সপ্তম বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা ৩০ অক্টোবর ২০১৭

এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা । লিখেছেন - শ্রীশুভ্র, জয়াশিস ঘোষ, নন্দিনী সেনগুপ্ত, অনিমেষ সিংহ, বিদিশা সরকার, হরপ্রসাদ রায়, প্রণব বসুরায়, কাজরী বসু, অদিতি শিমুল, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা দাস, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, জাহাঙ্গির আজাদ, মিলি মুখার্জী, পিনাকী দত্তগুপ্ত, হিরন্য হারুন, মৌ দাশগুপ্ত, তুলসীদাস ভট্টাচার্য, অরুণ সেনগুপ্ত,  শ্রী সেনগুপ্ত, দেবলীনা দে, চিত্তরঞ্জন দেবনাথ, করন দেবরায়, শ্যামল দত্ত, পল্লবী শিট, পল্লবী দাস ও বিভাবসু দে ।

        সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন

শ্রীশুভ্র



এক গুচ্ছ

 শেষ দিন
 কিংবা ধরা যাক এই সেইদিন
       দিনের শেষ ট্রেন চলে গেলে
       আলো অন্ধকার প্ল্যাটফর্মে
               আমি একা
               এবং ছন্দপতন


বাসর

মানুষের মতো অসুখ যাদের
        আমিও তাদেরই মতো
        প্রেয়সীর আঁচল ভেবে
                রাত্রি জেগেছি রাত্রিদিন
                ওদিকে হয়তো তুমিও বা


শপথ

নেওয়ার দিন এলে দেখেছি
         আমিও তোমারই মতোন
         বিশ্বাসের দানা ছড়িয়ে
                  ডেকেছি কবুতর
                  বাকিটা ইতিহাস


আলিঙ্গন
ছোঁয়াচে রোগের মতোন
       আসক্তির ভাইরাস নিয়ে
       আমিও টেনেছি তোমায়
                  বিকলাঙ্গ চুম্বনের
                  গোপনাঙ্গ ক্ষতে




প্রেম

সর্ষের মধ্যে ভুতের মতোন
        পরস্পর হৃদয়ের চৌকাঠে
        উঁকি ঝুঁকির দিন
                    ভালোবাসার অ আ ক খ
                    স্লেট পেনসিল


জয়াশিস ঘোষ



আবাদ 

অকালবর্ষণে ঘর ভেসে যায়। স্বামীটির ভরসা প্রবল
মেয়েটি জোগাড় করেছে খড়কুটো কপালে বেঁধেছে ঘোলা জল
ঘুম ভেঙে উড়ে গেছে পাখি, পাখিটির ডানা থেকে ঘুম
যারা তাকে নিতে এসেছিল মাড়িয়ে ধানের মরশুম
তারা জানে সোনালী শরীর। কোমর ভাসিয়ে দেওয়া বান
স্বামী তার ঘর ছেড়ে যায়। সন্ধেয় নিভে আসে ধান
সারাদিন বৃষ্টি পড়েছে। মেয়েটি খুঁজেছে প্রবল
যারা যায় ধান নিয়ে যায়। পায়ে রেখে যায় ঘোলা জল...

নন্দিনী সেনগুপ্ত



সমুদ্রস্নান

পাত্র ভ'রে উপচে যাচ্ছে খুচরো জীবন।
ছড়িয়ে দিয়ে বৃক্ষ হবে?
আড়াআড়ি ফেটে গিয়ে অঙ্কুরিত অহরহ!
কখন কাকে ভিক্ষে দিলে খোলামকুচি;
কাকে আবার সঙ্গী ভেবেই সাথে রহো।

বিকিয়ে যাচ্ছে খুচরো কথা তামাম জীবন।
বিকিয়ে যাচ্ছে বন্ধুকথা,
মুহূর্ত-ঢেউ দেয় মুছে দেয় কবিতাগান।   
নিরাশ দিনে জমেছে মেঘ খুচরো ব্যথার।
হে ভগবান, খুচরো কৃপাই বিলিয়ে যান! 

কোথায় তুমি ছড়িয়ে দিলে খুচরো জীবন?
বীজের মত না ছড়ালে-
বৃষ্টিবিহীন দিনে বোঝার বাড়ছে ওজন।
খুচরো জীবন টুকরো তুমি কুড়িয়ে নেবে?
ঝোলা ভরার ঝিনুক-নুড়ি কোথায় খোঁজো?


ঢেউ এসেছে, ছড়িয়ে দিও দুঃখবিষাদ।
নইলে এরাও গাছ হবে যে,
স্নান সেরে নাও, যা-ইচ্ছে-তাই সবাই কিনুক।
বালির নিচে গোপনকথার খুচরো জমে।
রেখে দিলাম তোমার জন্য একটা ঝিনুক।   

অনিমেষ সিংহ



বাঁশি

জন্ম থেকে একটি গুলঞ্চ গাছ আছে হৃৎপিন্ডে।
অথবা যেকোনো সপুষ্পক উদ্ভিদ।

আমাকে হৃদয়হীন বলে উড়ে গেল সে।
আমার সারাটা দিন যাবে এই ভাবনাতে।

সে, অর্থাৎ সেই সত্যভামা,
যে ঘোড়ার ওপর বসে আমার দিকে
ছুঁড়ে দেয় যুদ্ধের সমস্ত কৌশল।

তোমার অভিযোগ নিয়ে সারাটা দিন যাবে,
তোমার জন্যে খাদ্যও বিষ,
চুমুও ক্যাকটাস।

অন্য কারো ঠোঁটে ঠোঁট রাখা যাবে না কিছুতে।

তোমার অতিদীর্ঘ্য নিশ্বাসে আজ সারাদিন,
নম্র ঝড় থাকবে চারপাশে আমার,আমাকে ঘিরে পাক খাবে অতি বেগুনী সূর্যালোক। অষ্টপ্রহর।

আমি বন্ধ রাখব কপাট।নিমগ্ন আঁধারে
তোমারই মুর্তি গড়ার কাজ শুরু করেছি,
বাঁশের কাঠামো দিয়ে ঘেরা একটি পাহাড়ি নদী।
নদী ঘিরে আছে পাখ-পাখালি,
ঠোঁটে খড়কুটো নিয়ে তারা বাসা বুনছে কী অনাবিল যত্নে !
খড়ের উপরে পলিমাটি,
তার উপরে অসংখ্য প্রেমবিন্দু।

আমি কী তোমাকে ভালোবাসি ?
তীব্রভাবে ভালোবাসি ?

আজ সারাদিন যাবে এই ভাবনাতে।