৮ম বর্ষ সংখ্যা ১৪ ।। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

এই সংখ্যার লেখকসূচি : সৌমিত্র চক্রবর্তী, রমা সিমলাই, হরপ্রসাদ রায়, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, জ্যোতির্ময় মুখার্জি, নাসিস ওয়াদেন, মৌ মধুবন্তী, শাশ্বতী সরকার, বচন নকরেক, সঞ্জীব রায়, শ্রী সেনগুপ্ত, সঞ্চিতা চক্রবর্তী, মমতা দাস (ভট্টাচার্য), আফরোজা অদিতি, সুনীতি দেবনাথ, আলপনা মিত্র, চিরন্তন ব্যানার্জী, মারুফ আহমেদ নয়ন, সুদীপ ঘোষাল, গৌতমকুমার গুপ্ত, অজন্তা রায় আচার্য ও শুক্লা মালাকার ।
                        
                 সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন

সম্পাদকীয়


 

শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি সংখ্যা ‘অন্যনিষাদ’ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি । বাধা কাটিয়ে 'অন্যনিষাদ' আবার । 

ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ‘কলকাতা পুস্তক মেলা’, ওপারে ‘একুশে বইমেলা’ । অন্যনিষাদের কাছের মানুষ অনেকের বই প্রকাশ হয়েছে এই দুটি বইমেলা উপলক্ষ্যে । তাদের জন্য অন্যনিষাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । তাদের বই পাঠক সমাদর লাভ করুক – কামনা করি ।

‘বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস’ আসন্ন । বিগত বছরগুলির মত এ’বছরও  প্রকাশিত হবে অন্যনিষাদ ‘ভাষাপ্রণাম সংখ্যা’ ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে । এই বিশেষ সংখ্যার জন্য লেখা আহ্বান করছি । ভাষাপ্রণাম বিশেষ সংখ্যার জন্য লেখা পাঠাবেন ১৬ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে anyonishadgalpo@gmail.com এই ঠিকানায় ।
সকলের জন্য শুভকামনা, ভালো থাকুন ।

সৌমিত্র চক্রবর্তী

হুইপ

প্রতিবাদ কোরোনা হে
লাশ হয়ে যাবে
শেয়াল আর কুত্তায়
ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে।

যে যা বলে বলুক গে
তুমি বলবে না
চোর যদি বলেছ কি
পার তো পাবে না।

ঘরে টিন মেয়ে আছে
লুকাচ্ছ তাকে?
মুন্ডুটা চলে যাবে
গিলোটিন ফাঁকে।

তরতাজা ছেলে যদি
থেকে থাকে ঘরে
মিছিলে না পাঠালে
পস্তাবে পরে।

খবর কাগজ বা
নিউজ চ্যানেল
নাপাক হারাম জেনো
দেখলেই জেল।

মুখফুটে কোনো কথা
যেন না বেরোয়
ভাবনারা ঠোঁট দ্বার
না যেন পেরোয়।

জেনে রেখো এখনও
ঈশ্বর আমি
ভেবে নাও প্রাণ মান
কোনখানা দামী।

রমা সিমলাই

অব্যর্থ বিকিকিনি

শিকড়ে নদী নয়......
কামসূত্র বাঁধা ছিল, তোলপাড় ছিল
অশ্বমেধ আর ভ্রূণহত্যার পাপ, একটু
একটু করে পড়ন্ত বিকেল যখন নিজেকে
বিক্রি করে দিয়েছে নিয়ন আলোর ব্যভিচারী
চোর - পুলিশ খেলায়, ঠিক তখনই আমি বিনীত
অন্ধকারে প্রলয় ছুঁয়েছি। ছুঁয়েছি কামুক যাপন !

নদীতে হাঙর আর লোভী তিমিদের পিছল শরীরে
অবৈধ ভ্রূণ হত্যা বা বধুহত্যার পাপ লাগে না কক্ষনো! নিরন্ন গরলে আমি দেখেছি প্রেমিকের
শরীর বেয়ে নামা তরল অজুহাত । প্রগলভতা,
মাটির নাভিতে তোমার শরশয্যা ছিল, সেকথা জানতে কয়েক সহস্র প্রেতজন্ম পেরিয়ে এসেছি !
তবু কি নির্লজ্জ অহমিকা দ্যাখো আজও আমাকে
সংসারী হতে শেখায় !

জলোচ্ছ্বাস !
একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছি। রান্নাবাটি খেলা,
চু কিৎ কিৎ, কলেজ ক্যাম্পাসে উড়ো চিঠি আর শাঁখা পলা সিঁদুরের, মোদ্দা কথা বিছানা - বিলাস,
উপুড় ঝুপুড় শরীরী খেলা, সব নিয়ে ডুবে যাচ্ছি !

বাসরঘর থেকে যে সমস্ত ঋতুমতী মেয়েরা নগ্ন পায়ে হেঁটে গ্যাছে পতিতা পল্লীর দিকে, তাদের ঠিকানা অনুযায়ী সবরমতীর মন্দিরে পৌঁছে দিয়ে, এই প্রথম নিজের শিকড়ে আবশ্যিক জন্মদাগ খোদাই করে দিলাম চাঁদের পাহাড় ভাঙ্গার ছেনি-
হাতুড়ি দিয়ে।

নিজেকে নীলামে ওঠাবো বলেই তো এতো আয়োজন ।

এবার বলো দেখি, নির্মম ক্রয়মূল্যে কে নেবে আমাকে !

তুমি !
তুমি !
তুমি !
না তুমি !!



হরপ্রসাদ রায়

গন্তব্য

উড়ে যেতে যেতে
কে কখন উড়ে যায় সীমানা ছাড়িয়ে
বলা মুশকিল,
আকাশের সীমানা জানিনা!
তাই মনে হয় কত চেনারাও আবছায়া হয়,
অচেনায় সহজে হারায়।

উড়ে যেতে যেতে কারও
কখনো তো মনে হয়-কোথাও ক্ষাণিকক্ষণ বসি
আকাশে বসত বাড়ি নেই!
আকাশের মেঘবাড়ি বসত গড়ে কি?

বালিতে সন্ধের নামা বেশ বেশ চেনা মনে হয়,
কিছুক্ষণ দাঁড়ালে সূর্যকে সহজ লাল চেনা মনে হয়--
সেখানে--
শুধু সেইটুকু দূরে উড়ে গেলে মনে হয় সহজেই ফিরে আসা যায়!

শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যবধান

'হ্যাঁ' আর 'না,এই দুই মেরু বৈপরীত্য মাঝে
অসীম গভীরতর প্রাণঘাতী খাদ খেলা করে
যোগ আর বিয়োগের মাঝে থাকে গোপন ফাটল
গ্রহণ-বর্জন,মধ্যে ব্যবধান শীতলতা গড়ে।

গোপন ফাটল মানে ছোটো কোনো ভেদ থাকা নয়
যোজন যোজন দূরে সরে যাওয়া বিচ্ছেদের ফাঁক
সে এক দুঃসহ বোঝা,ভেঙে পড়া আকাশের মত
অজান্তেই গায়ে মাখা জীবনের পূতিগন্ধ পাঁক।

নিস্পন্দ গভীর এক প্রাণহীন গাঢ় অন্ধকার
ছেয়ে থাকে 'হ্যাঁ' আর 'না দুই ভাবের বিতানে
কোনো ফুল ফোটে না সে নিকষ ডেরায়
কোনো নদী কোনোদিন কলস্বনা হয় না সেখানে।

ইতি আর নেতি'দুই অভিব্যক্তি অনমনীয়
দুজনে দুকূল বেয়ে মেপে চলে বিস্তর ফারাক
মনে হয় দিনচর্যা অর্থহীন হুড়োহুড়ি শুধু
আদি অন্ত ভুলে গেছে পৃথিবী হঠাৎ বেবাক।

অথচ জীবন জানে কোথায় বাড়াতে হয় হাত
কোথায় থামতে হয় তাও বুঝে ফেলে একদিন
বুঝে ফেলে ইতি নেতি' মাঝে কতটা তফাৎ
মানুষ সে দোলাচালে শুধে যায় যাবতীয় ঋণ।

মৌ মধুবন্তী

শাড়ি কাহন

হলুদ শাড়ি,সাদা শাড়ি
লাল পেড়ে কালো শাড়ি,
জামদানি বা বেনারসি
আলিফ কিংবা লায়লা শাড়ি
আয় না তোকে জড়িয়ে ধরি
থাকবি আমার হৃদয় মাঝে
হয়ে যে তুই স্বপ্নপরি
লক্ষ লক্ষ মা বোনের
          ইজ্জতের বিনিময়ে
আমরা সবাই পেয়েছি
বাংলাদেশে স্বাধীনতা পেয়েছি

আজো শুনি সেই নারীদের আকুতি
হায়রে আমার সোনার বাংলার মাটি
বিধ্বংস হয়নি পাক সেনাদের ঘাটি
যে ছিল আলতা পায়ে বধুর সাজে
সেওতো গেছে দেশ বাঁচাতে- মুক্তিযুদ্ধে

যুদ্ধের আগে,যুদ্ধের সময়
কিংবা তারও পরে
নিজ বাড়ির যে মানুষটির মিত্র হবার কথা ছিল,
পরম স্নেহটা ভালবাসায় বুকে টানবার কথা ছিল,
সেই বাপ-চাচা,আর ভাইয়েরাই 
কথায় কাজে তাদেরকে আরো কতবার ধর্ষণ করেছে
মানসিকভাবে,নিদারুনভাবে,
আরো করুণভাবে,আরো কদর্যরূপে

বাংলার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি কি পেরেছে
কাউকে কোন রকম ধর্ষণ থেকে বাঁচাতে?
শাড়ি তোমাকে জড়িয়ে ধরিয়ে বলি
তুমি শুধুরেপকরেই রাখো,
       রেইপথেকে বাঁচাতে পারো না
তোমার কি লজ্জা হয় না?
তোমার কি কষ্ট হয় না?
তোমার কি প্রতিবাদে ফেটে পড়তে
ইচ্ছে করেনা?
তোমার কি পৃথিবী থেকে উধাও হতে মন চায় না?
তোমার কি বিবেকের দোকানে আগুন জ্বলেনা ?
তোমার কি সুতায় সুতায় দাউ দাউ চিৎকার আসেনা ?

তোমার এই গান্ধারী জীবন আমার ভালো লাগে না --