জন্মদিন১০ম বর্ষ ১ম সংখ্যা ।। ১২ই অক্টবর ২০২০ ।।২৬শে আশ্বিন ১৪২৭


জন্মদিন সংখ্যার লেখকসূচি :  সৌমিত্র চক্রবর্তী, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, রত্নদীপা দে ঘোষ, জয়া চৌধুরী, বিজয় ঘোষ, শ্রীশুভ্র, অরুণিমা চৌধুরী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, শ্যামশ্রী রায় কর্মকার, তৈমুর খান, রমা সিমলাই, সুবীর সরকার, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী,  চয়ন ভৌমিক, শাশ্বতী সরকার (টালিগঞ্জ), সমরেন্দ্র বিশ্বাস, শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়িতা ভট্টাচার্য, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ভগীরথ মাইতি, উপাসনা ভট্টাচার্য, অনুপম দাশশর্মা, উমা মাহাতো, বিদিশা সরকার, শ্রীলেখা মুখার্জী, শৌনক দত্ত, পিনাকী দত্তগুপ্ত, অনিমেষ সিংহ, অমিতাভ দাশ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রাণী গোস্বামী, মৃত্তিকা মুখোপাধ্যায়, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, কাকলি ভট্টাচার্য, রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়, মানসী কবিরাজ, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, শেখর কর, সুজয় নিয়োগী, বিবেকানন্দ দাস, কুমকুম বৈদ্য, মনামী সরকার ও পার্থ সারথি চক্রবর্তী ।

সম্পাদকীয়


আজ ১২ই অক্টোবর অন্যনিষাদের জন্মদিন । আজ  রবি-গানের কিংবদন্তী, দুই বাংলার প্রিয় শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৯৭তম জন্মদিন (১৯২৪-২০০০) ।বাঙালির সারস্বত সাধনায়, তার মননে চিরদিন উজ্বল থাকবে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ।  এই প্রবাদপ্রতীম শিল্পীর ৯৭তম জন্মদিনে জানাই বিনম্র প্রণতি ।


১৯১১র অক্টোবরে শূন্য প্রযুক্তিজ্ঞান নিয়েও অপটু হাতে যখন দুটো ওয়েবপত্রিকা সাপ্তাহিক অন্যনিষাদ ও পাক্ষিক গল্পগুচ্ছর প্রকাশ শুরু করেছিলাম তখন ভাবিনি কতদিন চালাতে পারব । দেখতে দেখতে নটা বছর পেরিয়ে দশে পা রাখলো । আমার শরীরেও বয়সের থাবা আরো পোক্ত হয়েছে এই দশ বছরে । লেখক ও পাঠকের সাহচর্য ও অন্যনিষাদের সঙ্গে তাঁদের সৃজনশীল একাত্মতা না থাকলে এই পরিক্রমা সম্ভব হত না, কিছুতেই না । তাঁদের অভিবাদন জানাই ।অন্তর্জাল প্রযুক্তিজ্ঞান আমার শূন্য। যারা জানে তাদের কাছে সাহায্য চাই, শিখে নিই । শিখে নিতে আমার কোন কুন্ঠা নেই ।

অনেক খামতি আছে অন্যনিষাদের । কড়া হাতে কবিতার ঝাড়াই-বাছাই নেই, বড্ড ম্যাড়মেড়ে । ছবি নেই, আঙ্গিকের চাকচিক্য নেই, নেই আরো অনেক কিছু ।এই ‘নেই’গুলো মানে অভাবগুলো আমি দূর করতে পারবো না, বলা ভালো করবো না কোনদিনই ।অন্যনিষাদ চায় প্রতিষ্ঠিত কবিদের পাশাপাশি নবীন যারা লিখছেন, তুলনামূলকভাবে অপটু যারা তাদের কবিতাও পাঠকের ঠিকানায় পৌঁছে যাক । আর অন্যনিষাদ বিশ্বাস করে ছবি বা আঙ্গিকের চাকচিক্য নয় অক্ষরই কবিতার প্রাণ । তাই আঙ্গিকের চাকচিক্যহীন সাদামাটা প্রকাশের জন্য তার কোন গ্লানি নেই ।

আর একটি কথা না বললেই নয়, তা হল এই সংখ্যায় জন্য বিপুল সাড়া পেয়েছি, প্রকাশিত কবিতার সংখ্যা দেখলেই সেটা অনুমেয়, তবুও কয়েকটি কবিতা পরের সংখ্যার জন্য রেখে দিতে হয়েছে ।  যখন ভাবি বয়সের ভারে আর হয়তো অন্যনিষাদ প্রকাশনা চালিয়ে যেতে পারবো না, তখন এই বিপুল সাড়া আরো এগিয়ে যাওয়ার জন্য নাড়া দেয় । 

অন্যনিষাদের লেখক, পাঠক ও সমস্ত শুভার্থীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা । ভালো থাকুন, রোগমুক্ত থাকুন । আসন্ন শারদ অবকাশ আনন্দময় হোক ।

 

সৌমিত্র চক্রবর্তী

  অন্যনিষাদ


          সম্ভবতঃ দুহাজার বারো, ফেসবুকে আলাপ হলো ফাল্গুনীদার সঙ্গে। কিছুদিন আগে রেলের চাকরি থেকে অবসর নিয়ে ফিরে এসেছেন এই বাংলায়। তাঁর জীবনের ব্যাপ্ত নানান ঘটনা শুনে আকর্ষিত হয়েছিলাম। থিয়েটার করেছেন, আগুন ঝরানো আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন। এক সময়ে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের সুবাদে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছিল তাঁকে সেই কালো দিনগুলোতেই তাঁর গৃহত্যাগ, ঠিকমতো বলতে গেল রাজ্যত্যাগ। তাঁর চাকরি ফিরে পাওয়াও এক নাটকীয় ঘটনা। তবে সেসব এখনকার বিষয় নয়।

          আমার সঙ্গে যখন আলাপ হলো তখন দাদা ডানকুনিতে। সেখানে ডালপালা ছড়িয়ে বসেছেন। তৈরী করেছেন সেখানেও নাট্যদল আর এক মুদ্রিত পত্রিকা, "অন্যনিষাদ"। সেই অন্যনিষাদ এর সূত্র ধরেই ফাল্গুনীদা আমন্ত্রণ জানালেন তাঁদের এক অনুষ্ঠানে। সেখানে গিয়ে আমি চমৎকৃত। স্থানীয় এক সংস্থার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান সবে শুরু হয়েছে। আমি পৌঁছে দেখি দোতলায় হলের মুখে দাঁড়িয়ে প্রিয় দাদা। এক ডাকেই চিনলেন আমাকে। নিজে গিয়ে চেয়ারে বসালেন আমার অগ্রজপ্রতিম মানুষটি।

           সেই অনুষ্ঠানেই প্রকাশিত হলো অন্যনিষাদ মুদ্রিত সংখ্যা। সেই পথচলা শুরু হলো। এর কিছুদিন পরে দাদা প্রকাশ করলেন অন্যনিষাদ ওয়েবজিন। মনে রাখতে হবে তখন এখনকার মত এত ব্লগজিন - ওয়েবজিনের ছড়াছড়ি ছিল না। বাংলাদেশ থেকে কিছু আর আমাদের এখানে বাক, কালিমাটির মত কয়েকটি হাতে গোনা ওয়েবজিন প্রকাশিত হচ্ছিল। কিন্তু সেইসব ওয়েব পত্রিকাতেও মূলতঃ পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত লেখক লেখিকাদের লেখা প্রকাশিত হতো, এখনো সেই রেওয়াজই চলছে।

          অন্য ওয়েবজিন থেকে অন্যনিষাদের পার্থক্য এক নজরে সূচীপত্রে চোখ বুলালেই বোঝা যাবে। অন্যনিষাদ হচ্ছে একেবারে নবীনদের মুক্তমঞ্চ। সামান্য কিছু পরিচিত লেখক লেখিকার লেখা ছাড়া বাকি সব লেখাই নতুন লিখিয়েদের। এমনকি এখানে প্রথম প্রকাশিত হওয়ার পরে আস্তে আস্তে পরিচিতি পেয়েছেন এরকম অজস্র স্রষ্টা আছেন। আমি নিজেই বহু নতুন কবির কবিতা ব্যক্তিগত ভাবে পড়ে অন্যনিষাদ এ প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছি। সেগুলো প্রকাশিতও হয়েছে অন্যনিষাদ এ। আর এটাই অন্যনিষাদের বৈশিষ্ট্য। এই ধারাতে চলেই আজ বাংলা সাহিত্যে অন্যনিষাদ তার নিজস্ব জায়গা তৈরী করে নিতে পেরেছে।

          অন্যনিষাদ কে আমি আমার ব্যক্তি অনুভূতির প্রথম স্তরে রাখি। এই পত্রিকা আমার ভালোবাসার পত্রিকা। আর পত্রিকার মূল কর্ণধার ফাল্গুনীদাও আমার অন্যতম প্রিয় ভালোবাসাজন। আমার শুভকামনা সর্বতোভাবে অন্যনিষাদ কে ঘিরে ছিল, আছে, থাকবে। আজ নয় পেরিয়ে দশে পা দিল এই তরুণ। আরও অনেকদিন, আরও বহুবার প্রকাশিত হোক এই পত্রিকা। জয়তু অন্যনিষাদ। 

 

 


বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়

 অন্যনিষাদ দশ বছর


কোন রকম ভনিতা ছাড়াই  সময় হাঁটতে থাকে সামনের দিকে।

কোথাও কি যাওয়ার আছে তার ?

কেউ  আছে অপেক্ষা  করে দূরবর্তী গন্তব্যের কাছে।

 

এক ফালি আলো পড়ছে সকালের গায়ে

অতি প্রাকৃতিক সেই উত্তাপের দিকে

চেয়ে দেখছি ছেঁড়া ছেঁড়া ঘ্রাণ মাখা দিন।

সময় পেরিয়ে যাচ্ছে ঘন্টা বাজিয়ে

ঢেউয়ের আছাড় যেন তাকে আরও  উজ্জ্বল করেছে।

 

স্বপ্নে ঠাসা খুলির ভেতর

প্রতিশ্রুতিময় কত হাত ঘনীভূত গাঢ়তায়

নিয়ে আসছে বৃষ্টিবর্ণ রাঙা  মেঘরাশি।

 

দশ বছর 

আরও দশ  আরও  আরও  আরও

অন্যনিষাদ  তুমি স্বপ্ন ও সংকল্প নিয়ে লিখে রাখছো সময়ের নির্ভুল আকাশ।

রত্নদীপা দে ঘোষ

 জন্মদিনের কবিতা

 

মেঘদূত আজ ধুয়ে মুছে ঝকঝকে করেছে আকাশের বারান্দা

বৃক্ষরেখায় ঘটেছে রদবদল, বসুধায় সেজেছে বাতায়নের জমি

মহৎ পাখির পাঠশালায় শোনা যাচ্ছে সৎ কবিকণ্ঠ, আত্মপ্রকাশের দ্যুতি

তারাদের গান রান্নাবাটির দেলান, শিশুনক্ষত্রের চোখমুখে অলৌকিক ওষধি !

নিসর্গ ঘোষণা করেছে আজকের দিন শুভ জন্মদিন দেবতার আঁকা পৃথিবীর

সহজ মেঘ সরল সপ্তপরির কড়ানাড়ায় এইমাত্র মিতভাষী আলোপুরুষ

খুলে দিলেন দেবডাহুকের ঝিল

জয়া চৌধুরী

 মানুষের সমাজ


এসবের মধ্যে থাকতে থাকতে বড় ভাবনা হয়

ছেলেটা কি মানুষ হয়ে উঠতে পারবে!

মানুষ হবার আশীর্বাদ ছোট থেকে অনেক গুরুজন করেছেন

আমিও কি তাদের কথা রেখেছি!

ছেলেটাও তার বধূ কে বন্ধু বেছে নেবে কি!

ঘরে বাইরে এই যে যাপন কাল 

সম মানব হওয়া ওর হয়ে উঠবে কি

কবিতায় কত কথা ভাল ভাল পড়া যায় 

খিদে পেলে তাকে আগে ভাত বেড়ে দেবে কি!

রেগে গেলে শরীরের অহং না দিয়ে মনের অতলে ডুব দেবে কি!

এমনকি ভয়ংকর দুর্বল সময়েও বউ নয় প্রিয়

মানুষীর কাধে মুখ গুঁজে কেদে নেবে কি!

ছেলেটাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখি কী না দেখি সেকথা আজ থাক

 

আমাদের ছেলেগুলো বড় অভাগা, তাহাদের পুরুষ হওয়াই নিয়তি জেনেছিল এতকাল

ছেলেটা কি বুঝে নেবে ছেলে নয় মেয়ে নয় পৃথিবীটা মানুষের সমাজ হয়ে যাবে একদিন

 

বিজয় ঘোষ

 একটি ছাতামাতার গল্প


আমাদের এমন কোনও ছাতা নেই যা গ্রীষ্ম বর্ষা কিংবা বসন্তে ব্যবহার করা যায়,আসলে বসন্ত

 যেভাবে আকুল করা বাতাস নিয়ে আসে সেখানে ছাতার দরকার কি?তাহলে বসন্তে ছাতার গল্প নিরর্থক?

 

কিন্তু গ্রীষ্ম আর বর্ষায়তো ছাতা চাই----

ছাতা মানে একটা আশ্রয়,পৃথিবীর কত কত মানুষের ছাতা নেই।আবার কত মানুষের মাথায়

বিশাল বড় ছাতা থাকে,যেন সমস্ত পৃথিবীটাই তার তলায় সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে...

 

কিন্তু তা হয় না

 

আমার ঠাকুর্দার ছাতাটি ১৯৪৭ এর কোনও এক দুপুরে  তছরুপ হয়ে যায়, আমার পিতা হলেন

দেশান্তরী,...

 

কত মানুষ ভাবে তাদের মাথায় ঠিকঠাক ছাতাটি আছে আসলে ছাতাটি নেই, কিংবা বেহাত

হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে,

অরুণিমা চৌধুরী

 বারোমাস্যা


একদিন আলোর মৃতদেহ কাঁধে

  বাড়ির সমুখ দিয়ে

 হেঁটে গিয়েছিল অলস সকাল

 

দীর্ঘ অসমাপ্ত কাজগুলির ভিতরে

 আমি গুটিয়ে রেখেছিলাম হাত পা ও

রোঁয়াদার বারোমাস্যা

 

লম্বা ছুটির পরে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াই..

 

 এইতো মোটে ক'টা মাস.. এরই মধ্যে দ্যাখো

 হু হু করে বাড়ছে কপালজোড়া কালো টিপ 

 

 এই উৎসবের মরসুম,অজস্র প্রলাপ এঁকে বলিরেখা ফুটে উঠছে বিস্তৃত উঠোনে 

কি খরা মাগো! অক্ষরপত্রও বিদ্রুপ করে

 কী করে লিখবো ইতিহাস!

 

 ক্রমশ  আশ্রয়  নিচ্ছি অন্তহীন খোলসে

 

সেই যে, আলোর মৃতদেহ বহন করে 

নিভে গেলো ফুটন্ত সকাল 

তারপর চাঁদ উঠলেও আজকাল বড় অশ্লীল লাগে। 

 

 

শ্রীশুভ্র

 বাংলায় ওয়েবসাহিত্য


       ইনটারনেটের হাত ধরে ওয়েব সাহিত্য হামাগুড়ি দিতে দিতে ধীরে ধীরে খাড়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এখনও বলা সম্ভব নয়, এই ওয়েবসাহিত্য ঠিক কোন দিকে কিভাবে এগিয়ে যাবে। তবে মূলধারার সাহিত্যের বাইরে সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বলা যেতে পারে, গণসাহিত্যের একটা রূপ দিনে দিনে হয়তো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রায় এক দশকের উপরে হয়ে গেল ওয়েব সাহিত্য দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এবং এই ওয়েবসাহিত্যের আঁতুর ঘর থেকেও মূল ধারার সাহিত্যে পা রাখছেন অনেকেই। তাঁদের সাহিত্যকীর্তির চিরস্থায়ী মূল্য থাকবে কিনা, সেটা আগামী ভবিষ্যতে ঠিক হবে। কিন্তু একথা সত্য, ইনটারনেটের হাত ধরে সোশ্যাল সাইটের দেওয়ালে দেওয়ালে বাঙালি রাতদিন সাহিত্যচর্চার এই যে একটা নতুন দিগন্ত খুলে ফেলেছে, বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় একদিন সেটি আলোচনার বিষয়ভুক্ত হবে সন্দেহ নাই। তবে এই মুহুর্তে যদি এই ওয়েবসাহিত্যর দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়, দেখা যাবে সেই সাহিত্য মূলত শখের সাহিত্য সাধনার সীমানাতেই আটকিয়ে রয়েছে। প্রতিদিনের জীবন যাপনের অবসরে ইনটারনেটে লগইন করে মূলত নিজের সাহিত্যকীর্তি নিয়ে বন্ধবৃত্তে প্রকাশ করার বাসনা থেকেই এই ওয়েব সাহিত্যের যাত্রা শুরু। সেই বাসনার ভিতরে অনেকটাই আত্মপ্রচার জড়িয়ে থাকে। নিজের একটা দুইটি বই প্রকাশের ভিতর দিয়েই সেই বাসনার চরিতার্থ সম্পূর্ণ হয়ে যায়। সেই বই প্রকাশের সলতে পাকানোর পর্ব শুরু হয় বিভিন্ন ওয়েব পত্রিকায় লেখা প্রকাশের মাধ্যমে। কাঁটাতারের দুই পারেই এই ওয়েবপত্রিকাগুলি এখন যথেষ্ট জনপ্রিয় একটি সাহিত্যমাধ্যম হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তার হাত ধরে ওয়েবসাহিত্যে প্রতিদিন নতুন নতুন মুখের আত্মপ্রকাশ ঘটে চলেছে।

 

কিন্তু বাংলাসাহিত্যে নতুন নতুন রূপ ও রস এবং প্রকরণের আত্মপ্রকাশ ঘটছে কি? সেটাই একটা বড়ো প্রশ্ন এখন। কারণ প্রায় দেড়যুগ হয়ে গেল এই ওয়েবসাহিত্যের আয়ু। ফলে আজকে আমাদের ফিরে দেখার সময় এসেছে, এই ওয়েবসাহিত্য আমাদের নতুন ভাবে সমৃদ্ধ করতে পারছে কিনা? এই বিষয়ে আলোকপাত করতে হলে আমাদেরকে প্রথমেই বুঝতে হবে, মানুষের সমাজ ও জীবনের নানবিধ প্রশ্নের দিকে যথাযথ আলো ফেলতে পারছে কিনা এই ওয়েবসাহিত্য। নাকি, শুধুই আপন খেয়ালে শব্দ নিয়ে খেলা করে চলেছে আজকের ওয়েবসাহিত্য। এ যদি শখের শব্দ নিয়ে খেলা করাই হয়, তবে তা আলোচনারও যোগ্য কোন বিষয় না। কিন্তু এই যে বিপুল পরিমাণে মানুষ ওয়েব পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লেখা প্রকাশ করে চলেছেন, তা কি নিছকই শব্দ নিয়ে খেলা? আমাদের বর্তমান সময় ও সমাজ, জীবন ও সংস্কৃতির সমস্যা ও সম্ভাবনা, তার ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার, এবং সমৃদ্ধি ও ব্যর্থতার ছবি যথাযথ ফুটে উঠছে কি এই সময়ের ওয়েবসাহিত্যে? এটা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সাহিত্য, তার প্রকাশ মাধ্যম যাই হোক না কেন, তা যদি এই বিষয়গুলিকে যথাযথ ভাবে মোকাবিলা না করতে পারে, তবে সেই সাহিত্যের আয়ু খুবই ক্ষণস্থায়ী। এবং জাতির জীবনে তার কোন প্রভাবই পড়বে না। সম্ভব নয়।

 

কোন দেশেই কোন কালেই সাহিত্যচর্চা নেহাৎই খেয়ালের বশে শখের অবসর যাপনের মতো কোন বিষয় নয়। সাহিত্য অত্যন্ত গভীর একটি জীবনসাধনা। যে সাধনা সমাজ ও সংস্কৃতিকে নিরন্তর পুষ্ট করে তোলে। আমাদের বর্তমানের এই ওয়েবসাহিত্যচর্চার দিগন্ত সেই পুষ্টি জোগাতে পারছে কিনা, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এখন কি করে আমরা বুঝতে পারবো, পারছে কি পারছে না। সেটা বুঝতে গেলে আমাদেরকে নিবিষ্ট মনে এই ওয়েবসাহিত্যের গতিপ্রকৃতির ধরণের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। আমাদেরকে দেখতে হবে, আজকের সময়কে এই সাহিত্য যথাযথ ভাবে প্রতিবিম্বিত করতে পারছে কিনা। কাঁটাতারের উভয় পারেই এইসময়ের যুগযন্ত্রণাকে এই সময়ের আশা আকাঙ্খাকে এই সময়ের সমৃদ্ধি ও ব্যর্থতাকে কি ঠিক মতো প্রতিফলিত করতে পারছি আমরা? আমরা যারা এই ওয়েবসাহিত্যচর্চায় নিজেদেরকে ব্যস্ত রেখেছি?

 

না বোধহয়। দুইবাংলার ওয়েবসাহিত্যের জানলা খুলে যদি ঠিকমতো নজর দিই, মনে হয় না এইমুহুর্তে আশাব্যাঞ্জক বিশেষ উজ্জ্বল কোন আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে। আমাদের এই ওয়েবসাহিত্য মূলত ব্যক্তিগত শখ মেটানোর মাধ্যম হয়েই আটকিয়ে পড়ে রয়েছে এখনো। তার অন্যতম একটা বড়ো কারণ, আমরা যারা এতকাল নিজের দিনলিপির পাতায় আপন সাহিত্যকীর্তিকে ধারণ করতেই অভ্যস্থ ছিলাম। কোনদিন ছাপার অক্ষরে পাঁচজনের চোখের সামনে তুলে ধরার কথা কল্পনাও করতে পারতাম না। তারাই মূলত এই ওয়েবসাহিত্যকে ধরে রেখেছি আজ। যেটিকে নেহাৎ শখের বেশি কিছু বলা কঠিন। এবং সোশ্যালসাইটের বন্ধুবৃত্তের মাঝে আত্মপরিচিতি তুলে ধরার আকাঙ্খার ভিতর দিয়েই আমাদের এই শখের সন্তুষ্টি মাত্র। বৃহত্তর জীবন জিজ্ঞাসার পিছনে আমরা কেউই প্রায় দৌড়াচ্ছি না। দৌড়াচ্ছও বরং এক আত্মনির্মাণে। যেখানে লেখালেখি করার একটি সামাজিক স্বীকৃতি জোটানো যায় মাত্র। তার বেশি কিছু করার মতো মূলধন কি সত্যই আমারা অর্জন করেছি? করতে পেরেছি? সেটাই অনেক বড়ো প্রশ্ন আজকে। আমাদের সামনে। জানি না আমরা সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কিনা?

 

 

শর্মিষ্ঠা ঘোষ

 আইসোলেশান


ধর যদি প্রচন্ড রাগে হতাশায় হাসির ইমো দি

ধর যদি যাবতীয় আস্ফালনে হেসে উঠি আকাশ ফাটিয়ে

ধর যদি হাসতে হাসতেই পেছন থেকে সরিয়ে নি নিশ্চিত চেয়ার

আর দরজার দিকে মুখ করে জাস্ট একটা ব্যানানা কিক

যেমন দেখতাম পেলের ভিডিও রিপ্লে

চুনী পিকে মান্নার মিঠ কাঁপানো গোলে

যদি রেফারির হাত থেকে লাল হলুদ কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে

নিজেইবাঁশি বাজিয়ে দি খেলাশেষের

তারপর ফাঁকা গ্যালারিতে বসিয়ে দি তোমায়

হঠাৎ আবিষ্কার করবে সেই সব দাপানোর দিন সাঙ্গোপাঙ্গ নেই কেউ ঘিরে

নিজেই নিজেকে হাততালি দিতেদিতে জার্সি প্রেমে মগ্ন দেখবে

খসে গেছে ফরোয়ার্ড মাঝমাঠ গোলি

আর দুঃস্বপ্ন হয়ে লম্বা লম্বা বাত তোমায় ঘিরে নাচছে

আইসোলেশানে নিয়ে ফেলছে করোনার ও বেশি