেবিল নেই,জা্নলার কোলটাও!
অথচ আমার স্মৃতিতে ওরা
খাপে খাপে সেঁটে বসে আছে।
কুলঙ্গি তো কুলঙ্গি ছিলনা! টেবিল বা
জানালার কোলটাও ছিল কতকিছু!
স্মৃতির হস্তান্তর হয়না।
কবিতা তোমাকে দিলুম।





বেড়াতে যাওয়ার আগে

ঠোঁটের নাব্যতা থেকে নৌকা

দুলে উঠছে হাসির ঝিলিক

পাল তুলে তুমি কি আড়াল করছো
নির্জন রঙ ব্যাগভর্তি আনচান
রুটম্যাপে সার সার আকর্ষক ছবি

জলে তার মহিমা ভাসে 
স্রোত জানে অস্থিরতা উজাড় করে
গোপন গন্তব্য চিনে নেওয়া

ছায়াটি ঝুলিয়ে রেখে
সময়ের দাঁড়ি কমা পুর্ণচ্ছেদ  ক্রমশ  অতলস্পর্শী 


পুতুল নাচিয়ে কেউ ফিরে এল নদীটির কাছে
 অনেক ভিক্ষুক

পার হই নদী, পার হই নালা
ডুবে ডুবে জল খায় দেখি কোন্ শালা

বহুদূর পথ তাই যেতে যেতে থামা
পূর্ণচ্ছেদের আগে দু একটি কমা

পাড়ায় সে পাড়ায় ফটক দুয়ার
সেমিকোলনের আগে ঢুকেছে পাহাড়

রাক্ষস খোক্কস নয় শুধু চিৎকার
ড্যাসের মতন দীর্ঘ হাতের বাজার

অন্তত কোলনের সামনে এসে বলুক আজ চাঁদ :
কে থাকে হাত গুটিয়ে, কে পাতে হাত !



      
উচ্ছলিত

একেকটা দিন অন্যরকম
পুনরুক্তির নয়
সম্ভাবনাময়

অট্টহাসির কাঁপন লাগায়
ইট পাথরের গায়
অমিত অপচয়

চিঠির খবর আনছে বাতাস
সোনার আখর দেহে
হিরণ্ময় আলো

কুঞ্জবনের পুঞ্জবিষাদ
শুকনো পাতার খেলা
হুতাশনের রথে

আগুন ধরাই ,পুড়িয়ে দিই আর
উড়িয়ে দিই সব ছাই
স্মরণিকার পথে

জাগরণ আর ঘুমের মধ্যে
ঝিম ধরা ঘর বাড়ি
চরৈবেতির গানে

পাখপাখালির কথার ভেতর
স্বরবর্ণের খোঁজ
স্বরলিপির টানে

সীমার আঁচড় টবের জাতক
অসীমার সৌরভে
স্বর্গ অবনত

ভোগের পাত্র পূর্ণকুম্ভ
রম্যের উপহারে
উৎসব সম্ভূত


আকাশমণির উথালপাথাল
কনে দেখানোর আলো
সানাই সুরে সুরে

রূপ রচনার প্রগলভ রূপ
উজানদিনের কথা
নাম না জানা বিভা

মায়ার হরিণ মোহ জাল ঘেরা
পলকের সংসার
নিত্য পূজার বেদী

চোখের জলের সজল দীঘির
পদ্মপলাশ বুকে
অজানিতের সুখে

শতেক নামের জপন যাপন
জপমালাটির ঘরে
গর্ভ অভিমুখে

গভীর গোপন রোপণ চিহ্ন
সংগোপনের ভাষা
রটিয়ে দিলো কে ?

তোমার আসার শুভ সংবাদ
সমস্ত আজ লেখে
অনির্বচনীয়।
চাকা কিংবা জন্মান্তরের গল্প

রাস্তায় বের হবার কিছু সময় পরই রাস্তা হারিয়ে ফেলি।
কোথায় যাই ? ডানে না বাঁ দিকে, নাকি সোজাসুজি।
এ এক আদিঅন্ত সমস্যা চাকারা ছুটেছুটে আসছে।
আমি বিমূঢ়। কেবলই দৃশ্যের বদল হচ্ছে
ট্রাফিক পুলিশ,গণিকা ও লম্পট,প্রেমিকা এবং প্রেমিক
যে যার মতো রাস্তা বদলের ইশারা দিচ্ছে।
আমিই শুধু এক
মধ্যযুগের গাড়লের মত পথভ্রষ্ট।

আবার দৃশ্য পালটাক।কোথাও কী পরিচিত বিড়ালকে খুঁজে পাবো ?
যে ঘন ঘন রাস্তা কাটে।

ওহে চাকা ! নানা আকারের চাকা তোমরা এসো।
এই যে আমি হতাশাগ্রস্থ পথ হারানো এক..!
এক..! এক কী ? জানিনা। তবু তোমরা এসো।
আমাকে পিষে ফেলো...
আমি এখানেই থাকবো জন্মান্তর পর্যন্ত।

একা

অরণ্যে হেঁটে যাই একা। সন্ধ্যায়। নিশুতি
রাতে। কোথাও আলো নেই।জলের পরিচয় ?
খুঁজে বেড়ায় জল।এক আঁজলা স্থিতি চাই।
নিয়তিআকাশ লিখে দেয় মেঘলা- সকাল একা
একা হেঁটে যায় মন।শরীর তখনও অনেকটা দূরে।

অরণ্যে হেঁটে যাই একা একা


About