১০ম বর্ষ ১১শ সংখ্যা ।। ২৪ জানুয়ারি ২০২১

 

এই সংখ্যার লেখকসূচি : চয়ন ভৌমিক, শৌনক দত্ত, প্রণব বসু রায়, সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়, বিকাশ চন্দ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ), তুলসীদাস ভট্টাচার্য, নিলয় গোস্বামী, সুবীর সরকার, আভা সরকার মন্ডল, স্নেহাশিস মুখার্জী,, মাজহার জীবন, রফিক জিবরান, তুলসী কর্মকার, দিগন্ত রায়, প্রীতি মিত্র, কুমকুম বৈদ্য, অপর্ণা বসু, চন্দনকৃষ্ণ পাল, সঞ্জয় সোম, ইন্দ্রাণী সরকার, মলয় সরকার, মনোজিৎ কুমার দাস ও দেবলীনা দে ।

চয়ন ভৌমিক

 স্বর্গাদপি

 

কী সুন্দর ও শান্তরঙের এই ছবি।

 

দাগহীন,লোভ ও অপমানের কামড়

উপেক্ষা করে এই চিত্র, স্থির

দাঁড়িয়ে আছে, পৃথিবীর

সমস্ত শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে।

 

শিল্পের কারুকাজ, এক আশ্চর্য সম্ভাষণ ...

 

এই সত্য এড়িয়ে, এত হিংসাশ্রয়,

বন্দুক বিক্রির বিজ্ঞাপন ;

 

এ'সব বিপ্রতীপ নিয়ে, দ্বন্দ্বযুদ্ধে নেমে ছি আমরা-

 

শুধু থেমে যাচ্ছি এসে মাতৃক্রোড়ে

স্নেহ ঝরে পড়ছে আবহমান ঠোঁটে

শৌনক দত্ত

 উপহারহীন সন্ধ্যাগুলি থেকে


অনেক মুখোশের ভিড়ে পোট্রেট আঁকা হয়

কেউ আঁকেনি সুস্থতা

ঘরের দেওয়ালে জীবন এঁকে

সবাই চলে গেছে

শ্মশানে চিতা সাজাতে।

রেললাইন নির্বাক দেখে

ঘোড়া ঘাস ফেলে বাড়ি খাচ্ছে

পরদা জুড়ে নাচছে রোদের কঙ্কাল

নির্জনবাসের দিকে ছুটে যাচ্ছো তুমি

পকেটে হাত ভরে রেখে

আঙুল থেকে গড়িয়ে পড়ছে দিন রাত টুপটাপ

রাস্তায় ফাঁকা মাঠ

কেউ কেউ বেখেয়ালে অপেক্ষায়

নির্জনতার সুতোয় আশার সম্ভাব্যতা বাড়িয়ে

ঘরের মধ্যে জ্বলছে ধু-ধু রেলস্টেশন

দাড়ির শেষে ভেঙে যাচ্ছে নগর।

প্রণব বসুরায়

 অসবর্ণ


সৌন্দর্যের শিখরে বসে, নীচে দেখি

মৃত্যুর পরগনা...

আমাদের সব শস্য খেয়ে গেছে

শহরের দাম্ভিক ঘুনপোকাদল

এ দেশের হাওয়ায় মেশা পোড়া কার্তুজের ধোঁয়া

সব ক্যানভাসে ফুলের গায়ে আদি ব্যাভিচারের

টাটকা শোনিত,

দরবারে আর্জি জানিয়ে ব্যর্থ ফিরেছে আদিবাসী সমস্ত যুবতী

#

এ উপত্যকায় মস্ত গম্বুজ পরিহাস করে কেবলই শোনায়

উল্লাসের গান

রঙিন পানশালা ভরে শিলাজী ও গরম কেকের ঘ্রাণ

বিষয়ী কারণে মৃত্যুর কথা এখানে নিষেধের বেড়াজালে

#

এখানে আনন্দ মেলা

আর নীচে

হাড়হদ্দ মৃত্যুর শামিয়ানা, যা কিছুটা ঝাপসা দেখায়...

** আদেশ শিরোধার্য🍁

সবর্ণা চট্টোপাধ্যায়

 কে যেন রোদ্দুর ডেকেছিল একদিন  


ধোঁয়াশায় ভরে গেছে চোখ।

কালোকালো কয়লার কুচি।

তবু হার মানিনি।

 

যতটা চুপ থাকলে বিদ্রোহ করা যায়

সে পথে পা রেখেছি বহুবার!

 

অথচ সে চুপ।

জল ভাঙছে তবু, ভিজছে না পোশাক!

 

তুমি বদলে দিলে সব। ধীরে ধীরে

পশমিনা চাদরের নীচে কাশ্মীর এনে

দেখালে হঠাৎ।

বরফে ঢাকা সাদা পথ

পেরিয়ে যাচ্ছে হাত ধরে ধরে

রোদে চকচক করছে মুখ

 

ব্লেজারের পকেটে হাত রেখে চিৎকার 

করে ডাকছ, 'রোদ্দুর'

 

বিশ্বাস করো, একবারও মনে হয়নি 

সে নাম আমার নয়! 



বিকাশ চন্দ

 হৃদয়ে জীবিত শস্যের অঞ্জলি 


বহুবার মনে করিয়ে দিয়ে গেছে ফুল বাসর শপথ

কালকেতু ফুল্লরা বন ঘর পূজা পূজা খেলা ঈশ্বরী 

ভেজা মাটি আলপথ পায়ে পায়ে বাজে নুপুর, 

বনের রাজা জানে জীবনে বেঁধেছে দুবাহু প্রাণের দুপুর 

মগ্ন ঘাসের আঁচলে ঘুম ঘুম চোখে ঠোঁটে শ্বাস ---

ঘিরে আছে দুধ ধানি শরীর ঘরে ফেরা জানে পরবাস ! 

 

ঈশ্বর জানে কোথাও ছিল বাগান দিঘি জল পদ্ম সরস্বতী 

আকাশ বাতাস জুড়ে বহুস্বর জানে পাখিদের স্বরলিপি, 

কত আত্মায় বসন্ত বাঁধন শরীরে নদীতে জোয়ার ---

সকল হৃদয়ে টলটল আত্মার ভালোবাসা কাঁপে, 

নোনাচাতরে ঝুপড়ি ঢেকেছে গাছের মমতায় ছায়া শরীর 

স্বপ্ন বুনেছে গান অক্ষর বীজ দিয়ে গেল প্রিয় আলো সব। 

 

এখন সকাল কুয়াশায় খসে পড়ে বিষণ্ণ সজনে ফুল 

সকল ইচ্ছেরা বেঁচে থাকে জীবনে জীবন জুড়ে সন্তাপে,

চেনা পথে ডেকে ছিল শস্য বতী অঘোষিত নির্দেশ 

হৃদয়ে রেখেছি হাতের চেটো সকল দুঃখ ঢেকেছি চিরকাল, 

উদাসীন সময় পুড়লে বৃষ্টি মানুষে খোঁজে মেঘ ---

মাটিও অপেক্ষায় স্থীর হৃদয়ে জীবিত শস্যের অঞ্জলি। 

 

 

 

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

 শব্দ 

জানি কখনো বন্ধ হয়না পথ

ভারী দুপুরগুলোর উষ্ণতায় কিংবা
নির্ভার বিকেলের হিম মেশা মাধুর্যে
কথাগুলো মাথা কুটে মরে
 
ঘুমন্ত ঘাসবনে প্রজাপতি ওড়া বিকেল
কুয়াশাফুল,দখিনের সূর্যঢলা লাল,
সন্ধ্যাতারা টিপ,হিম নামছে
……
বিশ্রামের ঘণ্টা দেয় ক্লান্ত পাখিরা
আকাশপ্রদীপ বড়ো বাঙ্ময়
দুএকটি উল্কা বেশ ডুব দেয় দূরে
……
শিশিরের শব্দে কিছু শীকর ঝরে
নীরবতা বলে কিছু নেই তো কোথাও!
কথা শুধু কথারই মালা শব্দ সুনিশ্চয় ৷

 

নিলয় গোস্বামী

 মেঘ রাঙা মেয়ে


আমি হেঁটে যাই দূরে, তার চোখের সীমানা দিয়ে....

ওর দৃষ্টিতে লিখেছি, অন্তহীন পথের সংলাপ।

 

মেঘলা রঙের মেয়ে সে, ছুঁতে গেলেই অজানা ! 

বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে,হৃদয় আকাশের উঠোনে।

 

আমি দেখতে পাই তাকে রোদ্দুর ছেড়া দিনের বুকে,

ছায়াদের ডাকে আমি উতলা হয়েছি গান শিখতে।

 

সে যে মেঘ রাঙা মেয়ে, মেঘমল্লারে প্রেমিকা সাজে।

ওর কাছে রাতেরা যে নীরব  হয়ে যায়। নিয়ত....

 

আমি ঘুমের কাছেই, একটি গোলাপ চেয়ে নেই-

 

সুখের কাছে চেয়েছি  অশ্ব রঙের সে প্রজাপতি।  

 

আলোর কাছে চেয়েছি রাজতিলক, ভুলের তর্জমা....

আমি শ্যেনদৃষ্টিতে দেখি হৃদয়ের প্রত্যেকটি পরত।

 

আমি বালির সবক’টা আঙুল চিনে রেখেছি শখে

শুধু ভালোবাসবো বলে, আমি নাবিক হয়েছি আজ।

হাওয়ার নাকে দিয়েছি নোলক, আর ঠোঁটে তালাস।

 


 

শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ)

 আছি স-হিতে


হৃদয়গভীরে ঘৃণা পুষে পদ্মচাষে তুমি এনেছ জোয়ার

শুভ্রতার ভড়ং-এ নিজেকে ঢেকে ফেলতে চাইছ আপাদমস্তক

ভান ও ভড়ং-ই আজ পাহাড়প্রমাণ হয়ে

অন্ধদের বানিয়েছে সুভক্ত চেলা

 

মাস্তুলে যার অর্ধনিমীলিত চক্ষু

কোন নোনা জল বল ডোবাবে তাঁহাকে

 

ওহে বালক, যাও, অন্ধদের ভিড়ে বসে

মিথ্যেরই ভজনায় সিদ্ধহস্ত হও

আমি আছি এককোণে আপনার মনে

কী আর কাড়বে বল বোঝাবেই কী বা

নিজেই যে সবকিছু খুইয়ে বসে আছে

দীন ও দয়াল দুটি চরণকমলে।

 

তুলসীদাস ভট্টাচার্য

 ঋণকথা


কারো কাছে কথা দেওয়া নেই 

কারো কাছে বন্ধক নেই স্মৃতিকথা 

নিজের ভেতর নিজেকেই খুঁজি ।

 

নিজেকেই ভেঙে ভেঙে একটা আদল দিই

আর গুঁড়োগুলি উড়িয়ে দিই আকাশে ।

 

যে মূর্তির কোন প্রতিবিম্ব পড়ে না 

সে কি ঋণের তোয়াক্কা করে!