৮ম বর্ষ ১০ম সংখ্যা ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮ ।। ১২ই পৌষ ১৪২৫


এই সংখ্যায় ২৮টি কবিতা । লিখেছেন ঃ পল্লববরণ পাল, পিয়াল রায়, অরুণিমা চৌধুরী, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সমরেন্দ্র বিশ্বাস, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, সিকতা কাজল, মৌ মধুবন্তী, কেকা সেন, সুমিত্রা পাল, নাসির ওয়াদেন, সুতপা সরকার, চৈতালী রায়, বচন নকরেক, গৌতম কুমার গুপ্ত, কোয়েলী ঘোষ, মালবিকা হাজরা, শঙ্কর ঘোষ, আহমেদ কায়েস, সুপর্ণা বোস, ঈশিকা ভট্টাচার্য, উজান উপাধ্যায়, শুভাশিস দাস, সৌরভ বর্ধন ও তাপসী লাহা ।


  সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন

পল্লববরন পাল


আসছি

যতোগুলো রাস্তা আছে মানচিত্রে
উত্তর থেকে দক্ষিণে
ধাপা পুব থেকে পশ্চিমের নদীসেতু
রাজপথ থেকে এঁদোগলি
আলোকোন্মুক্ত ও গোপন
প্রত্যেকটি রাস্তা বেয়ে যুগপৎ প্রবেশ করবো
তোমার শরীরে, প্রিয় কলকাতা
তারপর ঝাঁপিয়ে পড়বো
অত্যাধুনিক অস্ত্রাদি সমেত
প্রকাণ্ড এক বিস্ফোরক আদর হয়ে

তোমার সব অপেক্ষা ও অভিমান
প্রত্নতাত্ত্বিক শিলালিপির দুর্বোধ্যতা গুঁড়িয়ে
রোমকূপে-কূপে শঙ্খ আর পঞ্চপ্রদীপ জ্বালিয়ে
শুরু হবে বোধন উৎসব

লক্ষ্মী যখন আসবে, তখন কোথায় তারে দিবি রে ঠাঁই
পথ দুটি নাই, পথ দুটি নাই, পথ দুটি নাই


সপ্তাশ্ব ভৌমিক

সীমানা

ধান তোকে এনে দেবে মান
গান বুঝি ফসলের দান
চোখ তোর সব দিকে হোক
লোক যত ভুলে থাক শোক

ফসল সফল হলে খল
ছল করে ঢেলে দেবে জল
পাত থেকে কেড়ে নিতে ভাত
দাঁত চিপে থাকে সারারাত

তোর কাজ রাত থেকে ভোর
শোর ভুলে দিয়ে সব জোর
চুপচাপ বিছানায় ছাপ
পাপ নেই, নেই অনুতাপ।


জয়ব্রত বিশ্বাস

অমৃতকুম্ভ

টানটান ফিতে ধরি দু'হাত বাড়িয়ে
পরিধির শেষ বিন্দু ছুঁয়ে নিতে বুক ঠেকে যায়
নাক চোয়ালের বাধা ঠেকাতে ঘাড় ঘোরাই
কান ঠেকিয়ে দিই ভরাট পরিতলে

যতবার হাত পাতি পিপাসায়
কলসি কাত করলেই অমৃত ধারা --
ঠিক কতটা জল ধরে কলসিতে
উচ্চতা চাই পরিধি চাই বক্রতার ধারণা চাই

টানটান ফিতে ধরি দু'হাত বাড়িয়ে
কান ঠেকলেই পেলবতা মেখে নিতে চাই কপোল
টানটান হাতের মধ্যমা আর কিছুতেই এগোয় না
তখনও অবাধ থেকে যায় কলসির গা

অমেয় স্পর্শে শামুকের খোল থেকে
নিঃশব্দে বেরিয়ে আসে পিয়াসী জিভ ।

পিয়াল রায়

জাগরণ

নিচু রাস্তায় কখনো হাঁটব না
এ কথা ভাবতেই
সমুদ্র খুলে গেল সামনে

তার সহস্র বাহু
অনন্ত নীল চোখ
খোলা আকাশের গায়ে গড়িয়ে দিল
সমাহিত নির্ভয়
টেনে নিল নতুন জন্মের দিকে

কবর থেকে উঠে এসে দেখলাম

চারপাশের মহত্তম সভায়
বক্তৃতা দিচ্ছে বোবা মানুষের দল

আর একটু দূরে ছিপ ফেলে বসে আছে

সর্বনেশে ভাঙাচোরা শকুন

খোঁড়া হাততালি তুলে নেবে বলে

) ছলনা
পিয়াল রায়

ঠিক এভাবেই
হ্যাঁ, ঠিক এভাবেই উপুড় করেছিলে
গরলভান্ড
যেভাবে ঊষাকাল উপুড় করে
আলোককণা

যেভাবে মেদিনী
ঊষাকাল পান করে
তীর্থক্ষেত্র হয়ে ওঠে পান্হজনের
সেভাবেই গ্রহণ করেছি
তোমার প্রেম
তোমার নিঃস্ব মন্হরতা

এর বেশি তোমার কাছে কিছু নেই
এই কুটিল ছলনাটুকু ছাড়া
তোমার দুনিয়া খানাখন্দে ভরা এক
শুকনো মরুভূমি

যেখানে এখন
পুঁটুলিসমেত আর্তনাদগুলিকে
সান্ত্বনা দেওয়া ছাড়া
তোমার আর কিছু করার নেই

অরুণিমা চৌধুরী

ধ্বংস বৃত্তান্ত  

বারান্দা ছাড়াই কেটে গেলো চল্লিশটা বছর
একটা  বারান্দার জন্য  এমন ক্ষতি হল
   
অবিন্যস্ত পড়ে রইল কপাল
দরজাকপাট জুড়ে ঝড়  ! 
এমন রাজকার্য অশুদ্ধ হল 
আমূল বদলে গেলো 
উঠোনের ছক    
তুমি জানো না অবিনাশ
দম বন্ধ লাগে যেন সামান্য  রোদও খুন হয়ে যাচ্ছে
খুব ধীরে  খুব ধীরে এলোচুলে গিঁট,
হাড়ে কালি  পড়ে গেলো  .. 
ভালবাসাহীন চল্লিশটা সকাল ম্রিয়মাণ 
যেন  বীভৎস ড্যাম্পের হাতে
লেখা হয়ে গেছে খুনি ষড়যন্ত্র ।



দেবাশিস মুখোপাধ্যায়

অনুভব

চোখের দূরত্ব থেকে মেপে নিচ্ছি
তোমার পুকুর
সব ডুব অবগাহন দিতে পারে না
কবিতা লেখার পর চলে গেছে পাখি
তার ঠোঁটে আবহমান সুর আকাশ পায়
আর সে গাছের ডাল নন্দিত হয়ে ওঠে নীড়জন্ম ধরে
তবুও এসব অধরা অস্থির সময়ের যাপনে
এই যে নীরবতার মাঝে বসে আছি
তা অর্থকে অতিক্রম করে শান্তির
পথে
একটি পৃথিবী রচনায় ব্যস্ত
সেই ধরিত্রীকে ধরি আর দেখি অন্ধরেখা অতিক্রম করে জ্বলে উঠেছে বিবিধ তারা আলোকের
অপূর্ব ঝরোকায়


সমরেন্দ্র বিশ্বাস

গ্যাব্রিয়েল

গ্যাব্রিয়েল!গ্যাব্রিয়েল!
কে এই গ্যাব্রিয়েল?
সে কি খ্রীষ্টান, ইসলাম, না কি হিন্দু?
গ্যাব্রিয়েল ?গ্যাব্রিয়েল?
সে কি কালো না সাদা, মোটা না পাতলা, বেঁটে না লম্বা ?
সে কি খেটে খাওয়া মানুষ, না কি পায়ের উপর পা তুলে দেয়া বাটপার?
ডিউটিতে ফাঁকি, পাম্প-হাউজ, চোখে ওষুধ ঢেলে ঘুমিয়ে পড়েছিল গ্যাব্রিয়েল,
চৌরঙ্গী স্কোয়ারে পুলিশের লাঠি যে খেয়েছে সে গ্যাব্রিয়েল,
রুখাসুখা ফসলের ক্ষেত নিমগাছে ফাঁস দিতে যাকে ডাকে সেও গ্যাব্রিয়েল,
যে দেবদূত, যে নর্মদা বাঁধ ও মেধা পাটেকর, যে গ্লোবাল ওয়ার্মিং কিংবা হটকারী-
তারাই কি গ্যাব্রিয়েল?
গ্যাব্রিয়েল তুমি কে?
এই প্রশ্নের উত্তরে হা হা করে হেসে উঠছে সময়, উড়ে যাচ্ছে শুকনো পাতা
ঝিমধরা লাট্টুর মতো দূরে সরে যাচ্ছে মহাবিশ্ব, রাতের অন্ধকার থমকানো।
কালের অন্ধকার গহ্বর চিড়ে উঠে আসছে লাশ ও শব্দ
গ্যাব্রিয়েল এই পৃথিবী, গ্যাব্রিয়েল সমস্ত রাস্তাঘাট, অনু-পরমানু ;
গ্যাব্রিয়েল অনেক দিন ধরে ছিলো, আছে, গ্যাব্রিয়েল চিরদিন বেঁচে থাকবে!

মহাবিশ্বে আলোর ফুটকি আর সীমাহীন অন্ধকার।
সেই কবে থেকে হাজার বছর পেরিয়ে গেলো,
আমি এখনও এখানে ওখানে খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি- ,
মানুষ,  - আমি আজও গ্যাব্রিয়েলকে চিনি না !


শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

পরিবর্তন

পৃথিবীটা বদলে চলেছে
রূপ,রঙ,ভাললাগা,সব বদলায়
এমন কি ভালবাসা,তাও মুছে যায় ।
চিরস্থায়ী শব্দটা যে কতটা অসার,কত বড় ভুল
সে কথাটা বুঝেছে মানুষ ।
অকস্মাৎ বজ্রপাত যার মন দগ্ধ করে গেছে,
সে সেটা বুঝেছে
জয়ের শিরোপা যার,
সম্ভবত সেও সেটা বুঝতে পেরেছে !

পৃথিবীটা বদলে চলেছে
আমার সহজ পথে নিত্যদিন স্বপ্ন আনাগোনা
তোমার জীবনচর্যা অহরহ বেসাতি কল্পনা ।
চিরদিন কোনোকিছু ধরে রাখা যায় না কখনও
আমরা বুঝেছি সেই কথা ।
অকস্মাৎ বজ্রপাত যার মন দগ্ধ করে গেছে
সে সেটা বুঝেছে
জয়ের শিরোপা যার,
সম্ভবত সেও সেটা বুঝতে পেরেছে ।

পৃথিবীটা বদলে চলেছে
তুমিও বদলে যাও সে নিয়মে ছন্দে ও সুরে
আমারও বদল হয় কুয়াশায়, শ্রাবণে, রোদ্দুরে ।
তারপর একদিন অন্ধকার অচেনায় লীন
বুঝেনিতে হয় এই কথা ।
অকস্মাৎ বজ্রপাত যার মন দগ্ধ করে গেছে
সে সেটা বুঝেছে
জয়ের শিরোপা যার,
সম্ভবত সেও সেটা বুঝতে পেরেছে ।

জয়দীপ চক্রবর্তী

তারা হয়ে যাওয়া বোনকে

আমরা পিঠোপিঠি ভাইবোন
দে ছুট,ছুটি-ছুটি মন
এক আয়নায় আমাদের দুটিমুখ
চক্রাকার সুখ ও অসুখ

সজল ঝিঙে ফুলের মতো শৈশব
আমি আর বোন - একই স্কুলঘর
আমাদের রান্নাবাটি,শালিখ দর্শক
বিন্দু বিন্দু অমল সংসার - সহজ
#
আমার সে,একটাই ছোট্ট বোন
ধুলোমাখা শৈশব,স্বপ্নিল ঘরদোর
সারাটা বেলা দৃশ্যতার আহারণ
আকাশ ভেজা নদী,নদী মন

মন চুইয়ে দৃশ্যতা ছুঁয়ে শীতের সঙ্গীত
বিষাদ চর্চিত পাখিদের ফেরারি ভীড়
চোখের পলকে তারাদের দিনের গভীর
মন মানে না অতর্কিতে গতির চির ধীর
#
কোথাকার গান কোথায় সত্য
অর্জন জানিস শ্লোকে পূর্ণ
হাহুতাশ কান্নার অমোঘ উপকথা
তোরই অসমাপ্তে আমার সমতা

সমতা এখানে একটি বৃন্ত
আমরা তারই কুসুমে আলোর সিন্ধু
ছিম ডগায় খোলে পোস্ত বাটা
চিরদিনের ভাইবোন আমরা
                 সেদিনের লেপ-কাথা

তোর অকাল আকাশ ছোঁয়া
কবেকার অজানা অভিমান গাঁথা
পিছুটানে পিছু নেওয়া মানিনা
যতদূর তোর আলো - তমসা জানিনা।

আমার একাকী জলাশয়ের অশ্রুজল
কী ভীষণ আগুন - আগুন সম্বল
বেদনা তো বোন,তোরই মতো
ভিতরবাড়ি গাই চিতার ব্রত!

অকাল গনগনে জানি অস্থি কলস
জীবিত জীবনের আলেয়া রোহিত শোক
আমার শোকের আয়ু হাজার বছর
এই অবেলাতে কোথায় বাঁধলি তার তোর?

তোর তারে,তারে মন তড়িতাহত
কোথাও কেউ জানে না অন্তরতর
বিষাদ এখানে ঘরে ফেরা পাখি
তুমুল কান্নার সংবেদ - কোথায় চুপ রাখি?

চুপ রাখি,চুপ রাখি - রজনীগন্ধায়
কদিন হলো তুই নেই - দুঃসহ দিন যায়!!
এখানে আলোঅন্ধকার কান্নার অধিক।
তোর কপালে প্রতিদিন পরাবো টিপ ...

এই শুশ্রূষা রোহিত আত্মজীবনী
অতর্কিতে নামে পরিতাপের কাহিনি
বন্ধনের থেকে ভিন্ন শব্দ ভালোবাসিনি
হেমন্তর ধুলো মাখে আশ্চর্য অন্তর্যামী!

অন্তর্যামী আসলে বোকাকথা,শব্দের রূপ
আর কখনও হতে পারবে সে অরূপ ?
তন্নতন্ন মনে ক্ষরণের জবা স্রোত
কোথায় কোনখানে আশ্চর্য অদৃষ্ট দোষ?

এই অসময়ের ঘুম,ধ্রুবতারা তুই
জেগে থাক,জেগে থাক বাবুই
আমারও মুষল,তোর ফেলা কাজ।
দৃশ্যতায় লিখলাম নক্ষত্রের সমাজ...


সিকতা কাজল

বোধ

ছুঁলেইতো বেশ! শরীর নিজেই এক স্পর্শবিদ্যা।
হুমম। অথচ- তোমাকে ছুঁতে চাইলেই পৃথিবী গর্জে ওঠে।
উঠুক না। ঝুম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সিক্তবসনা এক মানবী হয়ে উঠলাম।
দারুণভাবে মিশে থাকলাম তোমার নিঃশ্বাসের জাগ্রত ভিসুভিয়াসে।
তোমার বুকের পাটাতনে;
ঘাসের চাদরে অনুভূতির লাভা উদগীরন হতে থাকে।
সেই উদগীরন আমায় ভাসাতে থাকে মহাশূন্যে...,
ঐ দেখো কত মেঘ।
আমার ইচ্ছের পাখাগুলো মেলে দিয়ে অদ্ভুত ভালোলাগায় মোহনীয়তা আনছে।
তোমার চোখের কার্ণিয়ায় ভেসে ওঠে একটি উদোম,
আদিম; শৈল্পিক হৃদয়।
যা অনবরত তোমাকে ডুবিয়ে দেয় মহাসমুদ্রে, সভ্যতার পাদপিঠে।
অবশেষে তুমি আর মহাকাল পড়ে থাকে নিঃশ্বাসের সীমাহীন শুদ্ধতায়।



মৌ মধুবন্তী

ময়ুরকন্ঠী বেদরূপসী

কে লিখেছে প্রাচীন ভারত
তত্তবজ্ঞানের গ্রন্থকলি
আমি বলি,নারী! তুই কেনো এমন করে নারী হলি?
ধর্মপ্রাচীন,গ্রন্থপ্রাচীন
তবে ঈশ্বর কেন মুক,ভাষাহীন,নৈর্ব্যক্তিক আর বেদের বেলে মাটির বাঁটে দক্ষিণাঞ্চল অর্বাচীন?
নারীর বোঁটা
ফোঁটা ফোঁটা
সংহিতা আর আরণ্যকে
তুমুল জয়ী
যোগ্যা ভোগ্যা সবাই তো দেয় ভাইয়ের ফোঁটা
সব ধর্মেই নারী হলো
গভীর খাতে উপত্যকা,পাহাড় তলে পাদটীকা।
গভীর ধ্যানে পুরুষ বসে
মাটির রসে নারীর রসে
সিক্ত হতে বাসন মাজে
মেজে ঘষে শক্ত হলে
ধ্যান প্রকাশে শাস্ত্র বলে
রক্ষাকবচ,মহাভারত অংগে ধরে ব্রহ্মাকে সে
স্রষ্টা বলে,
দিগ্বিদিক জ্ঞান হারালে
লোকে তাকে ঋষি বলে
মান্য করে গণ্য করে
নারী হলে,তখন তাকে গণিকা আর বেশ্যা বলে
অবজ্ঞা আর অবহেলার ডাল ছুড়ে দেয়।
উপনিষদ যজ্ঞ কাজে
হোক না নারী আজেবাজে
তবুও তারে
পুজার নামে
ভোগের কামে
সাজাও তাকে
      করাল সাজে।
নিত্য নতুন ফ্যাশান ডিজাইন বলিদানে
ব্রা,প্যান্টি,লিংগারী আর জী স্ট্রীং এর পন্য শপে সাজাও তাকে
জ্যান্ত কিংবা ম্যানিকেনে।
আস্তিক বলো
নাস্তিক বলো
জুম চাষাদের স্তরের বলো
শ্রেণীভাগের ধারায় বলো
রাতের আগেই জাতের প্রাতে মংগলগ্রহের বসত ভেদে বেদবাক্য পড়ে পড়ে পাঠিয়ে দাও পাঁঠার ঘরে বলি দিতে।
উর্ধে কমল প্রস্ফুটিত
নিম্নে কেন এমন করে ফুলের পাপেট অর্থকরী
লুটিয়ে পড়ে রাতের কালে সংজ্ঞাহারা জলাশয়ে।
নারী তুই কেমন করে নারী হলি?

কেকা সেন

মায়াময়ী  

আমি ভিজতে চাই,ভিজতে চাই
ওই আটপৌরে, আজন্ম নদীর ধারে
পরিচিত বৃষ্টির ভিতর। টুপটাপ ঝ'রে পড়া
সহজ বিন্দুর মত মিশতে চাই অতল গভীরে।
যেখানে নেই কোন রক্তাক্ত শিকারি বলয়
কিংবা কোন হলুদ-কালো চতুর ছায়া।
আছে শুধু  কাদামাটি লুটোপুটি সবুজ
সরলতা। আলোর বুদবুদ ছোঁয়া সোঁদা প্রেম
খেলা করে  পাঁপড়ি ঘেরা গোলাপি আভায়।
আমি আটপৌরে সেই আজন্ম নদীর পরিচিত
বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে গোলাপি আভায়
স্নাত হয়ে কখন যেন মিশে যাই
মায়াময়ী মাতৃস্নেহতে।